রোহিঙ্গারা যেন বাংলাদেশের বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়

ফোকাস রাইটিং : ব্লু ইকোনমি
Content Protection by DMCA.com

ভূ রাজনীতি (আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী)
মিয়ানমারের সেনা অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট
রোহিঙ্গারা যেন বাংলাদেশের বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়

১. পটভূমি:
২০২০ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) থান টে-র নেতৃত্বাধীন ও তাতমাদো (মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনী) সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) বিরুদ্ধে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে ভূমিধস বিজয় অর্জন করে।

তাতমাদো তথা মিয়ানমার সামরিক বাহিনী নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়ে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু মিয়ানমার নির্বাচন কমিশন তা বিবেচনায় না নিয়ে সংসদ অধিবেশন প্রস্তুতির কাজ করছিল। মূলত দুটি কারণ তাতমাদোকে সেনা অভ্যুত্থানের দিকে পরিচালিত করেছিল:

ক. নির্বাচন কমিশন তাতমাদোর অভিযোগগুলো বিবেচনায় না নেওয়ায় তাদের অহংবোধে আঘাত করা হয়, ফলে তারা অসন্তুষ্ট হয়েছিল।

খ. তাতমাদো বুঝতে পেরেছিল, সু চি যদি সরকার গঠন করে এবং পরবর্তী ৫ বছর অসামরিক সরকার যদি দেশ পরিচালনা করে তবে রাজনীতিতে এবং দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে (প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে) সামরিক বাহিনীর প্রভাব ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হবে। সুতরাং কিছু করতে হলে এখনই, না হয় কখনোই তা সম্ভব হবে না। ফলে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইয়ের নেতৃত্বে তাতমাদো সেনা অভ্যুত্থান করে।

২. সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাই:
তিনি একজন বামার (মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়)। তিনি সামরিক বাহিনীতে একজন মধ্যম মানের অফিসার হলেও শান্ত, দৃঢ় এবং লক্ষ্য অর্জনে অটল হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া তিনি কিছুটা অহংকারীও বটে। ২০০৮ সালের (সামরিক বাহিনী প্রণীত) সংবিধানে প্রদত্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি নিজের মেয়াদ পাঁচ বছরের জন্য বাড়িয়ে নিয়েছিলেন, যা ২০২১ সালে শেষ হবে। ২০১১ সালে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ হওয়ার পরে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের একটি অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে।’

এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর তীব্র নির্যাতন-নিপীড়ন দেখেছি। ২০১৭ সালে রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগত নির্মূলকরণের’ পরে যখন পশ্চিমা এবং বিশ্ব সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য সচেষ্ট ছিল, তখন তাঁর মন্তব্য ছিল ‘আমরা তাদের বিতাড়িত করেছি ফেরত আনার জন্য নয়।’ মিয়ানমারের এই শক্তিশালী মানুষটি তাতমাদো নামক এমন একটি সংস্থাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা শুধু একটি সশস্ত্র বাহিনী নয় তার চেয়েও সম্ভবত বেশি শক্তিশালী একটি সংগঠন।

৩. তাতমাদো:
প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাতমাদো সাত দশক ধরে মিয়ানমার শাসন করছে। দীর্ঘ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সামরিক শাসনের অধীনে সামরিক বাহিনী দানবে পরিণত হয়ে থাকে। তাতমাদোও এর ব্যতিক্রম নয়। এটি প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিসংবলিত জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক এমন একটি সংস্থা, যা মিয়ানমারের অন্যান্য সংস্থার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছে। এমন দানবীয় মনোভাবসম্পন্ন ও মেধার সংমিশ্রণযুক্ত সংস্থা যেকোনো দেশের জন্য বিপজ্জনক।

পুরোটা পড়ুন

রোহিঙ্গারা যেন বাংলাদেশের বোঝা না হয়ে দাঁড়ায় ছাড়া আরও পড়ুনঃ

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। আমাদের সাইট থেকে কপি হয়না তাই পোস্টটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখতে পারেন।