বাংলা বানানের সহজ নিয়ম

বাংলা বানানের সহজ নিয়ম
Content Protection by DMCA.com

বাংলা বানানের সহজ নিয়ম

প্রিলিতে বাংলা বানান নিয়ে প্রশ্ন আসবে। এছাড়া লিখিত পরীক্ষায় আপনাকে বানানের দিকে সর্বোচ্চ সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। শুধু তাই নয় বাংলা বানানের নিয়ম ও বাক্যশুদ্ধিকরন জাতীয় কিছু প্রশ্ন ও লিখিত পরীক্ষায় থাকবে। আপনি খুব চমৎকার ভাষায় একটা লেখা লিখলেন কিন্তু তার প্রতিটি স্তরে বানানের ভুল থাকলে মার্কস কিন্তু অবশিষ্ট কিছুই থাকবেনা।
এছাড়াও সকল চাকরির পরীক্ষায় বাংলা বানান থেকে প্রশ্ন থাকেই। এই পোস্টটি বানানের সমস্যা সমাধানে কাজে লাগবে।

১. দূরত্ব বোঝায় না এরূপ শব্দে উ-কার যোগে ‘দুর’ (‘দুর’ উপসর্গ) বা ‘দু+রেফ’ হবে।
যেমন— দুরবস্থা, দুরন্ত, দুরাকাঙ্ক্ষা, দুরারোগ্য, দুরূহ, দুর্গা, দুর্গতি, দুর্গ, দুর্দান্ত, দুর্নীতি, দুর্যোগ, দুর্ঘটনা, দুর্নাম, দুর্ভোগ, দুর্দিন, দুর্বল, দুর্জয় ইত্যাদি।

২. দূরত্ব বোঝায় এমন শব্দে ঊ-কার যোগে ‘দূর’ হবে।
যেমন— দূর, দূরবর্তী, দূর-দূরান্ত, দূরীকরণ, অদূর, দূরত্ব, দূরবীক্ষণ ইত্যাদি।

৩. পদের শেষে ‘-জীবী’ ঈ-কার হবে।
যেমন— চাকরিজীবী, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, কৃষিজীবী, আইনজীবী ইত্যাদি।

৪. পদের শেষে ‘-বলি’ (আবলি) ই-কার হবে।
যেমন— কার্যাবলি, শর্তাবলি, ব্যাখ্যাবলি, নিয়মাবলি, তথ্যাবলি, রচনাবলি ইত্যাদি।

৫. ‘স্ট’ এবং ‘ষ্ট’ ব্যবহার: বিদেশি শব্দে ‘স্ট’ ব্যবহার হবে। বিশেষ করে ইংরেজি st যোগে শব্দগুলোতে ‘স্ট’ ব্যবহার হবে। যেমন— পোস্ট, স্টার, স্টাফ, স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, মাস্টার, ডাস্টার, পোস্টার, স্টুডিও, ফাস্ট, লাস্ট, বেস্ট ইত্যাদি। ষত্ব-বিধান অনুযায়ী বাংলা বানানে ট-বর্গীয় বর্ণে ‘ষ্ট’ ব্যবহার হবে। যেমন— বৃষ্টি, কৃষ্টি, সৃষ্টি, দৃষ্টি, মিষ্টি, নষ্ট, কষ্ট, তুষ্ট, সন্তুষ্ট ইত্যাদি। অর্থাৎ ‘স্ট’-এর উচ্চারণ হবে ‘স্‌ট্’-এর মতো এবং ‘ষ্ট’-এর উচ্চারণ হবে ‘শ্‌টো’-এর মতো। যেমন— পোস্ট (পোস্‌ট্‌), লাস্ট (লাস্‌ট্‌), কষ্ট (কশ্‌টো), তুষ্ট (তুশ্‌টো) ইত্যাদি।

