Arab-Isreal Normalization and The Iron Wall Trap!

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী
Content Protection by DMCA.com

বিসিএস লিখিত + ভাইভা
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী
Arab-Isreal Normalization and The Iron Wall Trap!

সম্প্রতি প্রথমবারের মতো আরব রাষ্ট্র মরক্কোতে ইসরায়েল তার কূটনীতিক ভবন উদ্ভোদন করলো [সূত্র-The Times of Isreal]। কেন দীর্ঘদিন ধরে শত্রু হয়ে থাকা এই আরব রাষ্ট্রগুলো এখন ইজরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করছে? কেন মুসলিম রাষ্ট্রগুলো এখন ইজরায়েলকে একটা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবেই স্বীকৃতি দিচ্ছে?

এর পিছনে ভূরাজনৈতিক কারনগুলা কি হতে পারে? এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের যেসকল দেশের প্রধান ধর্ম ইসলাম এবং প্রধান ভাষা আরবি, সেসকল দেশগুলোকে একসাথে বলা হয় ‘Arab World’ বা আরব বিশ্ব। অর্থাৎ আরব বিশ্বের অন্তর্ভুক্ত হতে হলে একটা দেশকে দুইটা শর্ত ফিলআপ করতে হয়।

এক- দেশটির প্রধান ধর্ম হতে হবে ইসলাম। দুই- দেশটির প্রধান ভাষা হতে হবে আরবি। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত হলেও ইরান, ইসরাইল ও তুরস্ক এই তিনটা দেশ আরব বিশ্বের অন্তর্ভুক্ত নয় অর্থাৎ এই তিনটা দেশ আরব দেশ নয়। কারণ ইরানের ভাষা ফার্সি, ইসরায়েলের ভাষা হিব্রু এবং তুরস্কের ভাষা তুর্কি।

প্রধান ভাষা আরবি এবং প্রধান ধর্ম ইসলাম হিসেবে মোট ২২ দেশ আরব বিশ্বের অন্তর্ভুক্ত। এই দেশগুলো হচ্ছে আলজেরিয়া, বাহরাইন,কোমোরোস, জিবুতি, মিশর, ইরাক, জর্দান, কুয়েত, লেবানন, লিবিয়া, মৌরিতানিয়া, মরক্কো,ওমান, ফিলিস্তিন, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তিউনিসিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন, সিরিয়া।

এই আরব দেশগুলাে নিয়ে একটি সংগঠন রয়েছে, যার নাম “আরব লীগ”। আরব লীগ মূলত ১৯৪৫ সালের ২২ মার্চ মিশরের রাজধানী কায়রােতে গঠিত হয়েছিল। দুটি প্রধান উদ্দেশ্য নিয়ে এই সংস্থাটির জন্ম হয়েছিল। এক: মুসলিম যেসব দেশ আরব লীগের সদস্য তাদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধন গড়ে তোলা।

দেশগুলো পরস্পরের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকবে। দুই: সদস্যভুক্ত দেশগুলোর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সবাই এক হয়ে কাজ করা। দুই নাম্বারের এই উদ্দেশ্য অনুযায়ী আরব লীগের অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রগুলো কখনোই

ইসরায়েলের সাথে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে না তুলার জন্য সম্মতি দিয়েছিলো। এবং যেহেতু ইসরায়েল অবৈধভাবে ফিলিস্তিনের বসতি উচ্ছেদ করে নিজের দখলে নিচ্ছে তাই আরব লীগের মতাদর্শ অনুযায়ী আরব রাষ্ট্রগুলোর উচিত ইসরায়েলের সাথে কোন সম্পর্ক বজায় না রাখা। কিন্তু সেই ১৯৪৫ সালে তৈরি হওয়া আরব লীগের মতাদর্শ থেকে সরে আসছে তার সদস্য রাষ্ট্রগুলো।

একবিংশ শতাব্দীতে এসে নিজেদের ক্ষমতার আধিপত্য ধরে রাখতে এবং ভূরাজনৈতিক কূটকৌশলে পরে কিছু আরব রাষ্ট্র এখন আরব লীগের মতাদর্শ ভুলে গিয়ে ইসরায়েলের সাথে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইসরায়েলের সাথে আরব লীগের সদস্যভুক্ত কোন রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক ও বানিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করার নামই ‘Normalization’।

বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই ‘Normalization’ বা ‘সম্পর্কের স্বাভাবিকিকরন’ টার্মটা বহুল আলোচিত। মনে করুন আরব লীগের একটা সদস্য রাষ্ট্র ইসরায়েলের সাথে কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করলো তখন এই সম্পর্কটাকে কূটনৈতিক অঙ্গনে বলা হচ্ছে “Arab- Isreal Normalization”।

