বিসিএস প্রস্তুতি দীনবন্ধু মিত্র

বিসিএস প্রস্তুতি দীনবন্ধু মিত্র
Content Protection by DMCA.com

বিসিএস প্রস্তুতি দীনবন্ধু মিত্র নিয়ে আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সমূহ।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বহু সাহিত্যিক, নাট্যকার, কবি সাহিত্য জগতকে সমৃদ্ধ করেছে। দীনবন্ধু মিত্র তাঁদের মধ্য অন্যতম । দীনবন্ধু মিত্রের জীবনী, নাটক, কবিতা, রচনাবলী প্রভৃতি সম্পর্কে জ্ঞাত হলে সে কথা স্পষ্ট বোঝা যায় যে দীনবন্ধু মিত্র কতটা বড় মাপের নাট্যকার ছিলেন ।

দীনবন্ধু মিত্রের জীবনীঃ
দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ সালের ১লা নভেম্বর ভারতের পশ্চিম বঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার চৌবেরিয়ায় জন্ম গ্রহণ করেন । তাঁর পিতার নাম ছিল কালাচাঁদ মিত্র ।

বাল্যকালে দীনবন্ধুর পিতৃদত্ত নাম ছিল গন্ধর্ব নারায়ণ। দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি । ছোটবেলায় তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় গ্রাম্য পাঠশালায় ।

দারিদ্রতার কারনে সেখানে কিছুদিন পাঠগ্রহণের পর তার পিতা তাকে জমিদারের সেরেস্তার কাজে নিযুক্ত করে দেন।

কিন্তু দীনবন্ধু মিত্র বরাবরের মত বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। জমিদারের সেরেস্তার কাজ ছেড়ে তাই তিনি কলকাতায় পালিয়ে আসেন । সেখানে তাঁর পিতৃব্যের গৃহে বাসন মেজে লেখাপড়া চালিয়ে যান ।

পাশাপাশি তিনি তাঁর পিতৃদত্ত নাম পরিবর্তন করে দীনবন্ধু নাম গ্রহণ করেন এবং জেমস লঙের অবৈতনিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। পরে কলুটোলা ব্রাঞ্চ স্কুল (বর্তমানে হেয়ার স্কুল) থেকে ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে স্কুলের শেষ পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়ে বৃত্তি লাভ করে হিন্দু কলেজে (বর্তমানে প্রেসিডেন্সি কলেজ) ভর্তি হন।

পড়াশোনায় দীনবন্ধু মিত্র মেধাবী ছিলেন । ১৮৫১ সালে আবার উচ্চতর পরীক্ষায় বৃত্তিলাভ করেন এবং ১৮৫২ সালে তৃতীয় শ্রেণী থেকে সিনিয়র বৃত্তিলাভ করেন ।শিক্ষা জীবনে প্রত্যেক পরীক্ষায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে তিনিই সর্বোচ্চ স্থান অধিকার করেছিলেন ।

দীনবন্ধু মিত্র তাঁর কর্ম জীবন শুরু করেছিলেন শিক্ষকতা দিয়ে । পড়াশোনা শেষ করে সম্ভবত কোথাও শিক্ষকতা করেছিলেন দীনবন্ধু, কারণ ১৮৫৩ সালে তিনি টিচারশিপ একজামিনেশনে কৃতকার্য হয়েছিলেন।

কলেজের সব পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দে। ব্রিটিশ আমলে দীনবন্ধু মিত্র ঢাকায় পোস্ট মাস্টার হিসেবে যোগদান করেন ।

তার পর তিনি ১৮৫৫ সালে ১৫০টাকা বেতনে পটনায় পোস্টমাস্টার নিযুক্ত হন। ক্রমে তার পদোন্নতি হয় এবং তিনি ওড়িশা, নদিয়া ও ঢাকা বিভাগে এবং পরে কলকাতায় সুপারিনটেন্ডেন্ট পোস্টমাস্টার নিযুক্ত হন।

লুসাই যুদ্ধের সময় ডাকবিভাগের কাজে তিনি কাছাড়ে প্রেরিত হন। কাজের সুনামের জন্য ১৮৭১ সালে ভারত সরকার দীনবন্ধু মিত্রকে “রায়বাহাদুর” উপাধি দান করেন। দুঃখের বিষয়, ডাকবিভাগের উচ্চস্তরের কর্মচারী হয়েও উপযুক্ত বেতন তিনি পাননি।

