বিসিএস ভাইভা: কমন-নন ইনফরমেটিভ প্রশ্নের উত্তর

17
টিপস
Content Protection by DMCA.com

বিসিএস ভাইভা প্রস্তুতি
৪০তম বিসিএস ভাইভা পরীক্ষার্থীদদের জন্য কিছু নমুনা প্যাটার্ন
সৌজন্য
Shamim Anwar,
ASP (RAB), 34th BCS (Police) at Rapid Action Battalion – RAB
বিসিএস ( শিক্ষা) (৩৩তম বিসিএস )

ভাইভাপ্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো ননইনফরমেটিভ, কমন এবং সমকালীন আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নসমূহের যুতসই উত্তর ঠিক করে নেওয়া। এ ধরনের প্রশ্নের তালিকা হয়তো ইতোমধ্যে আপনারা বহুজনের কাছ থেকে বহুবার বহুভাবে পেয়েছেন।

এসব প্রশ্নের উত্তর ইউনিক হতে হবে, গাইডবই থেকে মুখস্থ করে দেওয়া চলবে না, এক ঘেয়ে লাগে এমন বাক্য বিন্যাস ব্যবহার বর্জন করতে হবে- এ ধরনের হাজারো আপ্তবাক্যও ইতোমধ্যে নিশ্চয়ই আপনাদের জানা।

তাই প্রচলিত পদ্ধতির উপদেশ -পরামর্শের দিকে না গিয়ে আমি বরং নিজের জন্য যেভাবে এ প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রস্তুত করেছিলাম, সেটিই শেয়ার করে ফেলি। ( এর মধ্যে অনেকগুলোই আমি গ্রুপে বিভিন্ন জনের পোস্টে কমেন্ট আকারে লিখেছিলাম)। আপনাদের কতটুকু কাজে আসবে, জানি না।

তবে শিক্ষাজীবন শেষ করে আসা এ পর্যায়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রী প্রাপ্ত একজন মানুষকে উপদেশ /পরামর্শ দেওয়ার বদলে তার সাথে সরাসরি নিজের ধ্যানধারণা শেয়ার করলেই তা অধিক ফলপ্রসূ হবে বলে আমার ধারনা।

১. Introduce yourself :

বোর্ডে যাওয়ার পর ৯০% ক্ষেত্রে এটিই প্রথম প্রশ্ন হয়ে থাকে। তাই এর নিখুঁত ও কুশলি উত্তর তৈরি করে নিতে ভুল করবেন না। উত্তর তৈরির সময় নিম্নোল্লিখিত বিষয়সমূহ বিবেচনায় রাখুন-

১.নাম: My name is ‘kazi dilshad’. ( I am kazi dilshad বলা হতে বিরত থাকা উত্তম)

২. বাবামায়ের নাম ও পেশা : Both my father…(নাম) and my mother…(নাম) are teacher. অথবা my father… is teacher and my mother…. is housewife.

৩. ভাইবোনের সংখ্যা ও নিজের অবস্থান : I am youngest after my 4 elder sisters

৪. উপজেলা ও জেলা: I am from kumarkhali upozilla of kustia district

৫. পড়াশুনা : I have taken/ pursued my graduation and postgraduation from the department of finance of Dhaka university on 2011. ( সিজিপিএ ভাল হলে উল্লেখ করবেন, না হলে দরকার নাই।) Before that I have passed ssc and hsc examination under jessore board ( সিজিপিএ ভাল হলে….)

৬. বর্তমান পেশা: Now I am teaching in kustia govt college passing 30th bcs in education cadre( যারা জবে আছেন, তারা এই লাইনটা যোগ করবেন)
( সাধারণত দুতিন লাইন বলার পরই এ প্রশ্নগুলোর উত্তর থামিয়ে দেওয়া হয়। না থামালে চালিয়ে যান)

৭. hobby :

৮. আপনার প্রথম পছন্দের ক্যাডারে চাকুরি করতে চাওয়ার পেছনে ইমোশনাল কোন ব্যাপারস্যাপার ( মায়ের স্বপ্ন/ নানার আশা/ বাবার সারাজীবনের চাওয়া) থাকলে সংক্্ষেপে সে বিষয়ে-

৯. আপনার বিশেষ কোন গুন ( গান করা/ কবিতা আবৃত্তি / বিতর্ক / অভিনয়)থাকলে সে বিষয়ে।

