Wolf Warrior Diplomacy কী

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী
Content Protection by DMCA.com

বিসিএস পররাষ্ট্র ভাইভা
Wolf Warrior Diplomacy কী

বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে চীনের যে আগ্রাসী কুটনৈতিক আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাকেই Wolf Warrior Diplomacy বা নেকড়ে যোদ্ধা কুটনীতি বলা হয়।

গোটা বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে চীনের ‘উলফ ওয়ারিয়র’ বা ‘নেকড়ে যোদ্ধা’ কূটনীতির দিকে। পশ্চিমা বিশ্ব চীনের এই নীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করছে।

বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গেই কখনো চীনের খুব-একটা ভাল সম্পর্ক ছিল না। এর মধ্যে গত এক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চীনের ব্যবসা, বিনিয়োগ ও গবেষণায় যে সম্পর্ক ছিল তাতেও পানি ঢেলে দিয়েছে চীনের এই কূটনৈতিক কৌশল।

এ প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের পিটার জেনিংস এক নিবন্ধে বলেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই নীতিকে ভাল মনে করলেও এটি মূলত দেশটির দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত স্বার্থের জন্য বিপর্যয়কর।

বেইজিংয়ের ‘কূটনৈতিক আগ্রাসী আচরণে’ বিশ্ব রাজনীতিতে নাটকীয় সব পরিবর্তন ঘটেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেনের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়াও সম্প্রতি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়েছে। সেইসঙ্গে আরও আগ্রাসীভাবে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলেছে দেশটি।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় চীনের দ্রুত সামরিক বিস্তার থেকে নিজেদের রক্ষায় দেশটি এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

এ বছরের শুরুর দিক অস্ট্রেলিয়া ও চীনের মধ্যে পররাষ্ট্র পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশই জানায়, এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে।

তবে এই বৈঠকের পর আট মাস পার হয়ে গেলেও অস্ট্রেলিয়া ও চীনের সম্পর্কে উন্নতি ঘটেনি। বরং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটেছে।

পিটার জেনিংস তার নিবন্ধে লিখেছেন, চীনের করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) ইস্যু ও ‘নেকড়ে যোদ্ধা কূটনীতি’ অস্ট্রেলিয়ার জন্য এক ধরনের ‘সতর্কবার্তা’।

বেশ কয়েকটি কূটনীতিক লড়াইয়ের জেরে গত কয়েক মাসে চীন-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক একেবারে শূন্যতে এসে ঠেকেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে করোনাভাইরাস বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। করোনার উৎসস্থল কোথায়, তার তদন্ত শুরুর আন্তর্জাতিক দাবিতে ক্যানবেরার জোরালো অবস্থানে ক্ষেপেছে বেইজিং।

এ কারণে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম এ বাণিজ্য অংশীদার অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে শুল্ক বাড়িয়েছে। মাংস থেকে যব প্রায় সব ধরনের অস্ট্রেলীয় পণ্যেই অতিরিক্ত শুল্কারোপ করেছে বেইজিং। এমনকি চীনা ছাত্র ও পর্যটকদের অস্ট্রেলিয়া সফরে নিরুৎসাহিত করছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটি।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার ফাইভ জি কর্মসূচির মাধ্যমে চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের প্রবেশ ঠেকিয়ে দিয়েছে ক্যানবেরা। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সুরক্ষার স্বার্থে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে-অস্ট্রেলিয়া এ দাবি করলেও তাতে ক্ষুব্ধ হয়েছে চীন।

ঠিক এমন পরিস্থিতিতে ‘নেকড়ে যোদ্ধা কূটনীতি’ নিয়ে এগোচ্ছে চীন। ব্যাপারটা মূলত শুরু করেছিলেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ঈ। তিনি তার কনিষ্ঠদের উৎসাহ দিতে এক আসরে নাকি বলেছিলেন, চীনের ওপর পশ্চিমা কূটনৈতিক আক্রমণের বিরুদ্ধে আগ্রাসী জবাব দেওয়ার মতো নিজেদের উপযুক্ত করে তুলতে।

