বাংলা সাহিত্যঃ প্রাচীন যুগ ও মধ্যযুগ

বাংলা সাহিত্যঃ প্রাচীন যুগ ও মধ্যযুগ
Content Protection by DMCA.com

প্রাচীন যুগ ও মধ্যযুগ (ইনশাল্লাহ এটা পড়লেও এ অংশের প্রস্তুতি ৮০% এর ও বেশি হয়ে যাবে ।) এই অংশ থেকে বিসিএস প্রিলিতে ৫ নম্বর আসে। তাই বাজারের বইগুলোতে প্রাচীন ও মধ্যযুগ যত বিশদ লেখা তা না পড়ে একটু বেছে বেছে পড়ুন। কী কী পড়া যেতে পারে তার একটু নমুনা নিচে দিচ্ছি। মনে রাখবেন এটাই সর্বশেষ কথা নয়, এসবের বাইরেও কিছু তথ্য থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। তবে অনেকে জানতে চেয়েছেন কীভাবে পড়ব তাই তাদের উদ্দেশ্যে ক্ষুদ্র এই প্রচেষ্টা।

যা যা পড়া যেতে পারেঃ
১। বাংলা ভাষা ও বাংলা লিপি
২। যুগবিভাগ
৩। প্রাচীন যুগ ও চর্যাপদ
৪। অন্ধকার যুগ
৫। মধ্যযুগ, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ও অন্যান্য সাহিত্যের ধারা

ভূমিকাঃ
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস হাজার বছরেরও বেশি প্রাচীন । সেই কবে থেকে যে প্রথম বাংলা সাহিত্যের যাত্রা শুরু হয়েছে তা সঠিক দিন তারিখ দিয়ে নির্ণয় করা সম্ভব নয় । তবে পন্ডিতগণ গবেষণা করে কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, সে সব গবেষণা ও সিদ্ধান্তই আমাদের অবলম্বন । আমরা উপর্যুক্ত বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করব।

১। বাংলা ভাষাঃ
বাংলা ভাষাও হাজার বছরের অধিক সময়ের ইতিহাস নিয়ে স্বরূপে বিরাজমান । বাংলা ভাষার প্রাথমিক বিকাশে ইন্দো ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর অবদান সর্বাধিক । এ ভাষাগোষ্ঠী থেকেই বাংলা ভাষা উত্‌পত্তি লাভ করেছে । খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০অব্দে এ ভাষা গোষ্ঠী রাশিয়ার উরাইল পর্বতের পাদদেশ থেকে যাত্রা শুরু করে ইরান হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে ।

যে গোষ্ঠীটা ইরানে প্রবেশ করেছিলো তা ইন্দো ইরানীয় নামে পরিচিত এবং যেটি ইরান হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে তা প্রাচীন ভারতীয় আর্য নামে পরিচিত । আর্যদের ভাষা ছিল বৈদিক তথা সংস্কৃত ।তাদের ধর্মগ্রন্থের নাম ছিলো বেদ । সংস্কৃত ছিল ব্রাহ্মণ ও উচু সমাজের মানুষের ভাষা ।

সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা ছিল আলাদা । সাধারণের ভাষা বিকশিত হতে হতে পালি ভাষা এবং পালি আবার বিকশিত হয়ে প্রাকৃত ভাষার রূপলাভ করে । প্রাকৃত ভাষা ২৮টি ভাগে বিভক্ত ছিল অঞ্চলভেদে । তাদের মধ্যে বিখ্যাত ছিল গৌড়ি প্রাকৃত,মাগধি প্রাকৃত,মহারাষ্ট্রী প্রাকৃত ,শৌরসেনী প্রভৃতি । বাংলা ভাষার উত্‌পত্তি সম্পর্কে মতভেদ আছেঃ

১। ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গোড়ি প্রাকৃত বিকশিত হতে হতে গৌড়ি অপভ্রংশের মাধ্যমে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে খ্রিষ্টাব্দ ৬৫০ সালের দিকে ।
২। ড.সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে মাগধী প্রাকৃত ভাষা বিকশিত হয়ে মাগধী অপভ্রংশের মাধ্যমে বাংলা ভাষার উত্‌পত্তি হয়েছে খ্রিষ্টাব্দ ৯৫০ সালের দিকে ।

বি.দ্রঃ বাংলাদেশের মানুষ ড. শহিদুল্লাহর মত এবং ভারতের মানুষ ড.সুনীতিকুমারের মত বেশি সমর্থন করে ।