১০. আপনি একাধিকবার বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকলে/ ভাইভা দিলে সেটি উল্লেখ করুন, যেন স্যাররা বুঝতে পারেন আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে কতটা মরিয়া।

১১. বলার সময় এমন ভংগি বজায় রাখতে সচেষ্ট হোন যাতে মনে হয় মুখস্থ করে নয়, উত্তরটি আপনি তাতক্ষণিকভাবেই দিচ্ছেন। প্রয়োজনবোধে সুকৌশলে টুকটাক দৃষ্টিনন্দন ম্যাম্বলিং করুন- যেমনটা বারাক ওবামা কোন বিষয়ে কথা বলতে গেলে করে থাকেন, এ বিষয়ে ধারণা না থাকলে ইউটিউব থেকে উনার কোন ভিডিও নামিয়ে দেখতে পারেন। ( এখন কি বলবেন, ইউটিউবের ভিডিও কিভাবে সেভ করে সেটাও শিখিয়ে দেন???) রোবটের মত গড়গড় করে কথা বলে যাবেন না।

২. Journey to psc how did you come here?

Thank you sir. very short journey indeed. ( মুখে বিগলিত হাসি মেখে)। last night I along with my father, resided in a uncle’s house in taltala, very adjacent place to psc office. As the distance is minimum and quite known, we were not in hurry, at about 8 am, we hired a rickshaw for 30 taka and immediately reached before psc office by 15 minutes.

After waiting for a while, a psc official told us to have entry in the hall room. before entrance, my father kept his hand on my head and gave me some advice to keep my brain calm during viva. ( গম্ভীর ভাবে) ।

By the way, at entrance someone warned us again and again not to convey any mobile or bag with us ( হঠাত মুড চেঞ্জ করে, হাসি মুখে)। after waiting around one hour, an officer announced my range of roll number and directed to follow a person. we pursued him and reached here.

(আমি আমারটাই বলেছি। এবং মন থেকে বিশ্বাস করি এ জাতীয় প্রশ্নের উত্তর যত লাইভ হবে, ততই স্যারদের পছন্দসই হবে। এ ধরনের অন্যপ্রশ্নগুলোর উত্তরও একই ভাবে সাজিয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন, যেন বুঝা যায়, আপনি সত্যিটা বলছেন। কোন গাইডটাইড থেকে মুখস্থ করেন নি।)

৩. সাবজেক্ট ফার্স্টচয়েস সম্পর্ক:

এক্ষেত্রে আপনার নিজের রিয়ালাইজেশনটাই গুরুত্বপূর্ণ। গভীরভাবে ভেবে দেখুন আপনার পঠিত বিষয়ের সাথে আপনার ক্যাডার চয়েসের কর্মপরিধির কোন রকম মিল পাওয়া যায় কিনা। উত্তর দেওয়ার সময় সেটি উল্লেখ করুন।

মনে রাখবেন: বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায়, ফার্স্ট চয়েস ও নিজের বিষয়ের উল্লেখযোগ্য কোন মিল খুজে পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে এটা নিয়ে অনেক প্রার্থীই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে আমি বলব, জোর করে সম্পর্ক নির্ধারণের বদলে সত্যিটা স্বীকার করে নেওয়াই আপনার জন্য মঙ্গলজনক হবে।

স্যাররা অনেক সময় উত্তরের চেয়েও আপনার প্রকাশভঙ্গী ও কঠিন পরিস্থিতিততে আপনার প্রতিক্রিয়া জাজ করতে এ ধরনের প্রশ্ন করে থাকতে পারেন। তাই উত্তর দেওয়ার সময় সচেতন থাকুন। (আমি এখানে আমার নিজের চিন্তাধারার ভিত্তিতে দুয়েকটা সম্পর্ক উল্লেখ করলাম। আপনারা নিশ্চয়ই এর চেয়ে ঢের ভাল উত্তর তৈরি করে বসে আছেন-)

১. হিসাববিজ্ঞান ও পুলিশঃ

ধন্যবাদ স্যার। একাউন্টিং হিসাবের দফাসমূহ লিখন, সংক্ষেপকরন, আর্থিক বিবরণীসমূহ প্রস্তুতকরনের সাথে সম্পৃক্ত হলেও এর প্রধান কাজ প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত সব পক্ষের একাউন্টিবিলিটি বা জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরা।

