BCS Written পরীক্ষার খুঁটিনাটি

20
BCS Written পরীক্ষার খুঁটিনাটি
Content Protection by DMCA.com

BCS Written পরীক্ষার খুঁটিনাটি
লিখেছেনঃ গাজী মিজানুর রহমান

মনে রাখতে হবে যে, বিসিএস প্রিলি এটা কেবল বিসিএস নিয়োগ পরীক্ষার প্রথম ধাপ। বিসিএস ক্যাডার হতে গেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ রিটেন বলে আমি মনে করি। কারণ এর উপর নির্ভর করেই কিন্তু ক্যাডার, নন-ক্যাডার কিংবা একটি সরকারি জব পাওয়া-না পাওয়া অনেকাংশে নির্ভর করে।

ফেইসবুক গ্রুপে, পেইজে অনেকেই রিকুয়েস্ট করেছেন যেন BCS প্রিলির মতো করে BCS Written এর একটা সাজেশন দেই। যেহেতু আমার BCS প্রিলির সাজেশন ও আমার লিখিত “BCS Preliminary Analysis” বই পড়ে ৪০তম BCS প্রিলিতে অনেকেই ভালো করেছেন কিংবা উপকৃত হয়েছেন।

আজ আমি আমার বাস্তব জীবনের (৩৪তম-৩৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার) অভিজ্ঞতা থেকে কিছু শেয়ার করার চেষ্টা করবো। যেহেতু আমি ৩৪তম বিসিএস যেটা বিসিএসের পুরাতন সিলেবাস ছিল এবং ৩৫তম থেকে ৩৭তম বিসিএস যেগুলো নতুন সিলাবাসের আলোকে হয়েছে এই ৪ টি লিখিত পরীক্ষা দিয়েছি (৩৮তম ও ৪০তম বিসিএস প্রিলিতে টিকলেও রিটেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিনি), আমার দুই ধরনের সিলেবাসে পরীক্ষা দেয়ার ও দুই ধরনের সিলেবাসে পাশ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

এবার আসুন মূল কথায়, অনেকের ধারণা বিসিএস রিটেন অনেক কঠিন; প্রিলিতে কোনো মতে পাশ করা গেলেও রিটেনে সহজে পাশ করা যায় না!

আমি এই ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করি। আমার মতে, প্রিলিতে পাশ করাটা তুলনামূলক কিছুটা কঠিন রিটেনের চেয়ে; আর রিটেনে পাশ করাটা তুলনামূলক সহজ প্রিলি চেয়ে! কারণ, পিএসসি প্রিলিতে পাশ করায় কম, কিন্তু রিটেনে ফেল করায় কম। অর্থাৎ, প্রিলির তুলনায় রিটেন অনেক গুণ বেশি পাশ করে।
আমরা সবাই জানি বিসিএস প্রিলি হয় ২০০ নম্বরের, ভাইভা হয় ২০০ নম্বরের। কিন্তু রিটেন কত নম্বরের হয়?

শুধু জেনারেল ক্যাডার দিলে ৯০০ নম্বরের রিটেন/ আমার শুধু প্রফেশনাল বা টেকনিক্যাল ক্যাডার দিলে ৯০০ নম্বরের রিটেন পরীক্ষা দিতে হয়। কিন্তু বোথ ক্যাডার দিলে ১১০০ নম্বরের রিটেন পরীক্ষা দিতে হয়।

বিষয়গুলো হলো:
*বাংলা -২০০(১ম ও ২য় পত্র)
*ইংরেজি -২০০(১ম ও ২য় পত্র)
*গণিত – ১০০ (সাধারণ গণিত ৫০+ মানসিক দক্ষতা ৫০)
* বাংলাদেশ বিষয়াবলি – ২০০ ( সাধারণ বিষয়াবলি ১৫০+ মুক্তিযুদ্ধ ৫০)
*আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি -১০০
*বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি – ১০০
সাধারণ ক্যাডারদের জন্য এই মোট ৯০০ নাম্বার।

*প্রফেশনাল ক্যাডার/টেকনিক্যাল ক্যাডারদের আরো ২০০ নিজ নিজ সাবজেক্ট এর উপর পরীক্ষা দিতে হয়।
*তবে কেউ যদি বোথ ক্যাডার না দিয়ে শুধু প্রফেশনাল /টেকনিক্যাল ক্যাডার দেয় তাহলে তাকে বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষা দিতে হবে না এবং বিজ্ঞান বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে না।
*আর কেউ যদি বোথ ক্যাডার চয়েজে দেয় তাহলে তাকে মোট ৯০০+২০০= ১১০০ নাম্বারের লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে।
আপনি যদি বোথ ক্যাডার চয়েজে দেন, এর মধ্যে সাবজেক্ট রিলেটেড পরীক্ষায় ফেল করলে শুধু জেনারেল ক্যাডার পাবেন, বোথ ক্যাডার পাবেন না। মানে শুধু জেনারেল ক্যাডারের জন্য ভাইভাতে ডাকবে, বোথ ক্যাডারের জন্য নয়।

*** এখানে উল্লেখ্য যে ২০০ নম্বরের পরীক্ষা অর্থাৎ প্রথম পত্র ও দ্বিতীয় পত্র একসাথে ৪ ঘণ্টা ব্যাপী হয় এবং ১০০ নম্বরের পরীক্ষা ৩ ঘন্টা ব্যাপী হয়।

বিসিএস রিটেন পাশ করতে হলে গড়ে কমপক্ষে ৫০% নম্বর পেতে হবে। তবে জেনারেল ক্যাডারদের জন্য আলাদা বিষয় পাশ করতে হয় না। ৯০০ নাম্বারে সব মিলিয়ে ৪৫০ পেলেই পাশ! আরেকটি বিষয় হলো অনেকে নিজের খারাপ হাতের লেখা নিয়ে চিন্তা করে পরীক্ষার প্রস্তুতি খারাপ করে ফেলে! বিসিএস রিটেনে হাতের লেখা ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়; যিনি আপনার খাতা মূল্যায়ন করবেন, তিনি কেবল আপনার লেখা বোঝতে পারলেই হবে। ছাড়া বর্তমানে ৪ ঘণ্টায় ১ম ও ২য় পত্র পরীক্ষা দিতে হয় একসাথে। আগে যেখানে প্রতি পত্রে ৩ ঘণ্টা করে মোট) (৩+৩) ৬ ঘণ্টা সময় পাওয়া যেত; এখন এতো অল্প সময়ে চাইলেও হাতের লেখা ঠিক রাখা কঠিন!