৬. যুক্তবর্ণে ‘স’ এবং ‘ষ’ ব্যবহার:
☞ অ/আ-কারের পর যুক্তবর্ণে স হবে।
যেমন— তিরস্কার, তেজস্ক্রিয়, নমস্কার, পুরস্কার, পুরস্কৃত, বয়স্ক, ভস্ম, ভাস্কর, ভাস্কর্য, মনস্ক, সংস্কার, পরস্পর, বৃহস্পতি ইত্যাদি। এর ব্যতিক্রম বাষ্প দ্বারা গঠিত শব্দসমূহ। এছাড়া স্পৃশ্য, স্পর্ধা, স্পষ্ট, স্পন্দ, স্পন্দন, স্পর্শ, স্পৃষ্ট, স্পর্শী, স্মর, স্মৃত/স্মৃতি, স্মিত, স্মরণ, বিস্ময় দ্বারা গঠিত শব্দে স হবে। নিষ্ফল বাদে সকল ‘ফ’-এ ‘স’ হবে।

☞ ই/ঈ-কার, উ/ঊ-কার, এ/ঐ-কার এবং ও/ঔ-কারের পর যুক্তবর্ণে ষ হবে।
যেমন— আবিষ্কর, আয়ুষ্কাল, আয়ুষ্কর, আয়ুষ্মান, আয়ুষ্মতী, উষ্ম, কুষ্মাণ্ড, গ্রীষ্ম, গীষ্পতি, গোষ্পদ, চতুষ্কোণ, চতুষ্পার্শ্ব, চতুষ্পদ, জ্যোতিষ্ক, দুষ্কর্ম, দুষ্কর, দুষ্প্রাপ্য, নিষ্কাশন, নিষ্কণ্টক, নিষ্পাপ, নিষ্পত্তি, নৈষ্কর্ম্য, পরিষ্কার, পুষ্করিণী, পুষ্প, মস্তিষ্ক, শ্লেষ্মা, শুষ্ক ইত্যাদি। এর ব্যতিক্রম বিস্ময় দ্বারা গঠিত শব্দসমূহ।
[দ্রষ্টব্য: বাংলা বানানে স্ট/স্ঠ এবং ষ্ত/ষ্থ হবে না। তাই নিম্নের নিয়মগুলোতে ‘ষ্ট/ষ্ঠ’ এবং ‘স্ত/স্থ’ দ্বারা গঠিত বানান প্রযোজ্য নয়।]

৭. ‘পূর্ণ’ এবং ‘পুন’ (পুনঃ/পুন+রেফ/পুনরায়) ব্যবহার:
‘পূর্ণ’ (ইংরেজিতে Full/Complete অর্থে) শব্দটিতে ঊ-কার এবং র্ণ যোগে ব্যবহার হবে। যেমন— পূর্ণরূপ, পূর্ণমান, সম্পূর্ণ, পরিপূর্ণ ইত্যাদি। ‘পুন-‘ (পুনঃ/পুন+রেফ/পুনরায়— ইংরেজিতে Re- অর্থে) শব্দটিতে উ-কার হবে এবং অন্য শব্দটির সাথে যুক্ত হয়ে ব্যবহার হবে। যেমন— পুনঃপ্রকাশ, পুনঃপরীক্ষা, পুনঃপ্রবেশ, পুনঃপ্রতিষ্ঠা, পুনঃপুন, পুনর্জীবিত, পুনর্নিয়োগ, পুনর্নির্মাণ, পুনর্মিলন, পুনর্লাভ, পুনর্মুদ্রিত, পুনরুদ্ধার, পুনর্বিচার, পুনর্বিবেচনা, পুনর্গঠন, পুনর্বাসন ইত্যাদি।

৮. পদের শেষে’-গ্রস্থ’ নয় ‘-গ্রস্ত’ হবে।
যেমন— বাধাগ্রস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত, হতাশাগ্রস্ত, বিপদগ্রস্ত ইত্যাদি।

৯. অঞ্জলি দ্বারা গঠিত সকল শব্দে ই-কার হবে।
যেমন— গীতাঞ্জলি, শ্রদ্ধাঞ্জলি, জলাঞ্জলি, পুষ্পাঞ্জলি ইত্যাদি।

১০. আনন্দ-ব্যথা দান কর্মে ই-কার হয়।
যেমন— ইয়ার্কি, মশকারি, বাঁদরামি, পাগলামি, ফাজলামি, বদমায়েশি, ইতরামি, মারামারি, হাতাহাতি ইত্যাদি।