এজন্য একটি প্রবাদ বাক্যই চালু আছে ” Accounting for accountability ”। আর বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি উন্নয়ন ও সেবার মান বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন, সেটি হলো এই একাউন্টেবিলিটি সুনিশ্চিত করন।

আমি পুলিশে যোগ দিতে পারলে এই জবাবদিহিতার উন্নয়নের মাধ্যমে পুলিশকে জনগনের প্রকৃত বন্ধুতে পরিণত করারা লক্ষ্যে আমার অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগানোর সুযোগ পাব।

২. বিজ্ঞানের যে কোন বিষয় ইঞ্জিনিয়ারিং ডাক্তার কৃষি ভেটেরিনারি এবং প্রশাসন ক্যাডার:
ধন্যবাদ স্যার। বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হলো ভিশন২০২১, ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং সেই লক্ষ্যে বিজ্ঞানমনস্ক একটি জাতি গঠন।

আর যেহেতু সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবে রূপায়িত করার দায়িত্ব প্রধানত প্রশাসন ক্যাডারের ওপর বর্তায়, আমি এখানে যোগ দিতে পারলে বিজ্ঞানের একজন ছাত্র হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ও বিজ্ঞানমনস্ক জাতি বিনির্মানের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারব। প্রশাসনে যোগ দেওয়ার পর মোবাইল কোর্ট চালানোর ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান আমাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করবে।

প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য হিসেবে আমাকে বিভিন্ন বিষয়ে ত্বরিত নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আর বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে নিখুঁত, সময়োপযোগী, বিজ্ঞানসম্মত সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়া আমার জানা আছে। ( এর পর নিজের বিষয়ের সাথে রিলেট করে পারলে ২/ ১ টা কথা বলবেন। )

৩. বিজ্ঞানের যে কোন বিষয় ইঞ্জিনিয়ারিং ডাক্তার কৃষি ভেটেরিনারি এবং পররাষ্ট্ ক্যাডার:
ধন্যবাদ স্যার, আমার প্রথম পছন্দ বিসিএস ( পররাষ্ট্র ) আমি পড়াশুনা করেছি ভেটেরিনারি ও এনিমাল সায়েন্স বিষয়ে। দুটোর মধ্যে সুস্পষ্ট কোন সম্পর্ক না থাকলেও এই ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে বৈদেশিক সম্পর্কের উন্নয়ন, প্রবাসীদের কল্যান, সুবিধাজনক আমদানি /রপ্তানি নিশ্চিতকল্পে ত্বরিত নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আর বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে নিখুঁত, সময়োপযোগী, বিজ্ঞানসম্মত সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়া…. । ( এর পর নিজের বিষয়ের…..)

৪. সামাজিক বিজ্ঞানের যেকোনবিষয় ও প্রশাসন ক্যাডার।
ধন্যবাদ স্যার, আমার প্রথম পছন্দ বিসিএস ( প্রশাসন) আমি পড়াশুনা করেছি সমাজবিজ্ঞান /রাষ্ট্রবিজ্ঞান /… বিষয়ে। এই বিভাগের ছাত্র হিসেবে সামাজিক /রাষ্ট্রীয় আচার, ব্যক্তিক ও সামগ্রিক আচরণের বৈশিষ্ট্য, মানুষের আচরনের প্রকৃতিসম্পর্কে ধারণা লাভ করেছি।

আমরা সাংগঠনিক আচরণ নামের একটি কোর্সে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও নেতৃত্বের বিভিন্ন আংগিক সম্পর্কে ধারনা লাভ করেছি বিসিএস প্রশাসন এর সদস্য হিসেবে আমি আমার এই জ্ঞানকে বাস্তবে কাজে লাগিয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাব। একজন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আমি বাল্যবিবাহ/ বহুবিবাহ / যৌতুকপ্রথা/ এসিডনিক্ষেপসহ নানাবিধ সামাজিক সমস্যা নিয়ে কাজ করব, একজন সামাজিক বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে আমি এক্ষত্রে আমার অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারব।

