Focus Writing: Cold War-02 (চীন vs যুক্তরাষ্ট্র)

ফোকাস রাইটিংঃ করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক বিপর্যয় মোকাবিলা
Content Protection by DMCA.com

ফোকাস রাইটিংঃ Cold War-02 (চীন vs যুক্তরাষ্ট্র)। যেকোন ফোকাস রাইটিং এ কালার পেন যেমন সবুজ কালারের কলম দিয়ে পয়েন্ট গুলো দাগিয়ে দিবেন স্যারের নজর ওখানে যাবে, ভালো মার্কস দিবে।

সাম্প্রতিক সময়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ককে বিশ্নেষকরা নয়া স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা বলে অভিহিত করেছেন। এই প্রবণতাকে ‘কোল্ড ওয়ার টু’ আখ্যায়িত করেছেন।

স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা ও পতনঃ
টার্গেট/সূচনা – সোভিয়েত ইউনিয়ন। স্নায়ুযুদ্ধের জন্ম হয় ইউরোপে প্রভাববলয় বিস্তারকে কেন্দ্র করে। পতন – ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙ্গন ও সমাজতন্ত্রের অবসান হওয়ার মাধ্যমে। মূলত সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতন্ত্রের প্রসার এবং এই সংশ্লিষ্ট ‘ইন্ধন’ ও ‘প্ররোচনা’কে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্বার্থের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য করে।

[আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের AD পরীক্ষায় করণীয় ও বর্জনীয় ]

স্নায়ুযুদ্ধের ফসলঃ 
বার্লিন ব্লকেড (১৯৪৮-৮৯)
কোরিয়া যুদ্ধ (১৯৫০-৫৩)
সুয়েজ সংকট (১৯৫৬)
বার্লিন সংকট (১৯৬১)
কিউবান মিসাইল সংকট (১৯৬২)।

স্নায়যুদ্ধের ধারণার মূল ভিত্তিঃ ‘কনটেইনমেন্ট পলিসি’
মস্কোতে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিক জর্জ কেনান ১৯৪৬ সালে বিখ্যাত ‘ফরেন অ্যাফেয়ার্স’ ম্যাগাজিনে মি. এস্ট্ক্র নামে বেনামে উপরোক্ত প্রবন্ধটি লেখেন ১৯৪৬ সালে।

যে শিরোনামে প্রকাশিত হয়ঃ ‘‘দ্য সোর্সেস অব সোভিয়েত কন্ডাক্ট’’।

[আরও পড়ুনঃ Bangladesh Bank AD (General): স্বল্প সময়ে প্রস্তুতি ]

বিষয়বস্তুঃ ‘যেহেতু সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিনি স্বার্থকে আঘাত করছে, সেহেতু সোভিয়েত ইউনিয়নকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলতে হবে’- অর্থাৎ সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা (কূটনৈতিক, সামরিক, জোট) গ্রহণ করে দেশটির ক্ষমতা খর্ব করতে হবে। মার্কিন নীতিনির্ধারকরা এই পলিসিটি গ্রহণ করে এবং যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

স্নায়ুযুদ্ধ-২ঃ 
চীনকে কেন্দ্র করে এখন স্নায়ুযুদ্ধ-২ এর সূচনা হতে যাচ্ছে। ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরকে কেন্দ্র করে স্নায়ুযুদ্ধ-২ এর প্রভাববলয় তৈরি হচ্ছে ।

স্নায়ুযুদ্ধ-২ সৃষ্টির প্রেক্ষাপটঃ
বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টনুযায়ী, চীন ২০৩০ সালের মধ্যে অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে। ২০৩০ সালে চীনের জিডিপি হবে ২২.১ ট্রিলিয়ন ডলার ও যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি হবে ২৪.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। পিপিপিতে চীন হবে প্রথম। – চীনের ‘শক্তি’ হিসেবে এই আবির্ভাব মার্কিনি স্বার্থকে চ্যালেঞ্জ করছে।

উদীয়মান চীন সমগ্র বিশ্বে যেভাবে নিজেকে জানান দিচ্ছেঃ 
১. ”One Belt One Road” পরিকল্পনায় ৬১টি দেশকে চীনের আওতায় আনা হয়েছে।

২. নতুন এক আফ্রিকার জন্ম দেওয়া: ভারত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তি বৃদ্ধি (জিবুতিতে নৌঘাঁটি), আফ্রিকাতে চীন বিশাল বিনিয়োগ করে। সাবসাহারা আফ্রিকাতে ২৯৯ মিলিয়ন+৬০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে (২০১৮ সালে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ মাত্র ৪৭.৮০ মিলিয়ন ডলার)।

৩. স্ট্র্যাটেজিক্যালি ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে এবং নৌশক্তি হিসেবে চীনের আবির্ভাব হয়েছে।

