সমাস বিসিএস প্রিলি প্রস্তুতি পর্ব-২

সমাস শিখুন সহজে
Content Protection by DMCA.com

সমাস এমন একটা টপিক যা আমরা খুব বেশি স্কিপ করার চেষ্টা করি , তবে টপিকটা আসলে খুব বেশি কঠিন না। আমরা যদি একটু চেষ্টা করি তবে টপিকটা খুব সহজেই শেষ করতে পারব। যারা এই পোষ্টটি দেখতেছেন তাঁরা আগে পর্ব -১ দেখে আসুন তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে। আজ আমরা ৬ টি সমাসের প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করব।

দ্বন্দ্বমাস

আমরা গত পোষ্ট থেকে জেনেছি যে, দ্বন্দ্বে উভয়পদ প্রধান (পূর্বপদ ও পরপদ দুটোই প্রাধান্য পায়)।

চেনার উপায়ঃ দ্বন্দ্ব সমাস এর মাঝে ড্যাশ চিহ্ন(-) থাকে তা দেখেই সহজে চেনা যায় তাছাড়া পূর্বপদ ও পরপদ দুটোই প্রাধান্য পায়।

ব্যাসবাক্য করার নিয়মঃ খুব সহজেই ব্যাসবাক্য করা যায় ,মাঝে শুধু “ও” বসালেই হয়। যেমনঃ বাবা-মা= বাবা ও মা;

বিভিন্ন চাকুরীর পরীক্ষায় এই সমাসের উদাহরণের অর্থ জানতে চায় তাই নিচে কিছু উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হলোঃ

  • দাদা-দাদী, নানা-নানি, বাবা-মাঃ মিলনার্থে (বৈবাহিক সম্পর্ক থাকলে)
  • আয়-ব্যয়, উঁচু-নিচুঃ বিপরীত অর্থে  (সম্পুর্ন বিপরীত)
  • অহি-নুকুল, দা-কুমড়া, সাপে-নেউলেঃ বিরোধী অর্থে(খুবই বিরোধী সম্পর্ক)
  • চা-টা, কাপড়-চোপড়ঃ সমার্থে (প্রায় একই রকম শব্দ)
  • দেশে-বিদেশেঃ অলুক দ্বন্দ্ব (বিভক্তি থাকে)

দ্বিগু সমাস

দ্বিগু সমাসে পরপদ প্রাধান্য পায়।

চেনার উপায়ঃ শুরুতেই সংখ্যা থাকে তাছাড়া দ্বিগু সমাসে পরপদ প্রাধান হয়।

ব্যাসবাক্য করার নিয়মঃ শুধু শেষে সমাহার লাগালেই হবে।

যেমনঃ 

  • ত্রিভুবনঃ ত্রিভুবনের সমাহার
  • চৌরাস্তাঃ চৌরাস্তার সমাহার
  • পঞ্চবটীঃ পঞ্চ বটের সমাহার
  • নবরত্নঃ নব রত্নের সমাহার
  • পসুরিঃ পাঁচ সেরের সমাহার

অব্যয়িভাব সমাস

অব্যয়িতে পূর্বপদ প্রধান হয়।

চেনার উপায়ঃ শুরুতেই উপসর্গ থাকে বিশেষ করে তৎসম উপসর্গ অথবা যথা থাকে। নিচে উদাহরণ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি।

  • জীবন= জীবন পর্যন্ত। (আ অর্থ হল পর্যন্ত মানে পূর্বপদ প্রাধান্য পেয়েছে)
  • কণ্ঠ= কণ্ঠ পর্যন্ত।
  • উপকূল= কূলের সমীপে।
  • উপজেলা= জেলার ক্ষুদ্র।

কর্মধারয় সমাস

এ সমাসে পরপদ প্রধান পায় আর সবচেয়ে বড় যে কথাটা আছে তাহলো তুলুনা বুঝাবে। সাধারণত যে বা যিনি তিনি দিয়ে ব্যাসবাক্য করতে হয়,  কর্মধারয় সমাস নিচে উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হলোঃ

নবপৃথিবী = নব যে পৃথিবী, মহাকীর্তি= মহান যে কীর্তি, জজ সাহেব= যিনি জজ তিনি সাহেব, গিন্নি মা= যিনি গিন্নি তিনিই মা। এগুলো তো সাধারণ কর্মধারয় , ঝামেলা বাধে বড় কিছু তুলুনার উদাহরণে যেমন। কাজলকালো, অধরপল্লব, বিষাধসিন্ধু ইত্যাদিতে।