৫. সাহিত্যের যেকোন বিষয় যথা বাংলা ইংরেজি ফারসি উর্দু আরবি এবং বিসিএস প্রশাসন পুলিশ
ধন্যবাদ স্যার, আমার প্রথম পছন্দ বিসিএস ( পুলিশ/প্রশাসন) আমার পড়াশুনা করেছি বাংলাসাহিত্য বিষয়ে। দুটোর মধ্যে সুস্পষ্ট কোন সম্পর্ক না থাকলেও একজন সাহিত্যের ছাত্র হিসেবে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক আচার, ব্যক্তিক ও সামগ্রিক আচরণের বৈশিষ্ট্য, ভাল ও খারাপ প্রকৃতির মানুষ এর অসংখ্য চরিত্র সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছি। বিসিএস পুলিশ / প্রশাসন এর সদস্য হিসেবে আমি আমার এই জ্ঞানকে বাস্তবে কাজে লাগিয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাব।

* তবে ইংরেজি হলে পুলিশ শান্তিমিশন ও আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা যথা: ইন্টারপোলে কাজ করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে পারেন।

৪. আরো কিছু প্রয়োজনীয় টপিক ও প্রশ্ন:

> প্রেসিডেন্সিয়াল বোর্ডে ভাইভাঃ আশংকার আসলেই কি কিছু আছে?

এ বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিনে গ্রুপের অনেকেই ইনেক ধরনের মন্তব্য করেছেন।
আমি আপনাদের ডিসকাশনের মধ্যে একটা বিষয় যোগ করতে চাই। প্রথম দুদিনের কম্বাইন্ড বোর্ডের ভাইভা ( কে বা কারা নাম চালু করে দিয়েছে প্রেসিডেনশিয়াল ভাইভা) তে যেহেতু পিএসসির সকল সম্মানিত সদস্য উপস্থিত থাকেন,এখানে আপনি সব প্রশ্নের উত্তর করতে পারেন বা না পারেন, এত এত প্রাজ্ঞ -অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের সামনে সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী ভাইভা দেবার মত বুকের পাটা রাখার পরিচয় যদি দিতে পারেন, তাহলে সাধারণ বোর্ডগুলোর সেম পারফর্মেন্স এর প্রত্যাশিত নম্বরের তুলনায় অধিক নম্বর আশা করতেই পারেন।

কারন আপনার ওপর অন্তহীন চাপ এবং তার বিপরীতে আপনার তরফে প্রদর্শিত মানসিক দৃঢ়তার ব্যাপারটি বোর্ড অবশ্যই বিবেচনা করবেন, নিশ্চিত থাকুন। তাই এ বোর্ডের জন্য নির্বাচিত হওয়া অসীম চাপের পাশাপাশি সাহসী ও উচ্চাভিলাষী প্রার্থীর জন্য ক্যাডার নিশ্চিতকরনের অনন্য একটি সুযোগ ও বটে। সবমিলিয়ে এটিকে নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার কোন অবকাশ নেই।

আপনি কি ঘুষ খাবেন? ( প্রধানত, পুলিশ ও এডমিনের ক্ষেত্রে)
ধন্যবাদ স্যার। আমার বাবা-মা দুজনই শিক্ষক। আমি ছোটবেলা থেকে তাদের আদর্শেই বড় হয়েছি। যেখানে কোন অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জনের মানসিকতা বা লোভের স্থান নেই। বাবা-মা’র পথ অনুসরণ করে মানুষের কল্যানে, দেশের সেবায় আজীবন কাজ করে যাওয়াই আমার ব্রত।

কোনপ্রকার ঘুষ বা দুর্নীতি নয়, আমার বাবা মা তাদের জীবনে যা যা করে গেছেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্য হিসেবে সেটি ভিন্ন আঙ্গিকে করার লক্ষ্যেই আমি পুলিশে যোগ দিতে চাই। স্যার, ছোটবেলায় স্কুল থেকে ফেরার সময় একবার বন্ধুদের সাথে রাস্তার পাশের গাছ থেকে আম পেড়ে তা খেতে খেতে বাড়িতে এসেছিলাম।

আমার বাবা সেটি শুনে পকেট থেকে টাকা বের করে আমার হাতে দিয়ে, বাজার থেকে এককেজি আম কিনে ওই গাছের মালিকের বাড়িতে দিয়ে আসতে বলেছিলেন। স্যার, এই আদর্শই আমার আদর্শ। আর তাছাড়া প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে সরকার তো আমাকে মাসে মাসে বেতন দেবে, স্বচ্ছল ও সাধারণ জীবন যাপনের জন্য যা আমার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত হবে বলেই আমার ধারণা।

