হুমায়ুন আজাদ: ব্যাংক ও বিসিএস

হুমায়ুন আজাদ: ব্যাংক ও বিসিএস
Content Protection by DMCA.com

হুমায়ুন আজাদ (জন্ম: ২৮শে এপ্রিল, ১৯৪৭ (১৪ই বৈশাখ, ১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), রাড়িখাল, বিক্রমপুর; মৃত্যু: ১১ই আগস্ট, ২০০৪, মিউনিখ, জার্মানি) একজন বাংলাদেশী কবি, ঔপন্যাসিক, সমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী, কিশোর সাহিত্যিক এবং কলাম প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৭০ টি’র বেশী। ধর্ম, প্রথা, প্রতিষ্ঠান ও সংস্কারবিরোধিতা, নারীবাদিতা, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং নির্মম সমালোচনামূলক বক্তব্যের জন্য তিনি ১৯৮০’র দশক থেকে ব্যাপক পাঠকগোষ্ঠীর দৃষ্টি আর্কষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

সাহিত্যকর্ম:

হুমায়ুন আজাদের কবিতার মাধ্যমে সাহিত্যচর্চার শুরু হয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হবার পর তবে বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে থাকাকালীন তার “ঘড়ি বলে টিক টিক” শিরোনামে প্রথম লেখা প্রবন্ধ ছাপা হয়েছিল দৈনিক ইত্তেফাকের শিশুপাতা কচিকাঁচার আসরে। শৈশবে পরবর্তীতে তিনি এই পত্রিকায় একাধিক প্রবন্ধ লিখেছিলেন। তার প্রকাশিত মৌলিক কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৭। তার প্রকাশিত-অপ্রকাশিত কবিতাসমূহ জীবদ্দশায় হুমায়ুন আজাদের শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৯৩) ও কাব্যসংগ্রহ (১৯৯৮) এবং মৃত্যুর পরে কাব্যসমগ্র (২০০৫) বইয়ে প্রকাাশিত হয়। তিনি ১২টি উপন্যাস লিখেছেন। তার উপন্যাসসমূহ উপন্যাসসমগ্র ১ (২০০১), উপন্যাসসমগ্র ২ (২০০২) এবং উপন্যাসসমগ্র ৩ (২০০৩) বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি যাদুকরের মৃত্যু (১৯৯৬) নামে ১টি মৌলিক ছোটগল্পের বই লিখেছেন। এছাড়াও তার ৮টি কিশোরসাহিত্য, এবং ৮টি ভাষাবিজ্ঞান বিষয়ক বই রয়েছে।

কাব্যগ্রন্থঃ
অলৌকিক ইস্টিমার (১৯৭৩)
জ্বলো চিতাবাঘ (১৯৮০)
সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে (১৯৮৫)
যতোই গভীরে যাই মধু যতোই উপরে যাই নীল (১৯৮৭)
আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে (১৯৯০)
হুমায়ুন আজাদের শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৯৩)
আধুনিক বাংলা কবিতা (১৯৯৪)
কাফনে মোড়া অশ্রু বিন্দু (১৯৯৮)
কাব্য সংগ্রহ (১৯৯৮)
পেরোনোর কিছু নেই (২০০৪)

 হুমায়ুন আজাদ কে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সমূহঃ

প্রশ্নঃ হুমায়ুন আজাদ কবে, কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তরঃ ১৯৪৭ সালের ২৮শে এপ্রিল, বিক্রমপুরের বাড়িখাল নামক এলাকায়।
প্রশ্নঃ তিনি মূলত কী হিসেবে পরিচিত?
উত্তরঃ লেখক ও অধ্যাপক।