  • উপমান কর্মধারয়ঃ বাস্তবের সাথে মিল থাকে যেমনঃ কাজলকালো = কাজলের ন্যায় কালো , কাজল আসলেই দেখতে কালো তাহলে কি দাঁড়ালো ,বাস্তবধর্মী হলে উপমান কর্মধারয় হবে।
  • উপমিত কর্মধারয়ঃ অবাস্তব তুলুনা যেমনঃ অধরপল্লব= অধর পল্লবের ন্যায়। এখানে খেয়াল করুন একটি ঠোট যতই ঢেউ খেলানো হোকনা কেন তা কখনই পাতা হতে পারেনা মানে কি ,হ্যাঁ অবাস্তব তুলুনা তাই উপমিত।
  • রুপক কর্মধারয়ঃ অবাস্তব এবং অদৃশ্য জিনিসের সাথে তুলুনা বোঝাবে যেমনঃ বিষাধসিন্ধু= বিশাধ রূপ সিন্ধু এখানে বিষাদ মানে হচ্ছে দুঃখ যা দেখা যায় না অর্থাৎ অদৃশ্য জিনিস তাই রুপক।
  • মধ্যপদলোপী কর্মধারয়ঃ মাঝখান থেকে একটি পদ বাদ যাবে যেমনঃ ঘরজামাই= ঘরে আশ্রিত জামাই।

তৎপুরুষ সমাস

তৎপুরুষ সমাসে পরপদ প্রধান ও বিভক্তি লোপ পায়। রতদেখা =রতকে দেখা ,এখানে মাঝখান থেকে কে লোপ পেয়েছে। তৎপুরুষ পড়ার আগে বিভক্তি পরে রাখলে নির্নয় করতে সুবিধা হবে। নিচে কিছু উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হলঃ

  • ২য়া তৎপুরুষঃ রতদেখা =রতকে দেখা। [দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে]
  • ৩য়া তৎপুরুষঃ মনগড়া= মন দিয়ে গড়া। [তৃতীয়া বিভক্তি দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক]
  • ৪র্থী তৎপুরুষঃ গুরুভক্তি= গুরুকে ভক্তি।[চতুর্থী বিভক্তি কে, রে](৪র্থী তৎপুরুষে ভক্তি/দান, জন্য/উদ্দেশ্য বোঝাবে)
  • ৫মী তৎপুরুষঃ বিলাত ফেরত= বিলাত হতে ফেরত।[পঞ্চমী বিভক্তি হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে]
  • ৬ষ্ঠী তৎপুরুষঃ মামা বাড়ি= মামা বাড়ি।[ষষ্ঠী বিভক্তি র, এর]
  • ৭মী তৎপুরুষঃ বাক্সবন্দি= বাক্সে বন্দি।[সপ্তমী বিভক্তি এ, য়, তে]
  • নঞ তৎপুরুষঃ অজানা,অনাচার,নাতিদীর্ঘ= এখানে অ,অনা নাতি অর্থাৎ নেগেটিভ কিছু থাকলেই নঞ তৎপুরুষ হয়।
  • উপপদ তৎপুরুষঃ এক কথায় প্রকাশ দিয়ে ইজিলি বের করা যায় এবং শেষে যে বা যা থাকে। যেমনঃ পঙ্কজ= পঙ্কে থাকে যে।
  • অলুক তৎপুরুষঃ শেষে বিভক্তি থেকে যায়। যেমনঃ সোনা বাংলা ,এখন মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে তাহলে ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ এও তো বিভক্তি থাকছে তাই না, কিন্তু না যেমনঃ মামাবাড়িঃ মামা বাড়ি। বিভক্তি কিন্তু চলে গেছে।

নিত্য সমাস

সাধারণ কিছু শব্দ আছে যেগুলোকে আমরা নিত্য সমাস বলে থাকি। একটা গল্পের মাধ্যমে আমরা তা মনে রাখতে পারি।