দীনবন্ধু মিত্রের সাহিত্য জগতে প্রবেশ কবিতা দিয়ে । জানা যায় ঈশ্বর গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তাঁর কবিতা প্রকাশ পায়, সংবাদ প্রভাকর (১৯৩১), সংবাদ সাধুরঞ্জন (১৮৪৭) পত্রিকায়। তবে কবিতা দিয়ে শুরু করলেও দীনবন্ধু মিত্রের খ্যাতি মুলত নাট্যকার হিসাবে ।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় কাব্যগুলো হলো সুরধুনী কাব্য, দ্বাদশ কবিতা । দীনবন্ধু মিত্রের সবচেয়ে বড় অবদান তিনি সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় আর্থ-সামাজিজ ও রাজনৈতিক বিষয়ে নাটক লেখেন ।

তবে শুধুমাত্র নাটক নয়, তিনি প্রহসন রচনাও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারনবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন, সধবার একাদশী (১৮৬৬) । এছাড়াও সমাজের প্রাচীনপন্থীদের ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন, বিয়ে পাগলা বুড়ো (১৮৬৬) ।

দীনবন্ধু মিত্র ক্ষীণ জন্মা ছিলেন । ১৮৭৩ সালের ১লা নভেম্বর মাত্র ৪৩ বছর বয়সে দীনবন্ধু মিত্র মৃত্যু বরণ করেন।

সংক্ষেপে দীনবন্ধু মিত্রের সাহিত্য কর্মঃ

  • কাব্যগ্রন্থঃ সুরধুনী, দ্বাদশ কবিতা
  • নাটকঃ নীল দর্পণ(১৮৬০), নবীন তপস্বিনী, লীলাবতী, কমলে কামিনী
  • প্রহসন মূলক রচনাঃ সধবার একাদশী (১৮৬৬), বিয়ে পাগলা বুড়ো (১৮৬৬), জামাই বারিক
  • গল্প সমূহঃ যমালয়ে জীবন্ত মানুষ, পোড়া মহেশ্বর।

দীনবন্ধু মিত্র নিয়ে কিছু গুরুত্বপুর্ন তথ্যঃ

●দীনবন্ধু মিত্র জন্মগ্রহণ করেন – ১৮৩০ সালে।
● তার সাহিত্য জীবনের শুরু – কবিতা দিয়ে।
● তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন – ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায়।
● কবিতা যে সব পত্রিকায় প্রকাশিত হয় – সংবাদ সাধুরঞ্জন (১৮৪৭) সংবাদ প্রভাকর (১৯৩১)
● দিনবন্ধু মিত্র অধিক পরিচিত – নাট্যকার রূপে।
● ১৮৭১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক লাভ করেন – রায়বাহাদুর উপাধি।
● নীলকরদের অত্যাচার ও নীলচাষীদের দুঃখ কষ্ট নিয়ে রচিত নাটক – নীলদর্পণ।
● নীলদর্পণ নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসগর।
● ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ – নীলদর্পণ।
● নীলদর্পণ প্রকাশিত হয় – ১৮৬০ সালে বাংলা প্রেস থেকে।
● নীলদর্পণ নাটকটি – মেহেরপুর অঞ্চলের।
● নীলদর্পণ নাটকটি মধুসূদন অনুবাদ করেন – A Native ছদ্মনামে।
● নীলদর্পণ নাটকটি মধুসূদন দত্ত অনুবাদ করে নাম দেন – Nil Darpon or The Indigo Planting Mirror (1861)
● নীল দর্পণ নাটকটি রচিত – Uncle Toms Cabin এর অাদলে।
● ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবনিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে রচিত তাঁর প্রহসন – সধবার একাদশী।
● সমাজের প্রাচীনপন্থীদের ব্যঙ্গ করে তার রচিত প্রহসন – বিয়ে পাহলা বুড়ো।
● দীনবন্ধু মিত্র মৃত্যুবরণ করেন – ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর।
● দীনবন্ধু মিত্রের রচিত সাহিত্যকর্ম :
➺ কাব্যগ্রন্থ : সুরধুনী কাব্য, দ্বাদশ কবিতা
➺ প্রহসন : সধবার একাদশী, বিয়ে পাগলা বুড়ো।
➺ নাটক : নীল দর্পণ, নবীন তপস্বিনী, লীলাবতী, জামাই বারিক, কমলে কামিনী।
➺ গল্প : যমালয়ে জীবন্ত মানুষ ও পোড়া মহেশ্বর।
● দীনবন্ধু মিত্রের সহিত্যকর্মের নাম মনে রাখার কৌশল :
কমলে কাহিনী নাটকে
বিয়ে পাগলা বুড়ো
একাদশীর দিন (সধবার একাদশী) জামাই বাড়িতে (জামাই বারিক) বেড়াকে গিয়ে নবীন তপস্বিনীর মেয়ে লীলাবতীকে বিয়ে করে। পরে তিনি মধুচন্দ্রিমা করার জন্য নীল নদের (নীলদর্পণ) উদ্দেশ্যে গৃহ ত্যাগ করলেন।

আরও পড়ুনঃ

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।