১১. বিদেশি শব্দে ণ, ছ, ষ ব্যবহার হবে না।
যেমন— হর্ন, কর্নার, সমিল (করাতকল), স্টার, বাসস্ট্যান্ড, ফটোস্ট্যাট, আস্‌সালামু আলাইকুম, ইনসান ইত্যাদি।

১২. অ্যা, এ ব্যবহার: বিদেশি বাঁকা শব্দের উচ্চারণে ‘অ্যা’ ব্যবহার হয়।
যেমন— অ্যান্ড (And), অ্যাড (Ad/Add), অ্যাকাউন্ট (Account), অ্যাম্বুলেন্স (Ambulance), অ্যাসিস্ট্যান্ট (Assistant), অ্যাডভোকেট (Advocate), অ্যাকাডেমিক (Academic), অ্যাডভোকেসি (Advocacy) ইত্যাদি। অবিকৃত বা সরলভাবে উচ্চারণে ‘এ’ হয়। যেমন— এন্টার (Enter), এন্ড (End), এডিট (Edit) ইত্যাদি।

১৩. ইংরেজি বর্ণ S-এর বাংলা প্রতিবর্ণ হবে ‘স’ এবং sh, -sion, -tion বর্ণগুচ্ছে ‘শ’ হবে।
যেমন— সিট (Seat/Sit), শিট, (Sheet), রেজিস্ট্রেশন (Registration), মিশন (Mission) ইত্যাদি।

১৪. আরবি বর্ণ ش (শিন)-এর বাংলা বর্ণ রূপ হবে ‘শ’ এবং ث (সা), س (সিন) ও ص (সোয়াদ)-এর বাংলা বর্ণ রূপ হবে ‘স’। ث (সা), س (সিন) ও ص (সোয়াদ)-এর উচ্চারিত রূপ মূল শব্দের মতো হবে এবং বাংলা বানানের ক্ষেত্রে ‘স’ ব্যবহার হবে এবং ‘স’-এর স্বতন্ত্র উচ্চারণ হবে। যেমন— সালাম, শাহাদত, শামস, ইনসান ইত্যাদি। আরবি, ফারসি, ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষা থেকে আগত শব্দ বা নামসমূহে ছ, ণ ও ষ ব্যবহার হবে না।

বাংলা বানানের সহজ নিয়ম

১৫. শ ষ স:
তৎসম শব্দে ষ ব্যবহার হবে। খাঁটি বাংলা ও বিদেশি শব্দে ষ ব্যবহার হবে না। বাংলা বানানে ‘ষ’ ব্যবহারের জন্য অবশ্যই ষত্ব-বিধান, উপসর্গ, সন্ধি সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। বাংলায় অধিকাংশ শব্দের উচ্চারণে ‘শ’ বিদ্যমান। এমনকি ‘স’ দিয়ে গঠিত শব্দেও ‘শ’ উচ্চারণ হয়। ‘স’-এর স্বতন্ত্র উচ্চারণ বাংলায় খুবই কম। ‘স’-এর স্বতন্ত্র উচ্চারণ হচ্ছে— সমীর, সাফ, সাফাই। যুক্ত বর্ণ, ঋ-কার ও র-ফলা যোগে যুক্তধ্বনিতে ‘স’-এর উচ্চারণ পাওয়া যায়। যেমন— সৃষ্টি, স্মৃতি, স্পর্শ, স্রোত ইত্যাদি।