প্রশ্নঃ তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর নাম কী?
উত্তরঃ কবিতা : অলৌকিক ইস্টিমার (১৯৭৩), জ্বলো চিতাবাঘ (১৯৮০), সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে (১৯৮৫), যতোই গভীরে যাই মধু যতোই ওপরে যাই নীল (১৯৮৭), কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু (১৯৯৮)। উপন্যাস : ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল (১৯৯৪), সব কিছু ভেঙে পড়ে (১৯৯৫), শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার (১৯৯৮), রাজনীতিবিদগণ (১৯৯৮), কবি অথবা দ-িত পুরষ (২০০০), পাক সার জমিন সাদ বাদ (২০০৩) ইত্যাদি। সমালোচনা/প্রবন্ধ: রবীন্দ্রপ্রবন্ধ, রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তা (১৯৭৩), শামসুর রাহমান : নিঃসঙ্গ শেরপা (১৯৮৩), শিল্পকলার বিমানবিকীকরণ ও অন্যান্য প্রবন্ধ (১৯৮৮), নারী (১৯৯২), দ্বিতীয় লিঙ্গ (১৯৯৯)। ভাষাতত্ত্ব : বাক্যতত্ত্ব (১৯৮৪), তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ভাষা বিজ্ঞান (১৯৮৮)।

প্রশ্নঃ ‘অলৌকিক ইস্টিমার’ কাব্রগ্রন্থের পরিচয় দাও।
উত্তরঃ হুমায়ুন আজাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ (১৯৭৩)। কবিতায় যৌনতার অনুষঙ্গ আছে, কিছু স্লোগানও আছে। তবে কাব্যভাষা ঋদ্ধ, লক্ষ্যভেদী। øানের জন্যে, জল দাও বাতাস, জ্যোৎøার অত্যাচার, আত্মহত্যার অস্ত্রাবলি ইত্যাদি এর কয়েকটি গরুত্বপূর্ণ কবিতা।

প্রশ্নঃ ‘আমি বেঁচেছিলাম অন্যদের সময়ে’ কাব্যগ্রন্থের পরচয় দাও।
উত্তরঃ ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয় হুমায়ুন আজাদের ‘আমি বেঁচেছিলাম অন্যদের সময়ে’। এটি তাঁর পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ। কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কবিতা হরো : কথা দিয়েছিলাম তোমাকে, তরুণী সন্তু, যে তুমি ফোটাও ফুল, যদি একবার তাকাও, পর্বত, শিশু ও যুবতী ইত্যাদি। এই কাব্যগ্রন্থে হুমায়ুন আজাদ মানুষের অমরত্বে সন্ধান করেছেন। আপাতত বিঘœ এলেও মানুষ যে শেষ অবধি অপরাজেয় থেকে যায়, এ কাব্যগ্রন্থের মূল সুর এটাই।

প্রশ্নঃ ‘আব্বুকে মনে পড়ে’ গ্রন্থের পরিচয় দাও।
উত্তরঃ হুমায়ুন আজাদের ‘আব্বুকে মনে পড়ে’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস। প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সাল্ েউপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র এক শিশু। ১৯৭১ সালে যাব বয়স ছিল চার বছর। যার মনে বার বার ভেসে উঠে যুদ্ধ করতে যাওয়া তার বাবার স্মৃতি।
প্রশ্নঃ তিনি কেমন লেখক হিসেবে পরিচিত?
উত্তরঃ প্রথাবিরোধী, ধর্মীয় মৌলবাদীদের মুখোশ উন্মোচনকারী, লৈঙ্গিক বৈষম্যে বিশ্বাসহীন লেখক।

প্রশ্নঃ তিনি কী পুরস্কার লাভ করেন?
উত্তরঃ বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮৬)।
প্রশ্নঃ হুমায়ুন আজাদ রক্তাক্ত হয়েছিরেন কীভাবে?
উত্তরঃ ২০০৪ সারের বাংলা একাডেমী বইমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে ২৭শে ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে মৌলবাদী গোষ্ঠী তাঁকে চাপাতির আঘাতে ক্ষ-বিক্ষত করে। এরপর দেশ-বিদেশে দীর্ঘ চারমাস তাঁকে চিকিৎসা নিতে হয়।

প্রশ্নঃ তিনি কবে, কোথায় মারা যান?
উত্তরঃ জার্মানির মিউনিখ শহরে, ২০০৪ সালের ১২ই অগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আরও পড়ুনঃ

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।