বিসিএস ভাইভা প্রস্তুতি নির্দেশনা: মোঃ সাইদুজ্জামান হিমু

বিসিএস ভাইভা প্রস্তুতি
Content Protection by DMCA.com

বিসিএস ভাইভা প্রস্তুতি নির্দেশনা: মোঃ সাইদুজ্জামান হিমু

প্রথম পর্বঃ
বিতর্কিত কোনো উত্তর ভুল করেও দেওয়া যাবে না
মোঃ সাইদুজ্জামান হিমু নেজারত
ডেপুটি কালেক্টর ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ।

ভাইভা নিয়ে কমবেশি টেনশন করে না এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া কষ্টসাধ্য। এই ভয়টা ভাইভার সাধারণ শিষ্টাচারবহির্ভূত নয়! তবে অতি টেনশনে হ-য-ব-র-ল করা যাবে না। কথা বলব বিসিএস ভাইভা নিয়ে। টিপস না, বরং অভিজ্ঞতা শেয়ার বলা যেতে পারে।

বিসিএস ভাইভার প্রস্তুতিমূলত তিন প্রকার। প্রথমেই আসে একাডেমিক বা জ্ঞানভিত্তিক প্রস্তুতি। এটার মধ্যে আপনার বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা, ক্যাডার চয়েস, আপনার জেলা, মুক্তিযুদ্ধ, পারিপার্শ্বিক সবকিছু অন্তর্ভুক্ত। তাই আপনার ক্যাডার চয়েজের (প্রথম দুটি তো অবশ্যই আর সম্ভব হলে তৃতীয় চয়েজও) ব্যাপারে সম্যক ধারণা থাকতে হবে, আর সেটি কীভাবে পঠিত বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত তা ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। নিজ জেলার ইতিহাস, বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, কবি-সাহিত্যিক, জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, দর্শনীয় স্থান এগুলো জানা থাকতে হবে ভালোভাবে।

আপনার Alma Mater অর্থাৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিখ্যাত কোনো শিক্ষক/ছাত্র/গবেষক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মুক্তিযুদ্ধ জড়িত কোনো বিশেষ ঘটনা এগুলো জেনে যাওয়া ভালো।

এ ছাড়া আপনার ক্যাডার চয়েজের বর্তমান শীর্ষস্থানের কর্তাব্যক্তি সম্পর্কে, সমসাময়িক রাজনৈতিক ঘটনা আর আন্তর্জাতিক ঘটনার ব্যাপারে আলোকপাত করতে হবে। আর যাদের ফরেন ক্যাডার প্রথম চয়েজ তাদের বৈশ্বিক ঘটনাবলি, কূটনৈতিক ইস্যু, বিশ্ববাণিজ্য ইত্যাদি ভালোভাবে আয়ত্ত থাকতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিশেষ করে ছয় দফা, ’৬৯-এর অভ্যুত্থান, স্বাধীনতার ঘোষণা এগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সঠিকভাবে জানা থাকতে হবে। এসব প্রশ্নের উত্তরে কোনোভাবেই ভুল করা যাবে না কিংবা বিতর্কিত কোনো উত্তর ভুল করেও দেওয়া যাবে না। সো বি কেয়ারফুল!

নিজের ব্যাপারে, নিজের পরিবার, পড়াশোনা অর্থাৎ ইনট্রোডিউসিং ইয়োরসেলফের উত্তর আগে থেকেই গুছিয়ে যাবেন। এগুলো ইংরেজিতে ভালোভাবে ঝালিয়ে যাবেন। আপনাকে ইংলিশে অনেক ফ্লুয়েন্ট হতে হবে এমন না, বরং এভারেজ স্পিডে স্পষ্টভাবে ইংরেজিতে বলতে পারলেও হবে। সে জন্য ভাইভার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই ইংরেজিতে কথা বলা প্র্যাকটিস করুন।

দ্বিতীয় পর্বঃ
ভাইভা বোর্ডে বিনয় আর আন্তরিকতায় কথা বলতে হবে
মোঃ সাইদুজ্জামান হিমু নেজারত
ডেপুটি কালেক্টর ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ

আপনার শখ, কবি, সাহিত্যিকের ব্যাপারেও প্রিপারেশন নিতে হবে। অনেকের কবিতা কিংবা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা না থাকলেও অন্তত ভাইভার খাতিরে দুই-চারটি পড়তে হবে- যাতে বোর্ড আপনাকে চরম বেরসিক প্রমাণ না করতে পারে!

এবার আসি ব্যক্তিত্বের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে। আপনি অনেক কিছুই জানেন, পারেন কিংবা আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড খুব ভালো। কিন্তু আপনার অ্যাটিচিউড বা প্রকাশভঙ্গির কারণে সব ম্লান হয়ে যেতে পারে।

একটি ব্যাপার মনে রাখবেন, ভাইভা বোর্ড আপনি সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাচ্ছেন, এটি আশা করে না, বরং কীভাবে বিনয় আর আন্তরিকতার সঙ্গে আপনি চেষ্টা করছেন, সেটিও খোঁজে। ভাইভা বোর্ডে আপনাকে বিনয়ী হতে হবে অবশ্যই। আর এই বিনয়টা শুধু ভাইভা বোর্ডে নয়, বরং জীবনের সব ক্ষেত্রে ধরে রাখলে আপনার লাভ ছাড়া ক্ষতি হবে না। আপনার পোশাক, কথাবার্তায় মার্জিত হতে হবে। যে কোনো ধরনের আরগুমেন্ট থেকে বিরত থাকতে হবে। বোর্ড বাংলায় প্রশ্ন করলে বাংলায় উত্তর দেবেন আর ইংরেজিতে করলে ইংরেজিতে। কোনোভাবেই ওভার স্মার্টনেস দেখানো যাবে না।

এবার আসি শেষ প্রস্তুতিতে। এটি হলো ভাগ্যের প্রস্তুতি। ভাগ্যের আবার প্রস্তুতি কী! আমার হাইস্কুলের এক শিক্ষক বলতেন, ‘ভাগ্যের চাষ করো!’ সেটি কীভাবে? আপনি সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করুন। বারবার সৃষ্টিকর্তার কাছে চাইতে থাকুন। কী চান, সেটিও স্পেসিফিকলি বলুন। যেমন- আপনি চাইলেন, আমার ভাইভা ভালো হোক। ভাইভাও ভালো হলো। কিন্তু চাকরিটা হলো না। এর চেয়ে বরং বলুন- ভাইভা যেমনই হোক, আমার যেন চাকরিটা হয়। চাওয়ার ক্ষেত্রেও বি স্পেসিফিক!

শেষ কথা: ভাইভা রিলেটেভ দুই-তিনটি প্রকাশনার বই কিনে ফেলুন। প্রথম চয়েজ রিলেটিভ একটি বই ডিটেইল পড়ুন। এ ছাড়া কিছু রেফারেন্স বই আছে। রেফারেন্স বই না পড়তে পারলেও সেগুলোর সামারি টাইপ বই বাজারে পাওয়া যায়। এগুলো পড়ে ফেলুন। প্রচুর ভাইভা অভিজ্ঞতা পড়ুন। এ ক্ষেত্রে ৪৫জন সফল ক্যাডারদের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে ‘ভাইভা বোর্ডের মুখোমুখি’ বইটি দেখতে পারেন।
শুভ কামনা রইল।

আরোও পড়ুনঃ 

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।