১৬. সমাসবদ্ধ পদ ও বহুবচনমূলক শব্দগুলোর মাঝে ফাঁক রাখা যাবে না।
যেমন— চিঠিপত্র, আবেদনপত্র, ছাড়পত্র (পত্র), বিপদগ্রস্ত, হতাশাগ্রস্ত (গ্রস্ত), গ্রামগুলি/গ্রামগুলো (গুলি/গুলো), রচনামূলক (মূলক), সেবাসমূহ (সমূহ), যত্নসহ, পরিমাপসহ (সহ), ত্রুটিজনিত, (জনিত), আশঙ্কাজনক, বিপজ্জনক (জনক), অনুগ্রহপূর্বক, উল্লেখপূর্বক (পূর্বক), প্রতিষ্ঠানভুক্ত, এমপিওভুক্ত, এমপিওভুক্তি (ভুক্ত/ভুক্তি), গ্রামভিত্তিক, এলাকাভিত্তিক, রোলভিত্তিক (ভিত্তিক), অন্তর্ভুক্তকারণ, এমপিওভুক্তকরণ, প্রতিবর্ণীকরণ (করণ), আমদানিকারক, রফতানিকারক (কারক), কষ্টদায়ক, আরামদায়ক (দায়ক), স্ত্রীবাচক (বাচক), দেশবাসী, গ্রামবাসী, এলাকাবাসী (বাসী), সুন্দরভাবে, ভালোভাবে (ভাবে), চাকরিজীবী, শ্রমজীবী (জীবী), সদস্যগণ (গণ), সহকারী, আবেদনকারী, ছিনতাইকারী (কারী), সন্ধ্যাকালীন, শীতকালীন (কালীন), জ্ঞানহীন (হীন), দিনব্যাপী, মাসব্যাপী, বছরব্যাপী (ব্যাপী) ইত্যাদি। এ ছাড়া যথাবিহিত, যথাসময়, যথাযথ, যথাক্রমে, পুনঃপুন, পুনঃপ্রকাশ, পুনঃপরীক্ষা, পুনঃপ্রবেশ, পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বহিঃপ্রকাশ শব্দগুলো একত্রে ব্যবহার হয়।

১৭. বিদেশি শব্দে ই-কার ব্যবহার হবে।
যেমন— আইসক্রিম, স্টিমার, জানুয়ারি, ফ্রেরুয়ারি, ডিগ্রি, চিফ, শিট, শিপ, নমিনি, কিডনি, ফ্রি, ফি, ফিস, স্কিন, স্ক্রিন, স্কলারশিপ, পার্টনারশিপ, ফ্রেন্ডশিপ, স্টেশনারি, নোটারি, লটারি, সেক্রেটারি, টেরিটরি, ক্যাটাগরি, ট্রেজারি, ব্রিজ, প্রাইমারি, মার্কশিট, গ্রেডশিট ইত্যাদি।

১৮. উঁঅ (ঙ) ব্যবহার যোগে কিছু শব্দ। এক্ষেত্রে অনুস্বার (ং) ব্যবহার করা যাবে না।
যেমন— অঙ্ক, অঙ্কিত, অঙ্কন, অঙ্কুর, অঙ্গ, অঙ্গন, আকাঙ্ক্ষা, আঙিনা, আঙুর (ঙ্গ বর্জন), আতঙ্ক, আশঙ্কা, ইঙ্গিত, উচ্ছৃঙ্খল, উলঙ্গ, কঙ্কাল, কঙ্কর, কামরাঙা (ঙ্গ বর্জন), গঙ্গা, গাঙ (ঙ্গ নয়), গাঙচিল (ঙ্গ নয়), চাঙ্গা, চোঙা, টাঙা, ঠুঙি (ঙ্গ নয়), ঠোঙা (ঙ্গ নয়), ঠোঙা, ডিঙা (ঙ্গ নয়), ডিঙি (ঙ্গ নয়), ডিঙানো (ঙ্গ নয়), ডিঙোনো (ঙ্গ নয়), দাঙ্গা, নোঙর (ঙ্গ নয়), প্রাঙ্গণ, প্রসঙ্গ, পঙ্‌ক্তি, পঙ্কজ, পতঙ্গ, ফিঙে (ঙ্গ বর্জন), বঙ্গ, বাঙালি, ভঙ্গ, ভঙ্গুর, ভাঙা, মঙ্গল, রঙিন (ঙ্গ নয়), রাঙা (ঙ্গ নয়), লঙ্কা, লঙ্গরখানা, লঙ্ঘন, লিঙ্গ, শঙ্কা, শঙ্খ, শৃঙ্খল, শৃঙ্গ, শশাঙ্ক, সঙ্গ, সঙ্গী, সঙ্গে, সঙ্ঘাত, হুঙ্কার, হাঙ্গামা, হাঙর (ঙ্গ নয়)।
[দ্রষ্টব্য: অলংকার, অহংকার, কিংকর, ভয়ংকর, শংকর, শুভংকর, সংকুচিত, সংকীর্ণ, সংকীর্তন, সংকেত, সংকট, সংকর, সংকল্প, সংকুল, সংকলক, সংকলন, সংগীত, সংগম, সংঘ, সংঘাত, সংঘর্ষ শব্দে ং (অনুস্বার) ব্যবহার করতে হবে।]