বাংলা লিপিঃ
ভারতীয় উপমহাদেশে মোটামুটি দুটি লিপি থেকেই সকল ভারতীয় লিপি সৃষ্টি হয়েছে । লিপি দুটি হল
১। ব্রাহ্মী লিপি
২। খরোষ্ঠী লিপি

বাংলা লিপি ব্রাহ্মী লিপি থেকে উৎপন্ন হয়েছে বলে পণ্ডিত গণ মনে করেন । তাছাড়াও যেসব লিপি বাম দিক থেকে লেখা শুরু হয় তা সবই ব্রাহ্মী লিপি থেকে এবং যে সব লিপি ডান দিক থেকে লেখা শুরু হয় তার সবই খরোষ্ঠী লিপি থেকে উত্‌পন্ন হয়েছে ।

২। যুগোবিভাগঃ
সাহিত্যের যুগবিভাগ আসলে দিন তারিখ নির্দিষ্ট করে করা যায় না ।তাই বাংলা সাহিত্যের যুগোবিভাগ নিয়ে যথেষ্ট মতভেদ তৈরি হয়েছে ।বিভিন্ন পণ্ডিত বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন। তারমধ্যে ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বেশি আলোচিত । বাংলা সাহিত্যকে মোটামুটি তিনটি যুগে ভাগ করা যায় ।

⇒ প্রাচীন যুগ মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগঃ

ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, প্রাচীনযুগ ৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত (সপ্তম-দ্বাদশ শতক) – মধ্যযুগ ১২০১-১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত (ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতক ) – আধুনিক যুগ ১৮০১-বর্তমান পর্যন্ত (উনবিংশ থেকে বর্তমান ) তবে এর মাঝে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত অন্ধকার যুগের অস্তিত্ত্ব তিনি অস্বীকার করেন নি।

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে , প্রাচীন যুগ ৯৫০-১২০০(দশম-দ্বাদশ) – মধ্যযুগ ১২০১-১৮০০(ত্রয়োদশ –অষ্টাদশ) – আধুনিক যুগ ১৮০১-বর্তমান পর্যন্ত ।(উনবিংশ –বর্তমান) তিনিও অন্ধকার যুগ অস্বীকার করেন নি।

৩।প্রাচীনযুগ ও চর্যাপদঃ

প্রাচীন যুগের একমাত্র সাহিত্যিক নিদর্শন হলো ‘চর্যাপদ’। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ,ডাকার্ণব,কাহ্নপাদের দোহা ও সরহপাদের দোহা এই চারটি গ্রন্থ আবিষ্কার করে ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ‘হাজার বছরের পুরান বাংলা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে প্রকাশ করেন ।এর সাড়ে ৪৬ টি বৌদ্ধগানকে একত্রে চর্যাপদ বলে ।চর্যাপদে মোট ৫০ টি মতান্তরে ৫১ টি পদ ছিল । তারমধ্যে ২৩ নং চর্যার অর্ধেক এবং ২৪,২৫ ও ৪৮ নং পদ উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি ।

চর্যাপদের কিছু গুরুত্ব পুর্ণ তথ্যঃ
এগুলো বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের সাধন সঙ্গীত । এগুলো প্রায় সবই পালযুগে লেখা । চর্যাপদের টিকাকার মুনীদত্ত। আদি কবি লুইপা । প্রথম পদ লুইপার। এর ভাষাকে সন্ধ্যা ভাষা বলা হয় । কেননা এ ভাষা পুরোপুরি বোঝা যায় না । এর ছন্দ মাত্রাবৃত্ত।

চর্যাপদের বাঙ্গালী কবি বলা হয় ভুসুকু পা কে । একমাত্র মহিলা কবি বলা হয় কুক্কুরীপা কে । কবিদের নামের শেষে সম্মান সূচক পাদ বা পা উপাধী আছে । মোট পদকর্তা ২৪ জন । সর্বোচ্চ পদের রচয়িতা কাহ্নপা , ১৩ টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভুসুকুপা ,৮ টি । এর নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় ছিল বলে ধারনা করা হয় । টিকাকার ১১ নং পদ ব্যাখ্যা করেন নি । হিন্দী মৈথিলি মাগধী আসামী ভাষার পন্ডিতগণ চর্যাপদকে তাদের ভাষার রচনা বলে দাবী করেন । ড.শহীদুল্লাহ ও ড.সুনীতিকুমার প্রমাণ করেছেন এর ভাষা বাংলা। প্রাচীনযুগের অন্য্যান্য সাহিত্যের মধ্যে ছড়া ও ডাক ও খনার বচন উল্লেখযোগ্য।