গল্পঃ আমরা অনেক মানুষ একসাথে বসে আছি, তারমধ্যে একজন কাপুরুষ ছিল যে কাজ সেরে বাসায় গেল এবং তার গেঁটের সামনে দেখতে পেল বিরানব্বইটা কালসাপ, দর্শনমাত্র সে ঘর থেকে দৌড় দিয়ে গৃহান্তর হল এবং পরে গ্রামান্তর হল ,কিন্তু তাঁতেও তার ভয় কমল না তাই সে এবার দেশান্তর হয়ে গেল। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে একযুগ বা যুগান্তর হয়ে গেল।

তারপর একদিন সে চিন্তা করল সে আর দৌড়াবে না তাই দারিয়ে পড়ল কিন্তু কালসাপ সে কি আর ছাড়বে সে ছোবল দিল এর পর আরকি কালান্তর ঘটল। তাই আলটিমেটলি সে লোকো সমাজ থেকে হারিয়ে গেল মানে লোকান্তর হল। এখানে মারকিং করা শব্দ গুলোই  নিত্য সমাস।

প্রাদি সমাস

প্র বা অনু থাকলে আমরা সাধারণত প্রাদি সমাস বলে থাকি। আমরা একটি গল্পের মাধ্যমে বেশি আসা প্রাদি সমাস গুলো মনে রাখতে পারি।

গল্পঃ প্রভাতে পরিভ্রমণকালে প্রবাদ প্রবচন অনুতাপের মাধ্যমে প্রগতি করা সম্ভব।  এই শব্দ গুলোই প্রাদি সমাস।

বহুব্রীহি দ্যা ঝামেলা

সমাসের মধ্যে সবচেয়ে ঝামেলাযুক্ত সমাস হচ্ছে এই বহুব্রীহি । বহুব্রীহি মানে সাধারণত আমরা জানি অনেক ধান। বহু মানে অনেক আর ব্রীহি মানে ধান। নিচের উদাহরণ এর সাথে সাথে এর প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করব।

  • ব্যতিহারঃ যেমনঃ কানাকানি, চুলাচুলি অর্থাৎ একেই জিনিস দ্বিত হয় তাই হল ব্যতিহার।
  • সংখ্যাবাচকঃ বহুব্রীহি তে নতুন অর্থ পাওয়া যায় কিন্ত দ্বিগুতে পরপদ প্রধান হয়। কেন এখানে দ্বিগু নিয়ে আসলাম হ্যাঁ কারণ এর সাথেই ঝামেলা লেগে যায়। উদাহরণ এর সাহায্যে আমার ব্যাপারটা ক্লিয়ার করে নিচ্ছি যেমনঃচৌরাস্তা বলতে মূলত আমরা কি বুঝি চার না একটা রাস্তা বুঝি ,হ্যাঁ রাস্তাই বুঝি মানে পরপদ প্রধান তার মানে কি এটা দ্বিগু সমাস চৌরাস্তা= চার রাস্তার সমাহার আবার,  চৌচালা বলতে আমরা কি বুঝি একটা ঘর বুঝি মানে নতুন অর্থ পাচ্ছি তাই এটা বহুব্রীহি। চৌচালা= চৌ(চার) চাল যে ঘরের। কিছু উদাহরণ মুখস্ত রাখলেই আর ঝামেলা হবে না, পঞ্চগড়, পঞ্চানন, তেপায়া, চৌচালা, সেতার,দশানন।
  • সমানাধিরকনঃ যে সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয় কিংবা উল্টোটা হয় তাই সমানাধিরকন। যেমনঃ পীতাম্বর
  • ব্যধিকরণঃ পুর্বপদ বা পরপদ কোনটিতেই যদি বিশেষণ না থাকে। যেমনঃ বীণাপাণি
  • নঞঃ বিশেষ্য পদের আগে না বোধক থাকে। যেমনঃ অসীম
  • অলুকঃ পুর্বপদ বা পরপদ এর কোন পরিবর্তন হয়না। যেমনঃ গায়েহলুদ
  • মধ্যপদলোপীঃ মধ্যের কোন একটা পদ লোপ পাবে। যেমনঃ সোনামুখী

এই পর্বটা দেখার আগে প্রথম পর্বটা দেখে আসুন তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে। সমাস পর্ব-১ আর তাছাড়াও প্রথম পর্বে বিভিন্ন চাকুরীতে আসা প্রশ্নগুলো দেয়া আছে সেটাও দেখে নেয়া অত্যাবশ্যক।

আরও পড়ুনঃ

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।