১৯. অনুস্বার (ং) ব্যবহার যোগে কিছু শব্দ। এক্ষেত্রে উঁঅ (ঙ) ব্যবহার করা যাবে না।
যেমন— কিংকর্তব্য, কিংকর্তব্যবিমূঢ়, কিংবদন্তি, সংজ্ঞা, সংক্রামণ, সংক্রান্ত, সংক্ষিপ্ত, সংখ্যা, সংগঠন, সংগ্রাম, সংগ্রহ, সংগৃহীত।
[দ্রষ্টব্য: বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দ দুটি অনুস্বার (ং) দিয়ে লিখতে হবে। বাংলাদেশের সংবিধানে তাই করা হয়েছে।]

২০. ‘কোণ, কোন ও কোনো’-এর ব্যবহার:
কোণ: ইংরেজিতে Angle/Corner (∠) অর্থে।
কোন: উচ্চারণ হবে কোন্। ইংরেজিতে Which অর্থে। বিশেষত প্রশ্নবোধক অর্থে ব্যবহার করা হয়। যেমন— তুমি কোন দিকে যাবে?
কোনো: ও-কার যোগে উচ্চারণ হবে। ইংরেজিতে Any অর্থে। যেমন— যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।

২১. বাংলা ভাষায় চন্দ্রবিন্দু একটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ণ। চন্দ্রবিন্দু যোগে শব্দগুলোতে চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার করতে হবে; না করলে ভুল হবে। অনেক ক্ষেত্রে চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার না করলে শব্দে অর্থের পরিবর্তন ঘটে। এ ছাড়া চন্দ্রবিন্দু সম্মানসূচক বর্ণ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। যেমন— তাহাকে>তাঁহাকে, তাকে>তাঁকে ইত্যাদি।

২২. ও-কার:
অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়া পদ এবং বিশেষণ ও অব্যয় পদ বা অন্য শব্দ যার শেষে ও-কার যুক্ত না করলে অর্থ অনুধাবনে ভ্রান্তি বা বিলম্ব সৃষ্টি হতে পারে এমন শব্দে ও-কার ব্যবহার হবে। যেমন— মতো, হতো, হলো, কেনো (ক্রয় করো), ভালো, কালো, আলো ইত্যাদি। বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া ও-কার ব্যবহার করা যাবে না। যেমন— ছিল, করল, যেন, কেন (কীজন্য), আছ, হইত, হইল, রইল, গেল, শত, যত, তত, কত, এত ইত্যাদি।

২৩. আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার হবে।
যেমন— খেয়ালি, পুবালি, বর্ণালি, মিতালি, রুপালি, স্বর্ণালি, সোনালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

২৪. জীব, -জীবী, জীবিত, জীবিকা ব্যবহার।
যেমন— সজীব, রাজীব, নির্জীব, চাকরিজীবী, পেশাজীবী, জীবিত, জীবিকা।

২৫. অদ্ভুত, ভুতুড়ে বানানে উ-কার হবে। এ ছাড়া সকল ভূতে ঊ-কার হবে। যেমন— উদ্ভূত, ভূত, ভস্মীভূত, বহির্ভূত, ভূতপূর্ব ইত্যাদি।

২৬. নীল অর্থে সকল বানানে ঈ-কার হবে। যেমন— নীল, সুনীল, নীলক, নীলিমা ইত্যাদি।

২৭. না-বাচক (নাই, নেই, না, নি) পদগুলো আলাদা করে লিখতে হবে। যেমন— বলে নাই, আমার ভয় নাই, আমার ভয় নেই, হবে না, যাবে না ইত্যাদি।
তবে সমাসবদ্ধ হিসেবে নি একসঙ্গে ব্যবহার করা যাবে। যেমন— করিনি, হয়নি ইত্যাদি।