যেহেতু আমার অনৈতিক কোন উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই এবং অনাড়ম্বর ও সীমিত চাহিদার একটি শৈশবই আমার বেড়ে ওটার ইতিহাস, তাই বাবা-মায়ের মহান আদর্শের অনুসরণকারী শিক্ষিত, সচেতন ও এ দেশের গর্বিত নাগরিক হিসেবে ঘুষ খাওয়া বা দুর্নীতি করা নয়, বরং এর প্রতিরোধে কাজ করে যাওয়াই আমার সারা জীবনের লক্ষ্য। ( বাবা-মা ভিন্ন পেশায় থাকলে আপনারটা আপনি নিজের মত করে তৈরি করে নিবেন।)

> বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সেসচিবপদমর্যাদা পাবার লক্ষ্যে আন্দোলন করছেন, সেটাকে আপনি কোন দৃষ্টিতে দেখেন?

ধন্যবাদ স্যার। শিক্ষাই একটি জাতির উনয়নের মূল হাতিয়ার । আর একটি শিক্ষিত জাতি গঠনে শিক্ষকবৃন্দই প্রধানতম ভূমিকা পালন করে থাকেন।তাই সার্বিক দৃষ্টিকোন থেকে শিক্ষকদের গুরুত্ব উপলব্ধি করে বিশ্বের সকল সভ্য জাতি তাদের জন্য উচ্চ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করেছে। আর তাছাড়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সামান্যতম কিছু বিচ্যুতি ছাড়া ক্লাসের সর্বোচ্চ মেধাবী ছাত্রটিই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভের সুযোগ পেয়ে থাকে।

সেক্ষেত্রে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ পদ অধ্যাপকের সাথে দেশের সবচে মর্যাদাসম্পন্ন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক চাকুরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগদানককারী একজন কর্মকর্তার সর্বোচ্চ পদের সমমর্যাদা বিধান অবশ্যই খুবই যুক্তিসংগত ও ন্যায্য দাবী ।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষকদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া সরকারি কর্মকর্তাদের পদোন্নতির নীতিমালা র সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একজন কর্মকর্তা যেখানে ২৫ /৩০ বছর চাকুরী জীবন শেষে সচিব পদে উন্নীত হতে পারেন, সেখানে একজন প্রভাষক দেখা যায় ১০/১২ বছরেই অধ্যাপক হয়ে যান।

তাছাড়া সব রকমের যোগ্যতা থাকার পরও সবাই সচিব হতে পারেন না। গুটি কতক কর্মকর্তাই সে সম্মান লাভের সুযোগ পান। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রায় সব শিক্ষকই একসময় অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। তাই একজন শিক্ষকের অবধারিতভাবে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি এবং অধ্যাপক পদপ্রাপ্ত শিক্ষকের বিপুল সংখ্যাই সীমিত সংখ্যক সচিবের সাথে সমমর্যাদা বিধানের পথে প্রধান প্রতিবন্ধক।

তাই এই দেশের বাস্তবতায় আমি মনে করি, ঢালাও ভাবে অধ্যাপক পদকে সচিবের সমমর্যাদা না দিয়ে নির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় এর স্বল্প সংখ্যক জ্যেষ্ঠতম অধ্যাপককে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে সচিবদের সমান মর্যাদা দেওয়া যেতে পারে।[ ভাইয়েরা, শিক্ষকদের দাবি সঠিক, নাকি আমলাদের অবস্থান- সেই বিতর্ক দেশের মহাজ্ঞানী-গুণী পণ্ডিত ব্যক্তিদের জন্য তোলা থাকুক।

মনে রাখবেন, শিক্ষক বড় ইমোশনের জায়গা, তাদের বিপক্ষে যায় এমন কিছুই বলা যাবে না, আবার আপনার ফার্স্ট চয়েস প্রশাসনকেও ছোট করা যাবে না। শিক্ষকদের অসম্মান না করে এবং আমলাদের না চটিয়ে গ্রহণযোগ্য একটা উত্তর দিয়ে ( ইংরেজিতে sitting on the fence) বোর্ডকে স্যাটিসফাই করে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌছানোই হল আপনার লক্ষ্য।

