মধ্যপ্রাচ্যঃ যেভাবে রোপিত হয় অন্তহীন সংঘাতের চারাগাছ

ফোকাস রাইটিং : ব্লু ইকোনমি
Content Protection by DMCA.com

মধ্যপ্রাচ্যঃ যেভাবে রোপিত হয় অন্তহীন সংঘাতের চারাগাছ

মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় এক শতাব্দী ধরে যে সহিংসতা দেখছে পৃথিবীর মানুষ, তার শুরু কোথায়? জার্মান ইতিহাসবিদ বার্নহার্ড জান্ড দেখিয়েছেন এর বীজ বপন করা হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে আরব বসন্ত লক্ষ কোটি মানুষের মনে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা জাগিয়েছে, সেটাও কোনো চূড়ান্ত সমাধান নিয়ে আসবে না এ অঞ্চলের জন্য। প্রকৃতপক্ষে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যে অন্তহীন সঙ্ঘাতের বীজ বোনা হয় এ অঞ্চলে, তারই একটি রূপ আরর বসন্ত।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে ১৯১৮ সালে। কিন্তু ওই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে যে সহিংসতা উসকে দিয়েছিল, আজো তা থামেনি। নিজেদের স্বার্থে ঔপনিবেশিক শক্তি এখানে এমন কৌশলী সীমান্ত এঁকে গেছে, যার ধকল আজো কাটিয়ে উঠতে পারেনি এ অঞ্চলের মানুষ।

তৃতীয় বছরে গড়িয়েছে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ। দামেস্কের ক্যাসিওন পার্বত্য এলাকায় শক্ত হয়ে বসেছে সিরিয়া সেনাবাহিনীর চতুর্থ ডিভিশন। বলা হয়, এখানটাতেই হাবিলকে হত্যা করেছিল কাবিল। মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞের ভাষ্য ২০১৩ সালে ২১ আগস্ট দামেস্ক শহরতলীর মুয়াদামিয়া ও আইন তার্মা এলাকায় যে গ্যাস রকেট হামলে পড়েছিল সেটা নিক্ষেপ করা হয়েছিল ওই ক্যাসিওন পর্বতেরই কোনো এক জায়গা থেকে। ওই হামলায় নিভে যায় এক হাজার ৪০০ মানুষের জীবন। সঙ্ঘাতের শুরু থেকে এ রকম বহু হামলা কেড়ে নিয়েছে লক্ষাধিক প্রাণ।

বাগদাদ:

টাইগ্রিস নদীর তীক্ষ বাঁকে পুরাতন প্রাসাদ এলাকার ঠিক পেছনটাতে তথাকথিত গ্রিন জোন গড়ে তোলে মার্কিন বাহিনী। সেনা প্রত্যাহারের দুই বছরের মাথায় ওই জোনের নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসে ইরাকিদের হাতে। আগ্রাসনের পর ইরাকে যখন বিশৃঙ্খলা-হত্যাযজ্ঞ চরমে, তখন এই গ্রিন জোনে নিরাপদে আশ্রয় নিত মার্কিনিরা। এত দিন পরও পরিস্থিতির সামান্যই উন্নতি হয়েছে। দেয়ালের ওপাশে ‘রেড জোনে’ মৃত্যু হয়ে উঠেছে নৈমিত্তিক। গত বছরও সংখ্যাটা ছিল ৮ হাজার ২ শ’রও বেশি।

সব আরবদেরই খুব প্রিয় জায়গা লেবাননের রাজধানী বৈরুত। সুদীর্ঘ সময় ধরে আরব সংস্কৃতি আর সঙ্ঘাতের মিশ্র প্রতীক হয়ে আছে এই শহর। ধর্মভীরু বা সেকুলার, মুসলিম কী খ্রিষ্টান, শিয়া কিংবা সুন্নি সবই আছে এখানে। লিবিয়া আর সিরিয়ার সঙ্ঘাত, মিসর-ইরাকের চলমান অস্থিরতা বিবেচনায় নিলে একটি প্রশ্নই উঠে আসে : সঙ্ঘাতের আশঙ্কা কি পেরিয়ে এসেছে বৈরুত; নাকি সহিংসতার পরবর্তী কেন্দ্র হয়ে উঠবে সে?

২০১১ সালের বিদ্রোহের দুই বছর পরও মধ্যপ্রাচ্যে হতাশা যত প্রকট, এমনটা আর কখনই ছিল না। এ অঞ্চলে এমন দেশ নেই বললেই চলে যেখানে বিগত কয়েক দশকে যুদ্ধ হয়নি কিংবা অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের মুখোমুখি হয়নি যে দেশ। নিকট ভবিষ্যতেও সহিংসতার কবল থেকে তারা যে মুক্ত হতে পারবে, তেমন সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। আরব বসন্ত নামে পরিচিতি পেয়েছে যে আন্দোলন সেটাও পাল্টা বিদ্রোহের চোরাবালিতে হারিয়ে যেতে বসেছে।

এই পাল্টা বিদ্রোহ কেবল তাদেরই চমকে দেবে যারা তিউনিসিয়া, লিবিয়া, মিসর আর সিরিয়ার বিদ্রোহকে কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহাসিক একটা পটপরিবর্তন হিসেবে চিন্তা করেছিলেন। আসলে এটা এক শতাব্দী ধরে বিরতিহীনভাবে চলমান আঞ্চলিক সঙ্ঘাতেরই একটা সাম্প্রতিক অধ্যায় মাত্র। আর সেই অর্থে এটা কখনো শেষও হবে না।

ইংল্যান্ড-ফ্রান্সের সন্তানেরা:

পুরোটা পড়তে এই লিংকে প্রবেশ করুনঃ যেভাবে রোপিত হয় অন্তহীন সংঘাতের চারাগাছ

মধ্যপ্রাচ্যঃ যেভাবে রোপিত হয় অন্তহীন সংঘাতের চারাগাছ ছাড়া আরোও পড়ুন-

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। আমাদের সাইট থেকে কপি হয়না তাই পোস্টটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখতে পারেন।