২৮. অ-তৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দে ই-কার ব্যবহার হবে।
যেমন— সরকারি, তরকারি, গাড়ি, বাড়ি, দাড়ি, শাড়ি, চুরি, চাকরি, মাস্টারি, মালি, পাগলামি, পাগলি, বোমাবাজি, দাবি, হাতি, বেশি, খুশি, হিজরি, আরবি, ফারসি, ফরাসি, ইংরেজি, জাপানি, জার্মানি, ইরানি, হিন্দি, সিন্ধি, ফিরিঙ্গি, সিঙ্গি, ছুরি, টুপি, দিঘি, কেরামতি, রেশমি, পশমি, পাখি, ফরিয়াদি, আসামি, বেআইনি, কুমির, নানি, দাদি, বিবি, চাচি, মাসি, পিসি, দিদি, বুড়ি, নিচু।

বাংলা বানানের সহজ নিয়ম

২৯. ত্ব, তা, নী, ণী, সভা, পরিষদ, জগৎ, বিদ্যা, তত্ত্ব শব্দের শেষে যোগ হলে ই-কার হবে।
যেমন— দায়িত্ব (দায়ী), প্রতিদ্বন্দ্বিতা (প্রতিদ্বন্দ্বী), প্রার্থিতা (প্রার্থী), দুঃখিনী (দুঃখী), অধিকারিণী (অধিকারী), সহযোগিতা (সহযোগী), মন্ত্রিত্ব, মন্ত্রিসভা, মন্ত্রিপরিষদ (মন্ত্রী), প্রাণিবিদ্যা, প্রাণিতত্ত্ব, প্রাণিজগৎ, প্রাণিসম্পদ (প্রাণী) ইত্যাদি।

৩০. ঈ, ঈয়, অনীয় প্রত্যয় যোগ ঈ-কার হবে। যেমন— জাতীয় (জাতি), দেশীয় (দেশি ), পানীয় (পানি), জলীয়, স্থানীয়, স্মরণীয়, বরণীয়, গোপনীয়, ভারতীয়, মাননীয়, বায়বীয়, প্রয়োজনীয়, পালনীয়, তুলনীয়, শোচনীয়, রাজকীয়, লক্ষণীয়, করণীয়।

৩১. রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না৷ যেমন— অর্চনা, অর্জন, অর্থ, অর্ধ, কর্দম, কর্তন, কর্ম, কার্য, গর্জন, মূর্ছা, কার্তিক, বার্ধক্য, বার্তা, সূর্য৷

৩২. ভাষা ও জাতিতে ই-কার হবে। যেমন— বাঙালি/বাঙ্গালি, জাপানি, ইংরেজি, জার্মানি, ইরানি, হিন্দি, আরবি, ফারসি ইত্যাদি।

৩৩. ব্যক্তির ‘-কারী’ বা ‘-আরী’-তে ঈ-কার হবে। যেমন— সহকারী, উপকারী, অধিকারী, আবেদনকারী, পথচারী, কর্মচারী ইত্যাদি। এমনটা নয়—সেখানে ই-কার হয়। যেমন— সরকারি, দরকারি, তরকারি, শিকারি ইত্যাদি।

৩৪. প্রমিত বানানে শব্দের শেষে ঈ-কার থাকলে –গণ যোগে ই-কার হয়। যেমন— সহকারী>সহকারিগণ, কর্মচারী>কর্মচারিগণ, কর্মী>কর্মিগণ, আবেদনকারী>আবেদনকারিগণ ইত্যাদি।

৩৫. ‘বেশি’ এবং ‘-বেশী’ ব্যবহার: ‘বহু’, ‘অনেক’ অর্থে ব্যবহার হবে ‘বেশি’। শব্দের শেষে যেমন— ছদ্মবেশী, প্রতিবেশী অর্থে ‘-বেশী’ ব্যবহার হবে।

৩৬. ‘ৎ’-এর সাথে স্বরচিহ্ন যোগ হলে ‘ত’ হবে। যেমন— জগৎ>জগতে জাগতিক, বিদ্যুৎ>বিদ্যুতে বৈদ্যুতিক, ভবিষ্যৎ>ভবিষ্যতে, আত্মসাৎ>আত্মসাতে, সাক্ষাৎ>সাক্ষাতে ইত্যাদি।