তাই আধাঘণ্টা সময়ের জন্য তাদের কারো প্রতি আপনার অনুরাগ বা বিরাগ ভুলে যান। জেনে রাখুন, ভাইভাবোর্ডে ভার্সিটির টিচার এবং আমলা দুই শ্রেনীরই প্রতিনিধিত্ব থাকার চান্স ৯০%। তাই বেমওকা কিছু বলে কারো বিরাগভাজন হতে যাবেন না।]

> ফ্লুয়েন্সি ইন ইংলিশঃ এই মুহূর্তের করণীয়

অনেকেই আছেন, লেখার সময় যেমন তেমন, ইংরেজিতে কিছু বলতে গেলে গায়ে রীতিমতো জ্বর উঠার উপক্রম হয়। ( আমিও ভাই আপনাদেরই দলের লোক)।

নিজে তো কোনদিন মনযোগ দিয়ে ইংরেজিতে দু লাইন কথা বলার চেষ্টা করেনই নি, বরং বন্ধুমহলের কেউ সেটি করতে গেলে ক্রমাগত টিটকারিততে তাকে জেরবার করে ছেড়েছেন। আর এখন
হয়তো পররাষ্ট্র ফার্স্ট চয়েস দিয়ে বিপদে পড়েছেন। ভাবছেন, করণীয় কী!!

মনে রাখবেন, স্পোকেন ইংলিশ মূলত দীর্ঘদিনের নিরবিচ্ছিন্ন চর্চার সাথে সম্পর্কিত একটি ভাষিক দক্ষতা। কোনদিন ইংরেজি কথোপকথনের ধারেকাছে দিয়েও যান নি, আর এখন এই অল্প দিনে ইংরেজির জাহাজ বনে যেতে চাচ্ছেন!!! স্বয়ং অনন্ত জলিল আসলেও আপনার এই দিবাস্বপ্ন বাস্তবায়ন করে দিতে পারবেন না। প্রথমেই এ বিষয়টি মন থেকে কবুল করে নিন।

( “তাহলে আর কী! আমাকে দিয়ে কিচ্ছুটি হবে না!!! আমি এক ফার্স্টক্লাস অপদার্থ ” ভেবে হাল। ছেড়ে দিবেন??) আরে মিয়া, এত ইমোশনাল হয়েন না তো! একটা তথ্য জেনে রাখুন, যে কোন বিষয়ে ফটাফট ইংরেজি বুলি ছাড়তে পারেন না, কিন্তু স্বল্পসময়ের সঠিক ও কৌশলী প্রস্তুতিতে আপনার-আমার মতো অনেকেই পররাষ্ট্র ক্যাডারে উতরে গেছেন, আর ভুল প্রস্তুতি কৌশল এবং ‘ ইংলিশে যেভাবে প্রশ্নই করুক, আমাকে আটকাতে পারবেনা’ টাইপ অহমিকায় অনেক ইংরেজির জাহাজই হালে পানি পান নি, এমন উদাহরণ আছে ভুরিভুরি।

তাহলে কী হতে পারে সেই প্রস্তুতি কৌশলের আঙগিক, আশপাশে এমন অনেক বড়ভাইকেই আপনি খুঁজে পাবেন, যারা আপনাকে এ প্রশ্নের জুতসই জবাব ও সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারেন। আমি এ প্রসঙ্গে আমার চিন্তাধারাটা একটু শেয়ার করি

(ক) পূর্বনির্ধারিত ননইনফর্মেটিভ কমন প্রশ্নগুলোর উত্তর তো কাস্টমাইজড করে লিখে মুখস্থ করেই যাবেনই। এক্ষেত্রে ইংরেজির দক্ষতার চাইতে মুখস্থ বিদ্যাটাই বেশি কাজে লাগবে। এ বিষয়ে উপরে আলোচনা করা হয়েছে।

(খ) ফার্স্ট চয়েস ( পররাষ্ট্র /পুলিশ /প্রশাসন) বিষয়ক , মুক্তিযুদ্ধ, নিজ জেলা, একাডেমিক ( অনার্স/মাস্টার্স পর্যায়) বিষয়াদি সম্পর্কিত :