আর সেখানে চীনা নেকড়ে যোদ্ধা সিনেমাটার কথা খেয়াল রেখে তার মতো ‘উলফ ওয়ারিয়ার’ হতে বলেছিলেন। আর সেই থেকে চীনা বা পশ্চিমা কূটনৈতিক মহলে চালু হয়ে যায় নতুন শব্দ ‘উলফ ওয়ারিয়ার’ বা ‘নেকড়ে যোদ্ধা কূটনীতি’।

পিটার জেনিংস তার নিবন্ধে বলেছেন, সংবিধান সংশোধনীর মধ্য দিয়ে চীনে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চীনের পিপলস পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে প্রেসিডেন্টের জন্য নির্ধারিত ২ মেয়াদের অবসান ঘটানোর মধ্য দিয়ে তার আজীবন ক্ষমতায় থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টিতে শি জিনপিংয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মত কেউ নেই।

শি জিনপিংয়ের ‘উলফ ওয়ারিয়ার কূটনীতি’র কারণে দলের বৈশ্বিক সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এই আগ্রাসী কূটনীতি চীনকে বিশ্ব থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছে।

অনেকেই বলছেন, এই নীতির ফলে শি জিনপিং নিজের জন্য বিপদ ডেকে আনছেন। তবে শি জিনপিংয়ের কাছে চীনের অভ্যন্তরে সিসিপির অবস্থানকে শক্তিশালী করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। বেইজিংয়ের ক্রিয়াকলাপে বিশ্ব কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তা নিয়ে তার কোন মাথাব্যথা নেই।

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চীনা কূটনীতিকদের দেওয়া বিভিন্ন বিবৃতিকে নেতিবাচক হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছে। অনেকে বলছেন, চীনা কূটনীতিকরা তাদের জাতীয় স্বার্থকে রক্ষার জন্য কঠিন ও আক্রমণাত্মক পথ বেছে নিচ্ছেন।

সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং আরও কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান কঠোর ও আগ্রাসী সুর নিয়েছে। চীনা কূটনৈতিকদের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, নিজ দেশে বন্ধ থাকলেও চীনা কূটনীতিকরা ক্রমশ টুইটার ও ফেসবুকে বেশ আক্রমণাত্মকভাবে নিজেদের চিন্তাচেতনার প্রকাশ করছেন যা কূটনৈতিক শিষ্টাচার বর্হির্ভূত।

অনেকেই বলছেন, এই নীতির উদ্দেশ্য চীনের জনগণের কাছে চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি) ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ত্রাণকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। একই সঙ্গে সিসিপি যে চীনকে পশ্চিমা গণতন্ত্রের চেয়ে অনেক ভাল কিছু দিতে সক্ষম হয়েছেন সেটা প্রমাণ করা।

বর্তমানে চীনের আগ্রাসী কূটনীতির প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায় বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে। যেখানে বিশ্বের প্রতিটি দেশকেই করোনা রোধে পাশে থেকে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার কথা কিন্তু চীন এক্ষেত্রে বিরূপ অবস্থান প্রদর্শন করছে।

অনেকে মনে করছেন, চীনের এই কূটনীতির একটি বিপরীত নেতিবাচক প্রভাব আছে। চীনের নতুন প্রজন্মের ‘নেকড়ে-যোদ্ধা’ কূটনীতিকরা আগ্রাসী বক্তব্য দিয়ে বেইজিংকে খুশি করতে পারলেও বাস্তবতা হচ্ছে এই-নেকড়ে-যোদ্ধারা বিশ্বজুড়ে এক যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছেন, একে প্রশমিত করতে নয়।

ক্রেডিটঃ Zakir’s BCS specials

নেকড়ে যোদ্ধা কূটনীতি’র কৌশল ছাড়া আরও পড়ুনঃ

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। আমাদের সাইট থেকে কপি হয়না তাই পোস্টটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখতে পারেন।