৪। অন্ধকার যুগঃ
বাঙ্গালা সাহিত্যে ১২০১ সাল থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত অন্ধকার যুগ বলে একটা বিতর্কিত বিষয়ের অবতারনা করা হয়েছে ।বাংলায় বৌদ্ধদের পর সেনরা এদেশ শাসন করত । তারপর মুসলিম শাসনের শুরু হয় ১২০৪ সালে ।মুসলিম শাসকেরা দেশীয় পন্ডিতদের উপর অন্যায় অত্যাচার করেছিল ।

দেশময় হত্যা ,লুণ্ঠন,মন্দির ধবংস ইত্যাদি অনাচার চলছিল তাই এ সময় কোন সাহিত্য সৃষ্টি হতে পারেনি বলে অভিযোগ করা হয় । এজন্য অন্ধকার যুগের সৃষ্টিতে মুসলিমদের দায়ী করা হয় । অনেক পণ্ডিত এর অস্তিত্ব স্বীকার করেন । আবার অনেকেই অস্বীকার করেন ।তবে এ সময় ও কিছু সাহিত্য রচিত হয়েছিল। যেমনঃ
সেক শুভদয়া =হলায়ূধ মিশ্র ও শুন্যপূরাণ =রামাই পণ্ডিত এছাড়াও আরো কিছু হয়তো রচিত হয়েছিল ।যা আমাদের হাতে এসে পৌছায় নি । তাছাড়া ফাসীর মঞ্চে দাঁড়িয়ে যে দেশে সাহিত্য রচিত হয় সে দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে কোন সাহিত্য রচিত হয় নি এটা বিশ্বাস করা যায় না । তাই আমরা অন্ধকার যুগের অস্তিত্ত্ব স্বীকার করি না।

৫। মধ্যযুগ ও শ্রীকৃষ্ণকীর্তনঃ
মুসলিম শাসনের সুত্রপাত হওয়ার পর থেকে মধ্যযুগের সূত্রপাত ধরা হয় । মধ্যযুগের আদি নিদর্শন বড়ু চন্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’। তাই তিনি মধ্যযুগের আদিকবি । ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের এক গৃহস্থ পরিবারের গোয়াল ঘরের চালা থেকে অরক্ষিত পুথি আকারে আবিষ্কার করেন । পুথির ভিতরে থাকা চিরকুটে গ্রন্থের নাম ছিল ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ’। কিন্তু ১৯১৬ সালে তিনি সেটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ নামে প্রকাশ করেন ।

গ্রন্থের বিষয় ছিল রাধা কৃষ্ণের প্রেম । মোট চরিত্র ৩টি –রাধা ,কৃষ্ণ ও বড়ায়ি । কবির নাম ৩টি ভনিতা আকারে পাওয়া যায় –অনন্ত বড়ু ,বড়ু চণ্ডীদাস,ও চন্ডীদাস । এ কাব্যে মোট ১৩ টি খণ্ড আছে । ১ম খণ্ড জন্ম খণ্ড ও শেষ খণ্ড রাধাবিরহ খণ্ড । গ্রন্থটি চতুর্দশ শতাব্দীর রচনা বলে ধারনা করা হয় । মধ্যযুগের সাহিত্যকে মোটামুটি দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

১। মৌলিক সাহিত্যঃ বৈষ্ণব পদাবলী , মঙ্গলকাব্য, জীবনীসাহিত্য, নাথ সাহিত্য, মর্সিয়া সাহিত্য, লোক সাহিত্য।
২। অনুবাদ সাহিত্যঃ রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান, রামায়ণ, মহাভারত সহ আরো অন্যান্য ।

নিম্নে এদের সম্পর্কে আলোচনা করা হলঃ
মৌলিক সাহিত্যঃ
বৈষ্ণব পদাবলীঃ মধ্যযুগে রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমলীলা বিষয়ক একপ্রকার পদ রচনা করা হতো যা বৈষ্ণব পদ নামে পরিচিত । বৈষ্ণব পদাবলীর আদি কবি বিদ্যাপতি ,তিনি মৈথিলী ভাষায় সাহিত্য রচনা করেছেন । বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলীর আদি কবি চণ্ডীদাস । এছাড়া জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাস বৈষ্ণব পদাবলীর উল্লেখযোগ্য কবি ।বৈষ্ণব কবিগণ মহাজন নামে পরিচিত । মুসলিম কবিদের শেখ ফয়জুল্লাহ ও আইনুদ্দীন অন্যতম।