১. প্রথমেই ৩/৪ জন মিলে একটি গ্রুপ তৈরি করুন (ভাই , মাফ করা যায় না!! এই গ্রুপ- গ্রুপ,-গ্রুপ শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেল, নতুন কিছু থাকলে বলেন!!”) ইমোশনাল হয়েন না ভাউ, বলতেছি।

২. উল্লিখিত টপিকসমূহের প্রধান প্রধান প্রশ্নগুলোর একটা তলিকা করে ফেলুন। যেমন : মুক্তিযুদ্ধ -২০টি, ফার্স্ট চয়েস রিলেটেড -৩০/৪০ টি, জেলা- ৫ টি, একাডেমিক ১৫ টি ( এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সমূহের একটা আউটলাইন আমার শেয়ার করার ইচ্ছা আছে)

৩. এবার প্রতিদিন অন্যান্য সাধারণ প্রস্তুতির পাশাপাশি এই তালিকা থেকে সুনির্দিষ্ট ৮/১০ টি করে প্রশ্ন ইংরেজিতে পড়তে থাকুন। ইংলিশ কন্টেন্ট না পেলে গুগল মামার ভাইগ্না হন।উনি দিয়ে যাবেন।

৪. রাতে গ্রুপ মেম্বাররা ( মোবাইল কনফারেন্স / স্কাইপ/ একত্র হয়ে) এই প্রশ্নগুলোর উপর একজন একজন করে আলোচনা করুন। অন্যরা মনযোগ দিয়ে শুনুন।

৫. মাঝেমাঝে গ্রুপ মেম্বাররা দৈনন্দিন বিষয়াবলী ও আলোচনার তালিকায় স্থান দিতে পারেন ( একঘেয়ে মি কাটানোর জন্য। আমি সবসময়ই মনে করি, এটার কোন প্রয়োজন নেই।)

৬. দিনে অন্ততপক্ষে একবার হলেও কিছুক্ষণের জন্য বিবিসি / ভয়েস অব আমেরিকা শুনুন, আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

৭. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ( আমার নিজের অভিজ্ঞতায়)কোনবিষয়ে বাংলায় চিন্তা করে ইংরেজিতে বলবেন না। সেক্ষেত্রে মনে মনে অনুবাদ করতে গিয়ে শব্দ হাতড়াতে হাতড়াতে ফ্লুয়েন্সি- আত্মবিশ্বাস দুটোই হারানোর সম্ভাবনাই উজ্জ্বল। ইংরেজিতেই ভাবুন। অর্থাৎ, যে বিষয়ে বলতে চাচ্ছেন, সেটি ইংরেজি যে শব্দ মনে আসে সেটি দিয়েই প্রকাশ করার অভ্যাস করুন। দেখুন তো প্রতিটি বিষয়ে কতটা সহজে বলা যাচ্ছে( আমি মনে হয়,যা বলতে চাচ্ছি,সেটি ঠিকমত বুঝাতে পারি নি!! ক্যামনে যে বুঝাই!!!!)

৮. ঢাকা ভার্সিটির মিলন চত্বরে প্রতিদিন আগের বিসিএসসমূহের ক্যাডাররা আড্ডা জমান। পারলে কখনো সেখানে গিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়সংকল্পবদ্ধতার রসদ যোগাড় করে নিবেন। ( এই অধমও মাঝেমধ্যে সেই আড্ডার সামান্য অংশীদার হিসেবে উপস্থিত থাকে, যদি আসেন, এককাপ লাল চায়ের সাথে ইংরেজিতে আপনার ভালমন্দ খোঁজখবর জানতে / জানিয়ে যেতে ভুলবেন না, ভাই)।

বিসিএস ভাইভা: কমন-নন ইনফরমেটিভ প্রশ্নের উত্তর আরও পড়ুনঃ 

কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তির উপর ১২৫ টি প্রশ্ন ও উত্তর
তথ্যপ্রযুক্তির বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান সমূহের প্রতিষ্ঠাতার নাম ও সাল
William Shakespeare থেকে বেশি আসা প্রশ্ন গুলো।
William Shakespeare এর “TRAGEDY” মনে রাখার টেকনিক

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। আমাদের সাইট থেকে কপি হয়না তাই পোস্টটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখতে পারেন। আপডেট পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল যোগ দিতে পারেন।