৩৭. ইক প্রত্যয় যুক্ত হলে যদি শব্দের প্রথমে অ-কার থাকে তা পরিবর্তন হয়ে আ-কার হবে। যেমন— অঙ্গ>আঙ্গিক, বর্ষ>বার্ষিক, পরস্পর>পারস্পরিক, সংস্কৃত>সাংস্কৃতিক, অর্থ>আর্থিক, পরলোক>পারলৌকিক, প্রকৃত>প্রাকৃতিক, প্রসঙ্গ>প্রাসঙ্গিক, সংসার>সাংসারিক, সপ্তাহ>সাপ্তাহিক, সময়>সাময়িক, সংবাদ>সাংবাদিক, প্রদেশ>প্রাদেশিক, সম্প্রদায়>সাম্প্রদায়িক ইত্যাদি।

৩৮. সাধু থেকে চলিত রূপের শব্দসমূহ যথাক্রমে দেখানো হলো: হউক>হোক, যাউক>যাক, থাউক>থাক, লিখ>লেখ, গুলি>গুলো, শুন>শোন, শুকনা>শুকনো, ভিজা>ভেজা, ভিতর>ভেতর, দিয়া>দিয়ে, গিয়া>গিয়ে, হইল>হলো, হইত>হতো, খাইয়া>খেয়ে, থাকিয়া>থেকে, উল্টা>উল্টো, বুঝা>বোঝা, পূজা>পুজো, বুড়া>বুড়ো, সুতা>সুতো, তুলা>তুলো, নাই>নেই, নহে>নয়, নিয়া>নিয়ে, ইচ্ছা>ইচ্ছে ইত্যাদি।

৩৯. হয়তো, নয়তো বাদে সকল তো আলাদা হবে। যেমন— আমি তো যাব না, সে তো আসবে না ইত্যাদি।
[দ্রষ্টব্য: মূল শব্দের শেষে আলাদা তো ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে।]

৪০. ঙ, ঞ, ণ, ন, ম, ং বর্ণগুলোর পূর্বে ঁ হবে না। অর্থাৎ ঙ, ঞ, ণ, ন, ম, ং = ঁ। যেমন— খান=খাঁ, চান/চন্দ/চন্দ্র=চাঁদ, পঞ্চ=পাঁচ, ফান্দ=ফাঁদ, গাঞ্জা=গাঁজা, চান্দা=চাঁদা, অঙ্কন=আঁকা, কঙ্কণ=কাঁকন, হংস=হাঁস, অন্ধকার/আন্ধার=আঁধার, বন্ধন=বাঁধন/বাঁধা, কণ্টক=কাঁটা, ক্রন্দন/কান্দা=কাঁদা, ইন্দুর=ইঁদুর, বান্দর=বাঁদর, সিন্দূর=সিঁদুর, চম্পা=চাঁপা ইত্যাদি।

বাংলা বানানের সহজ নিয়ম

৪১. ব্য- ব্যা- ব্যবহার:
☞ ক্ত, গ, জ/ঞ্জ, ত, থ, ব, ভ, ষ্ট, স্ত-এর পূর্বে ব-এ য-ফলা (ব্য) হবে। যেমন— ব্যক্ত, ব্যক্তি, ব্যঞ্জন, ব্যতিক্রম, ব্যথা, ব্যর্থ, ব্যবস্থা, ব্যভিচার, ব্যষ্টি, ব্যস্ত ইত্যাদি।
☞ ক, খ, ঘ, দ, ধ, প, প্ত, স, হ-এর পূর্বে ব-এ য-ফলা আ-কার (ব্যা) হবে। যেমন—ব্যাকরণ, ব্যাকুল, ব্যাখ্যা, ব্যাঘাত, ব্যাধি, ব্যাপক, ব্যাপার, ব্যাপ্তি, ব্যাস, ব্যাসার্ধ ব্যাহত ইত্যাদি।

☞ ব, প, স, বর্ণগুলোতে কিছুটা ব্যক্তিক্রম আছে। তবে ব্যক্তিক্রম বানানগুলোর প্রচলন নেই বললেই চলে। তাই ভয়ের কোনো কারণ নেই। ব্যঙ্গ, ব্যয় দ্বারা গঠিত শব্দে ব্য হবে। ব্যাঙাচি, ব্যাঙ্গম, ব্যাঙ্গমি, ব্যায়াম শব্দে ব্যা হবে। ব্যাবসাব্যবসায়ী>ব্যাবসায়িক, ব্যবহার>ব্যবহারী>ব্যাবহারিক।