⇒ মঙ্গলকাব্যঃ মঙ্গল কাব্য কয়েকটি ধারার রয়েছে
⇒ মনসামঙ্গলঃ (আদি কবি কানা হরিদত্ত,শ্রেষ্ঠ বিজয়গুপ্ত)
⇒ চণ্ডীমঙ্গলঃ (আদি মানিক দত্ত ও শ্রেষ্ঠ মুকুন্দরাম)
⇒ অন্নদামঙ্গলঃ (শ্রেষ্ঠ ভারত চন্দ্র)

জীবনী সাহিত্যঃ শ্রী চৈতন্য দেবের জীবন নিয়ে লেখা । বিখ্যাত হলঃ ১। চৈতন্যভাগবত-বৃন্দাবন দাস ২।চৈতন্যমঙ্গল-লোচনদাস ৩। চৈতন্যচরতামৃত-কৃষ্ণদাস কবিরাজ।

নাথ সাহিত্যঃ বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে নাথধর্মের কাহিনী অবলম্বনে রচিত আখ্যায়িকা কাব্য নাথ সাহিত্য নামে পরিচিত । শিবের উপাসকদের নাথ ধর্মী বলে । জর্জ গ্রীয়ার্সন রংপুরের কৃষকদের কাছ থেকে এ সাহিত্য সংগ্রহ করেন । শেখ ফয়জুল্লাহ নাথ সাহিত্যের একজন উল্লেখযোগ্য কবি । ময়নামতির গান ও গোরক্ষবিজয়(শেখ ফয়জুল্লাহ) এ শাখার সাহিত্য ।

মর্সিয়া সাহিত্যঃ মর্সিয়া শব্দের অর্থ শোক। হাসান ও হোসেনের করুন কাহিনী নিয়ে এ সাহিত্যের সৃষ্টি। এ শাখার আদি কবি শেখ ফয়জুল্লাহ । জয়নাবের চৌতিশা (ফয়জুল্লাহ), জঙ্গনামা(বাহারাম খান )।

লোকসাহিত্যঃ লোকসাহিত্য হল মানুষের মুখে মুখে রচিত ও সংরক্ষিত কথা ,ছড়া,গান ,কাহিনী, ও গল্প।লোকসাহিত্যের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হল গীতিকা ,ছড়া ,গান ,ধা ধা,প্রবাদ,প্রবচন ইত্যাদি । হারামনি একটি প্রাচীন লোকগীতি সংকলন।সম্পাদক মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন । বাংলা লোক – সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ গবেষক ড.মযহারুল ইসলাম ।

অনুবাদ সাহিত্যঃ অনুবাদ সাহিত্যগুলো সংষ্কৃত ,হিন্দী ,আরবী ,ও ফারসী ভাষা থেকে অনূদিত ।এগুলোর বেশিরভাগই রোমান্টিক প্রনয়োপাখ্যান ও দোভাষী পুথি।

ফারসী থেকে অনূবাদঃ
⇒ শাহ মুহম্মদ সগীর (ইউসুফ জোলেখা)। #তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি ।
⇒ দৌলত উজির বাহরাম খান(লাইলী মজনু)।
⇒ গরীবুল্লাহ (জঙ্গনামা)।
⇒ আলাওল(হপ্তপয়কর,সিকান্দারনামা,সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল,তোহফা)

হিন্দী থেকে অনুবাদঃ
⇒ দৌলত কাজী(সতীময়না ও লোর চন্দ্রানী)।
⇒ আলাওল( পদ্মাবতী)

সংষ্কৃত থেকেঃ
⇒ রামায়ণঃ প্রথম ও শ্রেষ্ঠ অনুবাদক –কৃত্তিবাস। মহিলা অনুবাদকঃ চন্দ্রাবতী । ইনিই বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি ।

⇒ মহাভারতঃ প্রথম অনুবাদক- শ্রীকর নন্দী ⇔ শ্রেষ্ঠ অনুবাদক-কাশীরাম দাস

আরাকান রাজসভাঃ
বাংলার বাইরে বর্তমান মায়ানমারের রাজধানী আরাকানে কিছু কবি বাংলা সাহিত্য চর্চা করেছেন । তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেনঃ
⇒ দৌলত কাজী(সতী ময়না লোরচন্দ্রানী, সমাপ্ত করেন আলাওল )
⇒ আলাওল(পদ্মাবতী, হপ্তপয়কর, সয়ফুলমূলক বদিউজ্জামাল, তোহফা, সিকান্দারনাম )
⇒ কোরেশী মাগন ঠাকুর (চন্দ্রাবতী)
⇒ মরদন(নসীরানামা)

