যুক্তরাজ্য ও গ্রেট ব্রিটেন

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী
Content Protection by DMCA.com

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী
বিসিএস + ব্যাংক প্রস্তুতি
যুক্তরাজ্য ও গ্রেড বৃটেন

ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ (The British Isles):

নিচে যে মানচিত্র দেখতে পাচ্ছেন, তাকে একত্রে এ নামে ডাকা হয়। এটি কোনো রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রিক নাম নয়। দক্ষিণ এশিয়া বলতে যেমন স্রেফ একটি ভৌগোলিক এলাকা বোঝায়, তেমনই।

এখানে যে ম্যাপ দিয়েছি, তাতে স্পষ্ট বুঝতে পারছেন দুটি বড়ো দ্বীপ দেখা যাচ্ছে। ডানপাশের বিরাট দ্বীপকে বলা হয় “গ্রেট ব্রিটেন” বা সংক্ষেপে “ব্রিটেন”।

 

কিন্তু “গ্রেট” কেন? কারণ, মানচিত্রে দৃশ্যমান দুই দ্বীপখণ্ডের মাঝে সেটির আকার বড়ো। গ্রেট ব্রিটেনও কেবলই একটি ভৌগোলিক পরিচয়, এর আলাদা রাজনৈতিক বিভাজন নেই, ঠিক যেমন বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ বলতে কেবলই ভৌগোলিক একটা অবস্থান ছাড়া আর কিছু বোঝায় না।

এই গ্রেট ব্রিটেনের ভেতর তিনটি দেশ আছে। যথা: ইংল্যান্ড, ওয়েলস, এবং স্কটল্যান্ড। অন্য দিকে, মানচিত্রের বামপাশে যে ছোটো দ্বীপ দেখতে পাচ্ছেন, ওটার ভৌগোলিক নাম “আয়ারল্যান্ড”, যেটি দুইটি পৃথক দেশে বিভক্ত। দক্ষিণের বড় অংশটি স্বাধীন, সার্বভৌম “রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড”, যার রাজধানী ডাবলিন।

আয়ারল্যান্ড দ্বীপের উত্তরের ভূখণ্ডটির নাম “নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড”, যেটি আলাদা দেশ হলেও সার্বভৌম নয়! ডানপাশের গ্রেট ব্রিটেনের ৩ দেশ আর বামপাশের আয়ারল্যান্ড দ্বীপের উত্তরের দেশ, এই চার দেশ মিলে যে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র, সেটিকে বলা হয় যুক্তরাজ্য তথা ইউনাইটেড কিংডম (ইউ.কে.)। ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড;

এই ৪ দেশকে বলা হয় ইউকে’র “অঙ্গদেশ”, যাদের পৃথক পতাকা, রাজধানী, পার্লামেন্ট থাকলেও সার্বভৌমত্ব নেই! যুক্তরাষ্ট্রের যেমন ৫০ টি অঙ্গরাষ্ট্র তথা States আছে তেমনই ইউকে গঠিত ৪ টি অঙ্গদেশ তথা Constituent Countries দ্বারা।

ইউকে’র পূর্ণনাম ” The United Kingdom of Great Britain and Northern Ireland” যাকে দৈনন্দিন কাজে সংক্ষেপে কেবল ইউকে ডাকা হয়। ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ডের রাজধানী যথাক্রমে লন্ডন, কার্ডিফ, এডিনবার্গ।

1. ৯২৫ সালে এংলো-স্যাক্সন ট্রাইব দু’টি ঐকমত্যে পোঁছে “কিংডম অব ইংল্যান্ড” গঠন করে।

2. ১৫৩৬ সালে ওয়েলস’কে অন্তর্ভুক্ত করে “কিংডম অব ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস” গঠন করেন রাজা অষ্টম হেনরি।

3. ১৭০৭ সালে উক্ত রাজ্যের সাথে “কিংডম অব স্কটল্যান্ড” একীভূত হয়ে গঠন করে “কিংডম অব গ্রেট ব্রিটেন”।

4. ১৮০১ সালে গ্রেট ব্রিটেন রাজ্যের সাথে সমগ্র অখণ্ড আয়ারল্যান্ড যুক্ত হয়ে গঠন করে ” ইউকে”।

5. ১৯২২ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ক্যাথলিক সংখ্যাগরিষ্ঠ “রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড” সার্বভৌম রাষ্ট্র অর্জন করে ইউকে থেকে পৃথক হয় এবং রাজতন্ত্র বিসর্জন দিয়ে প্রজাতন্ত্র (রিপাবলিক) গঠন করে।

আয়ারল্যান্ড দ্বীপের বাকি অংশ প্রোটেস্টেন্ট অধ্যুষিত “নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড” নাম ধারণ করে ইউকে’র সাথেই থেকে যায়।

ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ বলতে যদিও মূলত পূর্বের “গ্রেট ব্রিটেন” আর পশ্চিমপাশের “নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড”-কেই বুঝি, এ ছাড়াও মানচিত্রে বোঝানো না গেলেও এর মাঝে বিদ্যমান আছে the isle of Man, the isles of Scilly, the Channel Islands এবং ক্ষুদ্রক্ষুদ্র আরও ৬০০ অধিক দ্বীপসমূহ।

যুক্তরাজ্য ও গ্রেট ব্রিটেন ছাড়া আরও পড়ুনঃ

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। আমাদের সাইট থেকে কপি হয়না তাই পোস্টটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখতে পারেন।