ব্যাংক ফোকাস রাইটিং মুদ্রানীতি – (২০২০ – ২১)

পৃথিবী রক্ষায় জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা প্রস্তাব
Content Protection by DMCA.com

ব্যাংক ফোকাস রাইটিং মুদ্রানীতি – (২০২০ – ২১)।

“মুদ্রানীতি হতে হবে তথ্যনির্ভর, অর্থের আদান – প্রদানের সুসম্পর্কিত বিবরণী এবং সর্বোপরি এটাই নিশ্চিত করবে যে, এই নীতি মুদ্রাস্ফীতির অস্থিরতাবর্জিত।”

‘গীতা গোপিনাথ, প্রধান অর্থনীতিবিদ – আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল’

অদেখা আপদ করোনাভাইরাসের প্রলয়তাণ্ডবে প্রবর্ধমান বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন পর্যুদস্ত, ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির আধিক্য যখন অর্থনীতির শুভচিত্র ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক দেশ হওয়ার চিরায়ত সংকল্পকে ম্লান করে দিচ্ছে, তখন বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধি তথা ঋণের জন্য হাপিত্যেশ দূরীকরণে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অপরিবর্তিত রেখে ২০২০ – ২১ অর্থ বছরের জন্য সম্প্রসারণমূলক এবং উপকারক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে দেশের সকল ব্যাংকের অপরাজেয় অভিভাবক -বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৪ দশমিক ৮ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, অন্যদিকে সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

মুদ্রানীতির সাতসতেরোঃ

“ঘোষিত মুদ্রানীতির ফলে ব্যাংকরেট, রেপো ও রিভার্স রেপোর সুদ হার কমানোর ফলে ব্যাংকগুলোর ঋণ সক্ষমতা যথেষ্ট বৃদ্ধি পাবে।তবে এসব ঋণ যাতে উৎপাদনমুখী, কর্মসৃষ্টি সহায়ক ও পরিবেশবান্ধব হয়, ব্যাংকগুলোকে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।”

~ ফজলে কবির, সম্মাননীয় গভর্নর – বাংলাদেশ ব্যাংক ~

যেকোনো দেশের ব্যাংক ঋণের ভিত্তি সুদ হলো ব্যাংক রেট।দীর্ঘ ১৭ বছর পর ব্যাংক রেটে পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।৫ শতাংশ সুদ থেকে এটিকে ৪ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

একই সঙ্গে কমানো হয়েছে নীতি সুদহারও।৫ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে রেপোর সুদহার নামানো হয়েছে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে।এক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হয়েছে দশমিক ৫০ শতাংশ।

আবার দশমিক ৭৫ শতাংশ কমানো হয়েছে রিভার্স রেপোর সুদ। এ সুদহার ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৪৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের প্রলয়ডঙ্কা ও উত্তর – মধ্যাঞ্চলে বন্যার তীব্র প্রকোপ -এই দুই মিলিয়ে চলমান অর্থনৈতিক সংকট আরো ত্রাসজনক হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ঘোষিত মুদ্রানীতি বাস্তবায়নে করোনা ও বন্যা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

ঘোষিত মুদ্রানীতিতে অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯দশমিক ৩ শতাংশ।এর মধ্যে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ ধরা হয়েছে সরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি।

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির বার্ষিকলক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮শতাংশ। তবে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ১১ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। রিজার্ভ মুদ্রার প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

মুদ্রানীতি বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা এবং দূরীকরণের পরিখ্যাত উপায়ঃ

“ঋণ বিতরণের সুব্যবস্থাপনা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। মুদ্রানীতিতে এসএমই, কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে ঋণ বিতরণের জন্যব্যাংকগুলোকে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সেটি বাস্তবায়নের টাইমফ্রেম বেঁধে দেয়া প্রয়োজন। অন্যথা, মুদ্রানীতির সুফল বেসরকারি খাত পাবে না।”

~ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, সাবেক গভর্নর – বাংলাদেশ ব্যাংক ~

বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ থমকে গেছে।কয়েক বছর ধরেই মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল থাকছে না। এবার বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৪শতাংশের বেশি। অথচ বিশাল এ লক্ষ্যমাত্রা কীভাবে অর্জিত হবে, সে বিষয়ে কোনো রূপরেখা নেই।

মুদ্রানীতিতে এসএমই, কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে ঋণ বিতরণের জন্য ব্যাংকগুলোকে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সেটি বাস্তবায়নের টাইমফ্রেম বেঁধে দেয়া যেত।

লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে, সেটির বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য থাকতে পারত কিন্তু সে ধরনের কিছু মুদ্রানীতিতে পাওয়া যায়নি।সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে ক্রমাগত ঋণ নিচ্ছে।এটিকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বেসরকারিখাতে ঋণ না দিয়ে সরকারকে ঋণ দিতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে।

আগামীতে এ প্রতিযোগিতা আরো বাড়বে। এতে বেসরকারি খাত বঞ্চিত ও উপেক্ষিতই থেকে যাবে।

তাই, করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ ও বেসরকারি খাতের আস্থা ফেরানো বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকর্ষ লক্ষ্য হওয়া প্রয়োজন। সবচেয়ে অত্যাবশ্যক হলো, সময়মত অর্থায়নের ব্যবস্থা করা। তাছাড়াও, অনানুষ্ঠানিক খাতে সহজ অর্থায়নের প্রকর্ষ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

শেষ লেখাতে বলা যায় যে, মুদ্রানীতি (২০২০-২১) এর প্রতীয়মান লক্ষ্য তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধি এবং তহবিল ব্যয় কমানো। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাণ্ড ও প্রকৃষ্ট চ্যালেঞ্জ হলো সঠিক ও উৎকর্ষ পরিকল্পনার সমন্বয় ঘটিয়ে মুদ্রানীতির সুবাস্তবায়ন।

ঘোষিত মুদ্রানীতির যথোচিত প্রয়োগ কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতির ট্রান্সমিশন চ্যানেল বা প্রয়োগ পথগুলো সুগম করবে বলে আমরা আশাবাদী। করোনাকালীন বাস্তবতায় পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভেবেচিন্তে যথার্থত মুদ্রানীতি প্রণয়ন করবে এবং নতুন মুদ্রানীতি দেশের অর্থনীতিতে কুদরত প্রদর্শন করে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে – এটাই বহুল অভিপ্রেত প্রত্যাশা।

আরও পড়ুনঃ 

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।