মধ্যযুগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ
মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন –শ্রীকৃষ্ণকীর্তন – মধ্যযুগের প্রথম কবি-বড়ু চণ্ডিদাস – মধ্যযুগের সাহিত্যে ব্যাতিক্রমী ধারার সাহিত্য –রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান। – ব্যাক্তি হিসেবে একটি পদ না লিখেও চৈতন্যদেবের নামে যুগের সৃষ্টি হয়েছে । মধ্যযুগের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ধারা বৈষ্ণব পদাবলী। মধযুগের শেষ কবি –ভারতচন্দ্র ।

[পুনশ্চঃ আমাদের জানাশোনার মধ্যে যা আছে তাই  তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ভুলত্রুটি থাকা অস্বাভাবিক নয়। এখানকার অনেক তথ্যের সাথে আপনার ভিন্ন মত থাকতেই পারে কিন্তু আমরা সকল তথ্যই প্রামাণ্য বই থেকে নেবার চেষ্টা করেছি । বাংলা বিদ্গণকে বলব, স্যার, আমাদের তথ্যে ভুল থাকলে জানিয়ে দিবেন, কৃতজ্ঞচিত্তে সংশোধন করে নিব।]

কিছু প্রশ্ন ও উত্তরঃ

১. বাইশা কী :- মনসামঙ্গল কাব্যের ২২জন ছোট-বড় কবি।
২. কোন মহাপুরুষ একটি বাংলা পংক্তি না লিখলেও তাঁর নামে একটি যুগের সূচনা হয়েছে :- শ্রীচৈতন্যযুগ।
৩. চৈতন্য যুগের ব্যাপ্তি :- ১৫০১- ১৬০০
৪. কড়চা ‘ শব্দের শাব্দিক অর্থ :- ডায়রি বা দিনলিপি। (বাংলা সাহিত্যে চৈতন্য জীবনী গ্রন্থ কড়চা নামে পরিচিত)
৫. নবীবংশ, রসুলবিজয় -জীবনীগ্রন্থের রচয়িতা কে :- সৈয়দ সুলতান।

৬. নাথ সাহিত্যের প্রধান কবি :- শেখ ফয়জুল্লাহ।
৭. তাঁর রচিত নাথ সাহিত্য :- গোরক্ষবিজয়।
৮. ‘মর্সিয়া’ শব্দটি আরবি, এর অর্থ :- শোক বা আহাজারি।
৯. মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি :- শেখ ফয়জুল্লাহ।
১০. ফয়জুল্লাহ রচিত মর্সিয়া সাহিত্যকর্ম :- ‘জয়নবের চৌতিশা ‘

১১. দৌলত উজির বাহারাম খানের প্রথম কাব্য :- জঙ্গনামা বা মক্তুল হোসেন। (এটি মর্সিয়া সাহিত্য। কারবালার যুদ্ধবিগ্রহ এই কাব্যর বিষয় বস্তু।)
১২. বাংলায় অনুবাদ কাব্যের সূচনা হয় কোন যুগে :- মধ্যযুগ।
১৩. মধ্যযুগে অনুবাদ কাব্যের প্রথম জয়যাত্রা শুরু করেন:- কবি কৃত্তিবাস ওঝা।
১৪. বাল্মিকী রচিত রামায়নের প্রথম অনুবাদক :- কৃত্তিবাস।
১৫. রামায়নের প্রথম মহিলা অনুবাদক :- চন্দ্রাবতী। (চন্দ্রাবতীর পিতা ছিলেন ‘মনসামঙ্গল ‘ কাব্যের রচয়িতা দ্বিজ বংশীদাস। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জ। চন্দ্রাবতী বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি।)