*রিটেন পাশ করলে ভাইভার জন্য ডাকা হবে আপনাকে। ভাইভাতে ২০০ নাম্বারে ১০০ পেলে মানে ৫০% নাম্বার পেলেই পাশ। তবে, ক্যাডার পেতে হলে রিটেন ও ভাইভায় ভালো করতে হবে। শুধু কোনোমতে রিটেন পাশ করলে নন-ক্যাডার পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে।

এখানে উল্লেখ্য যে, প্রিলিতে কেবল পাশ করলেই হয়। প্রিলির বেশি নাম্বার ক্যাডার পেতে কোনো সাহায্য করে না। অর্থাৎ প্রিলির নাম্বার যোগ হয় না (তবে স্পেশাল বিসিএসে রিটেন না হলে প্রিলির নাম্বার + ভাইভার নাম্বারের উপর ক্যাডার নির্ধারণ হয়)। বিসিএস প্রিলি হলো বিসিএস ক্যাডারের বাছাই পরীক্ষা। মূল পরীক্ষা হলো বিসিএস রিটেন ও ভাইভা! আর বিসিএস প্রিলিতে যে কোনো ধরনের প্রশ্নে ২০০ নাম্বারের মধ্যে ১২০ নাম্বার পেলে সেটা সেইফ নাম্বার তথা বিসিএস রিটেন পরীক্ষার জন্য কোয়ালিফাইড হিসেবে ধরে নেয়া যেতে পারে!

*একটি বিষয় মনে রাখবেন, আপনি যদি কোনোভাবে বিসিএস প্রিলিটা পাশ করতে পারেন তাহলে রিটেন ও ভাইভাতে যদি ভালো নাম্বার পান তাহলে ক্যাডার নিশ্চিত! আর যদি রিটেন ও ভাইভাতে Average নাম্বারও পান তাহলে নন-ক্যাডারের মাধ্যমে সরকারি ফার্স্ট ক্লাস বা সেকেন্ড ক্লাস একটি জব পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি কোনো প্রকার ঘুষ-তদবির ছাড়াই!

তাই এখন আর হেলাফেলা করে বা ফেইসবুক, ইন্টারনেট বেশি ইউজ করে সময় নষ্ট করা যাবে না। কারণ আপনার দিকে তাকিয়ে আছে আপনার মা-বাবা, পরিবার-পরিজন। আরেকটি কথা মনে রাখবেন, এই পৃথিবীতে কেউ কাউকে সুযোগ করে দেয় না, নিজের সুযোগ নিজেকে তৈরি করে নিতে হয় যোগ্যতা ও পরিশ্রম দিয়ে। তাই আপনি ১ ঘণ্টা বেশি পড়া মানে ১ ঘণ্টার পথ এগিয়ে গেলেন সাফল্যের পথে।

এই স্বার্থপর পৃথিবী কখনো ব্যর্থদের পিছনে ঘুরে না কিংবা ব্যর্থদের ইতিহাস লিখে রাখে না। বরং আপনি দেখতে পাবেন- পুরো পৃথিবী ও তার মানুষগুলো কেবল সফলদের পিছনেই ঘুরছে অবিরাম। আর এই পৃথিবী কেবল সফল ব্যক্তিদের ইতিহাসই স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখে; ব্যর্থদের নয়। এখন তাহলে আপনি নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে ঠিক করে নিন, ‘আপনি কি নিজেকে সফলদের কাতারে নিয়ে যেতে যান নাকি ব্যর্থদের?

* ধন্যবাদ সবাইকে।
*সকল পরিশ্রমী, সৎ সাহসীর জন্য শুভ কামনা ও দোয়া রইল।

[N.B: এখানে আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে শেয়ার করলাম। এই বিষয়ে সকলের অভিমত এক নাও হতে পারে; আবার কারো কারো কাছে লেখাটি অপ্রয়োজনীয়ও মনে হতে পারে। প্লিজ, আপনারা নিজ দায়িত্বে লেখাটি এড়িয়ে যাবেন!]

Gazi Mizanur Rahman
***৩৫তম বিসিএস ক্যাডার
****সাবেক সিনিয়র অফিসার
(পূবালী ব্যাংক লিমিটেড)
***সাবেক সহকারী শিক্ষক, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়
(৩৪তম BCS নন-ক্যাডার)
*** ১০ শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ)
***প্রতিষ্ঠাতা: BCS টেকনিক
(BCS স্পেশাল প্রাইভেট প্রোগ্রাম)
©লেখক: BCS Preliminary Analysis
(বাংলাদেশের প্রথম সাজেশনভিত্তিক বিসিএস প্রিলির পূর্ণাঙ্গ বই)
© প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ Analysis (বাংলাদেশের প্রথম সাজেশনভিত্তিক প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ বই)

BCS Written পরীক্ষার খুঁটিনাটি ছাড়া আরোও পড়ুন-

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।