৪. চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি: ২০১৮ সালে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৪১৯.২ বিলিয়ন ডলার। এই ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করেছে, যা বাণিজ্যযুদ্ধের জন্ম দিয়েছে
৫. চীনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের পরিমাণ (২০১৮) ১.১৩ ট্রিলিয়ন ডলার।

স্নায়ুযুদ্ধ-২ এর আভাসসমূহঃ 
১. চীনা কনস্যুলেট অফিস বন্ধ: যুক্তরাষ্ট্র হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট অফিস ‘গোয়েন্দা কার্যক্রমে’ জড়িত থাকার অভিযোগে বন্ধ করে দিয়েছে। চীন পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে চীনের চেংডুতে মার্কিন কনস্যুলেট অফিস বন্ধ করে দেয়। সম্প্রতি চীন ওয়াশিংটনে তাদের দূতাবাসে বোমা হামলার অভিযোগ আনে।

২. হুংকার: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও চীনা জনগণকে ক্ষমতাসীন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান এবং চীনা জনগণের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

৩. মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগ: যুক্তরাষ্ট্রে চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মেধাস্বত্ব চুরি করার অভিযোগ আনে এবং ওইসব কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার প্রস্তাব করা হয় মার্কিন আইনসভা কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে। বিল বিল উপস্থাপন করেন সিনেটর জিম রিম ও সিনেটর করি গার্ডনার।

৪. প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্চে ‘তাইপে অ্যাক্টে’ স্বাক্ষর করে। চীন এই সিদ্ধান্তকে কোনো দিন ভালো চোখে নেবে না। তাইওয়ানকে চীন বৃহত্তর চীনের অংশ বলেই মনে করে।
আইনের বিষয়বস্তুঃ তাইওয়ানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
চীন তাইওয়ানকে বৃহত্তর চীনের অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার না করলেও, ওয়াশিংটন ডিসিতে তাইওয়ানের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রয়েছে। তাইওয়ানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তাইওয়ানের নিরাপত্তার অন্যতম গ্যারান্টার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তাইওয়ানে অত্যাধুনিক অস্ত্র, বিশেষ করে সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান সরবরাহ নিয়ে অতীতে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের যথেষ্ট অবনতি হয়েছিল। বর্তমানে ট্রাম্পের এই ‘তাইপে অ্যাক্ট’ দু’দেশের মাঝে সম্পর্কের নতুন করে অবনতি ঘটাবে।

৫. সামরিক নৌ-মহড়াঃ ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ও উদ্যোগে নৌ সামরিক মহড়া আয়োজন করছে ধারাবাহিকভাবে জাপান, ফিলিপাইন, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতকে নিয়ে। এই নৌ সামরিক মহড়া কার্যত চীনের প্রতি এক ধরনের হুমকি।

৬. চারদেশীয় সামরিক জোটঃ দক্ষিণ চীন সাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনাবলয় রোধ করার জন্যে যুক্তরাষ্ট্র – জাপান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে একটি চারদেশীয় সামরিক জোট গঠন করে ২০০৭ সালে। এই জোটের উদ্যোগে ও ভারতের আগ্রহে জোটের পক্ষ থেকে মাল্লাক্কা প্রণালির অদূরে প্রতিবছরই একটি নৌ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়, যা ‘মালাকার’ নৌ মহড়া নামে পরিচিত।

Δ ট্রাম্পের চীনা কার্ড
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ব্যর্থতায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস এবং ‘ব্ল্যাক লাইফ ম্যাটারস’ আন্দোলন’ ট্রাম্পবিরোধী একটি আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্প নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ‘চীনা কার্ড’ ব্যবহার করতে পারেন। চীনের বিরুদ্ধে এই কঠোর মনোভাব নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা করল। মোদ্দা কথা, ইউরোপে প্রভাববলয় বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্নায়ুযুদ্ধের জন্ম হয়েছিল আর এখন ভারত মহাসাগরে জন্ম হয়েছে দ্বিতীয় স্নায়ুযুদ্ধের।

Δ সঙ্গত কারণেই এশিয়ার দেশগুলো এই ‘প্রভাববলয় বিস্তারের খেলায়’ আক্রান্ত হবে।
Δ ভৌগোলিক এই চক্রে বাংলাদেশও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কৌশলগত দিক থেকে বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরের ট্রানজিট হিসেবে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের দেশগুলোকে নিয়ন্ত্রণের জন্যে। সঙ্গত কারণেই চীন ও ভারতের কাছে বাংলাদেশের এতো গুরুত্ব।

রেফারেন্স সমূহঃ ড. তারেক শামসুর রেহমান স্যারের প্রবন্ধ, আল-জাজিরা, ওয়াশিংটন পোস্ট।

আরও পড়ুনঃ

[All Question Taken By Arts]
[All Question Taken By AUST]
[10th to 40th BCS]

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।