১৬. কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব রচিত মহাভারতের প্রথম অনুবাদক :- কবীন্দ্র পরমেশ্বর। (আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সেনাপতি পরাগল খানের উৎসাহে এই কাব্য রচনা করেন বলে কাব্যটি ‘পরাগলী মহাভারত’ নামে খ্যাত।
১৭. মহাভারতের সবচেয়ে প্রাঞ্জল ও জনপ্রিয় অনুবাদ করেন :- কাশীরাম দাস।
১৮. রোমান্টিক প্রণয়োপখ্যান ধারার প্রথমকবি :- শাহ মুহাম্মদ সগীর।( তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম মুসলমান কবি)
১৯. ফারসী প্রেমাখ্যান ‘ইউসুফ-জুলেখার’ অনুবাদক :- শাহ মুহাম্মদ সগীর।
২০. বাংলা সাহিত্যে ‘রোসাঙ্গ’ বা ‘রোসাং ‘ নামে উল্লেখ করা হয়েছে :- আরাকানকে।

২১. আরাকানের অধিবাসীদের বলা হয় :- ‘মগ’
২২. আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙ্গালী কবি :- দৌলত কাজী। (তাঁর রচনা:- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী-১ম ও ২য় খন্ড)
২৩. আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি:- ‘আলাওল’
২৪. আলাওলের সাহিত্যকর্ম :- হপ্তপয়কর, সিকান্দরনামা, তোহ্ফা, ‘পদ্মাবতী ‘, সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী-৩য় খন্ড)
২৫. ‘চন্দ্রাবতী ‘ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা :- কোরেশী মাগন ঠাকুর।

২৬. আরবী লোকগাঁথা ‘লায়লী-মজনু’ কাব্যের রচয়িতা :- দৌলত উজীর বাহারাম খান।
২৭. শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ কাব্যের রচয়িতা :- মালাধর বসু (তাঁর খেতাব :- গুনরাজ খান)
২৮. কোন সময়কে পুঁথি সাহিত্যের (এটি বটতলার সাহিত্য নামেও পরিচিত) স্বর্ণযুগ বলা হয় : ১৭৬০ থেকে ১৮৬০।
২৯. পুঁথি সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক ও জনপ্রিয় কবি :- ফকির গরীবুল্লাহ। (আদি কবি : গুজলা গুঁই)
৩০. তাঁর রচিত পুঁথি সাহিত্য :-ইউসুফ জুলেখা, আমীর হামজা, জঙ্গনামা, সত্যপীরের পুঁথি)

৩১. মধুমালতী, জৈগুনের পুঁথি, আমীর হামজা (২য় অংশ)– এই পুঁথি সাহিত্যগুলোর রচয়িতা :- সৈয়দ হামজা।
৩২. ফরাসী শব্দ ‘Ballad ‘ এর অর্থ :- গীতিকা ( Ballet অর্থ ‘নৃত্য ‘)
৩৩. লোকের মুখে মুখে প্রচলিত কাহিনী, গান, ছড়া, ইত্যািকে বলা হয় :- লোক সাহিত্য।
৩৪. বাংলাদেশ থেকে সংগৃহীত লোকগীতিকাগুলোকে কয়ভাগে ভাগ করা হয়েছে: ৩ ভাগে। (নাথ, মৈমনসিংহ, পূর্ববঙ্গ গীতিকা)
৩৫. মৈমনসিংহ গীতিকার সংগ্রাহক :- ড. দীনেশচন্দ্র সেন।
৩৬. মৈমনসিংহ গীতিকা কয়টি ভাষায় অনুদিত হয় :- ২৩ টি ভাষায়।

উল্লেখযোগ্য মৈমনসিংহ গীতিকা:
ক. মহুয়ার পালা :-দ্বিজ কানাই,
খ. দেওয়ানা মদিনা :- মনসুর বয়াতি এবং কাজলরেখা।
৩৭. নাথগীতিকা :- ‘মানিকচন্দ্র রাজার গান’ :- সংগ্রাহক :- স্যার জর্জ গিয়ার্সন (রংপুর থেকে)
৩৮. পূর্ববঙ্গ গীতিকা:- নিজাম ডাকাতের পালা, কাফনচোরা।
৩৯. পশুপাখির চরিত্র অবলম্বনে যেসব কাহিনী গড়ে উঠেছে তার নাম :- উপকথা।
৪০. ‘বারমাস্যা ‘ বলতে কি বোঝানো হয় :- যে কবিতায় নায়িকার জীবনের বারো মাসের সুখ দুঃখের কাহিনী বর্ননা করা হয়।
৪১. অবক্ষয় যুগের ব্যাপ্তি :- ১৭৬০থেকে ১৮৬০
৪২. যুগসন্ধিক্ষনের কবি :- ইশ্বরচন্দ্রগুপ্ত (তিনি সংবাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক। তাঁর রচিত কবিতা:- ‘কে’।

আরও পড়ুনঃ

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।