আরব লীগের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে সর্বপ্রথম ইসরায়েলের সাথে কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন (Normalization) করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আরব রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্থাপনকারী ২য় রাষ্ট্র হচ্ছে বাহরাইন, ৩য় রাষ্ট্র হচ্ছে সুদান, চতুর্থ রাষ্ট্র হচ্ছে মিশর, ৫ম রাষ্ট্র হচ্ছে জর্ডান এবং ৬ষ্ঠ রাষ্ট্র হচ্ছে মরক্কো।

মরক্কো গত বছরের ডিসেম্বরে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকিকরন করেছিলো। অর্থাৎ এই আরব রাষ্ট্রগুলো আরব লীগের অবাধ্য হয়ে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন (Arab- Isreal Normalization) করেছে।

সম্প্রতি ইসরায়েলের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ার লাপিড মরক্কোতে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়েছেন এবং মরক্কোতে ইসরায়েলের কূটনীতিক ভবন উদ্ভোদন করেছেন। এই সফরে মরক্কোর সাথে ইসরায়েল নতুন তিনটা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে – এক: এখন থেলে মরক্কো ও ইসরায়েলের মধ্যে বিমান চলাচল শুরু হবে।

দুই: দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা হবে। তিন: ক্রীড়া, যুব ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে পরস্পরের সহযোগিতার চুক্তিও সই হয়েছে। এখন প্রশ্ন হতে পারে মরক্কোর সাথে ইসরায়েল কেন সম্পর্ক স্থাপন করলো? আমার কাছে তিনটা কারন মনে হয়েছে।

প্রথমত: কয়েকদিন আগে আমি আমার ফেসবুক আইডিতে পেগাসাস নিয়ে একটা বিস্তারিত পোস্ট দিয়েছিলাম। সেখানে দেখিয়েছিলাম ইসরায়েল কিভাবে উন্নত সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রীসহ ইত্যাদি উচ্চপদস্থ ব্যাক্তিদের উপর গোপন ক্যামেরা নিয়ে নজরদারি করে।

সেখানে দেখিয়েছিলাম ছিলাম ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ মরক্কোতে বসেই ইউরোপীয়ান রাষ্ট্রগুলোর উপর নজরদারি করে। ইউরোপের প্রায় সবগুলো রাষ্ট্রই ইসরায়েলের বন্ধু রাষ্ট্র। তাই ইসরায়েলের গোয়েন্দারা ইউরোপে গিয়ে ইউরোপীয় কোন রাষ্ট্রপ্রধানের উপর নজরদারি করে ধরা পরে গেলে ইসরায়েলের সাথে তাদের সম্পর্ক খারাপ হতে পারে।

আর সেটা ইসরায়েলের জন্য নিরাপদও নয় যেহুতো ইউরোপীয়ান রাষ্ট্রগুলোও প্রযুক্তিগতভাবে অনেক উন্নত। তাই নিরাপদ দূরত্বে বসে গোটা ইউরোপটাকে নজরদারি করার জন্য ইসরায়েলের প্রয়োজন একটা সেইফ জায়গা। সেই নিরাপদ জায়গা হিসেবে মরক্কো হচ্ছে পারফেক্ট।

আফ্রিকা মহাদেশের দেশ মরক্কো এমন এক ভৌগোলিক স্থানে অবস্থিত যেখানে বসে সহজেই ইউরোপকে নজরদারি করা যায়।

দ্বিতীয়ত: প্রশ্ন হতে পারে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক করে মরক্কোর লাভ কি? আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটা কমন প্যাটার্ন হচ্ছে যে, কোন একটা রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো করা মানেই ইসরায়েল সাথেও অটোমেটিক সম্পর্ক ভালো হয়ে যাওয়া।

যেমন- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক ভালো তাই ইসরায়েলের সাথেও সৌদির সম্পর্ক ভালো হয়ে যায়। একইভাবে ইসরায়েলের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা মানেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অটোমেটিক সম্পর্ক ভালো হয়ে যাওয়া।

যেমন- ইসরায়েলের সাথে ভারতের সম্পর্ক ভালো, তাই যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও ভারতের সম্পর্ক ভালো। তাই মরক্কো এই সুযোগটা নিয়েছে। ইসরায়েলের সাথে মরক্কো তার সম্পর্কটা ভালো করার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মরক্কোর একটা ভালো সম্পর্ক অটোমেটিক গড়ে উঠবে। তারপর মরক্কো

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে একসাথে মিয়ে বিতর্কিত সাহারা অঞ্চল নিজের দখলে নিয়ে নিতে পারবে। মরক্কো, আলজেরিয়া ও মৌরতানিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে “সাহারা অঞ্চলটি” অবস্থিত। এই বিতর্কিত অঞ্চলটির দখল নিয়ে মরক্কোর সাথে আলজেরিয়ার ও মৌরতানিয়ার একট দ্বন্দ্ব চলছে। তাই ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে মরক্কো চাচ্ছে এই অঞ্চলটা আমেরিকার মাধ্যমে তাদের দখলে নিয়ে নিতে।

তৃতীয়ত: মরক্কো একটি আরব বা ইসলামি রাষ্ট্র হলেও সেখানে প্রায় তিন লক্ষ ইহুদি বসবাস করছে। সেই তিন লক্ষ ইহুদি জনগনের নিরাপত্তার জন্য ইসরায়েল মরক্কোোর সাথে সম্পর্ক তৈরি করার আরেকটি কারন হতে পারে। তাছাড়াও আজকের একুশ শতাব্দীতে এসে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল ও আমেরিকাকে পাশে পেলে মরক্কোর জন্যই লাভ মনে করছে দেশটির কূটনীতিবিদরা। তাই Arab Isreal Normalization টাকে মরক্কো তাদের একটা কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে।

ওহ! আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করার মানে হলো ইসরায়েলকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবেও স্বীকৃতি দেওয়া। অথচ আরব দেশগুলোর মধ্যে বহু বছরের একটা ঐকমত্য ছিল। সেটি হচ্ছে, ইসরাইলের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক একমাত্র ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার মাধ্যমেই হতে পারে।

কিন্তু ফিলিস্তিনিরা যখন পূর্ব জেরুজালেমে আর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের মধ্যে দুঃসহ দিন কাটাচ্ছে তখন ইসরাইল এই আরব রাষ্ট্রগুলোর সাথে তার সম্পর্ক সুদৃঢ় করছে। আরব রাষ্ট্রগুলোও এখন আরব লীগকে পশ্চিমা বিশ্বের কূটচালের কারনে একটি অকার্যকর সংগঠন হিসেবে মনে করে।

তাই নিজেদের আধিপত্য বিস্তার ও ভূরাজনৈতিক কারনে আরব রাষ্ট্রগুলো একেক করে ইসরায়েলের সাথে তাদের সম্পর্ক স্থাপন করছে এবং ইসরায়েলকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে সৃকৃতি দিচ্ছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো, মিশর, জর্ডানের মতো বাকি আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলো শুধুমাত্র নিজ স্বার্থের কথা বিবেচনা করে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে ফেলবে।

যেসকল মুসলিম রাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের বিরোধীতা করে আসছে তারাই এখন সময়ের প্রয়োজনে
ইসরায়েলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে সৃকৃতি দিচ্ছে যা ইসরায়েলের কূটনীতিক অঙ্গনে একটা মাইলফলক!
আরো দুইটা কূটনৈতিক টার্ম দিয়ে আজকের পোস্টটা শেষ করছি।

ইসরায়েলের জাতীয় রাজনীতিতে “Iron Wal Trap” নামে একটা টার্ম আছে। এই টার্ম অনুযায়ী ইসরায়েল আয়রন ওয়াল’ বা ‘লৌহ প্রাচীরের’ কৌশলে বিশ্বাসী। ১৯২০ এর দশকে এই কৌশলের কথা প্রথম বলা হয়। এই কৌশলের মূল কথা হচ্ছে, ইসরাইলকে এতটাই শক্তিশালী হতে হবে যাতে করে শেষ পর্যন্ত আরবরা বুঝতে পারবে ইসরাইলের অস্তিত্ব স্বীকার করে নেয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই। আর এখন একুশ শতাব্দীতে এসে ইসরায়েল সেটা বাস্তবায়ন করতে পারছে।

কত দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক পরিকল্পনা তাদের! এজন্যই বলা হয় একটা রাষ্ট্রকে সুপার পাওয়ার হতে শুধুমাত্র দীর্ঘমেয়াদি কূটনীতিই যথেষ্ট। আরেকটা টার্ম হচ্ছে ‘Fifth Column’। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই ফিফথ কলামের মানে হলো একটা দেশের বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী সেই দেশের অনুগত না হয়ে অন্য আরকটি বিদেশি রাষ্ট্রের অনুগত।

১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ইরান দাবি করতো বাহরাইন তাদের দেশেরই অংশ। তাছাড়াও বাহরাইনের শাসকরা সুন্নি। কিন্তু দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ শিয়া। কাজেই সুন্নি শাসকরা এই শিয়াদের ইরানের সম্ভাব্য ‘Fifth Column’ বা ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ বলে ভাবেন। বাহরাইন মনে করছে তাদের দেশের শিয়া জনগোষ্ঠীর সাথে ইরানের গোপন সম্পর্ক রয়েছে।

তাই আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও সৌদিকে কেন্দ্র করে আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যে বিভাজন সেটাকে ইসরায়েল তার সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে এবং রাষ্ট্রগুলোকে নিজের বলয়ে নিয়ে আসতে পারছে।

Muhammad Miraj Mia
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Arab-Isreal Normalization and The Iron Wall Trap! ছাড়া আরও পড়ুনঃ

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। আপডেট পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল যোগ দিতে পারেন। পোস্টটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখতে পারেন। আমাদের সাইট থেকে কপি হয়না তাই পোস্টটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখতে পারেন।