৪২. -এর, -এ, কে এবং -কে ব্যবহার:
☞ চিহ্নিত বাক্য বা উক্তির সাথে সমাসবদ্ধ রূপ। যেমন— গুলিস্তান ‘ভাসানী হকি ষ্টেডিয়াম’-এর সাইনবোর্ডে স্টেডিয়াম বানানটি ভুল।

☞ চিহ্নিত শব্দের সাথে সমাসবদ্ধ রূপ। যেমন— ‘বাবাচ’-এর পক্ষ থেকে অভিনন্দন। এখানে ঊর্ধ্ব কমা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঊর্ধ্ব কমা তুলে দিলে অর্থাৎ চিহ্নিত না-করলে সরলভাবে ব্যবহার হবে। যেমন— বাবাচের পক্ষ থেকে অভিনন্দন।

☞ শব্দের পরে যেকোনো প্রতীকের সাথে সমাসবদ্ধ রূপ। যেমন— হাদিস রাসুল (সা.)-এর বাণী।

☞ বিদেশি শব্দ অর্থাৎ বাংলায় প্রতিবর্ণীকরণ নয় এমন শব্দের সাথে সমাসবদ্ধ রূপ। যেমন— SMS-এর মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হবে।

☞ গাণিতিক শব্দের সাথে সমাসবদ্ধ রূপ। যেমন— ৫-এর চেয়ে ২ কম। ১৯৭১-এর সময়।

☞ সংক্ষিপ্ত শব্দের সাথে সমাসবদ্ধ রূপ। যেমন— অ্যাগ্রো কোম্পানি লি.-এর সাথে চুক্তি।

☞ প্রশ্নবোধক অর্থে ‘কে’ (ইংরেজিতে Who অর্থে) আলাদা ব্যবহার হয়। যেমন— হৃদয় কে?

☞ প্রশ্ন করা বোঝায় না এমন শব্দে ‘-কে’ একসাথে ব্যবহার হবে। যেমন— হৃদয়কে আসতে বলো।

☞ নামোজ্জ্বলে ‘-কে’ ‘-এর’ ব্যবহার:
নাম বিচিত্রবর্ণে সাজানোর ক্ষেত্রে সমাসবদ্ধ ‘-কে’‘-এর’-কে হাইফেন দ্বারা আলাদা করা যায়। যেমন—
মাসুদ-কে ভোট দিন (এখানে মাসুদ লেখাটি বিচিত্ররূপ ধারণ করবে)
বাবাচ-এর পক্ষ থেকে (এখানে বাবাচ লেখাটি বিচিত্ররূপ ধারণ করবে)
রানা-এর আগমন (এখানে রানা লেখাটি বিচিত্ররূপ ধারণ করবে)
রানা-র আগমন (এখানে রানা লেখাটি বিচিত্ররূপ ধারণ করবে)

এ ছাড়া সরলভাবে বাক্য গঠনে ‘-কে’, ‘-এর’ এবং ‘-এ’-কে একসাথে লিখতে হবে। যেমন– জনস্বার্থে মাসুদকে ভোট দিন; বাবাচের পক্ষ থেকে অভিনন্দন; ঢাকায় রানার আগমন। ‘-কে’ এবং ‘-এর’-কে আলাদা করতে হলে অবশ্যই হাইফেন ( -) ব্যবহার করতে হবে। অনেকেই ভুলবশত হাইফেন ব্যবহার করে না। এক্ষেত্রে লোপচিহ্ন ব্যবহার করা যাবে না। শব্দ গঠনে -এর/-এ ব্যবহার হবে না। যেমন– রং-এ নয় রঙে, ভাই-এর নয় ভাইয়ের, বউ-এর নয় বউয়ের, যাচাই-এ নয় যাচাইয়ে, অফিস-এর নয় অফিসের, শুটিং-এর নয় শুটিংয়ের, বাংলাদেশ-এর নয় বাংলাদেশের, কোম্পানি-এর নয় কোম্পানির, শিক্ষক-এর নয় শিক্ষকের, স্টেডিয়াম-এ নয় স্টেডিয়ামে লিখতে হবে।

বাংলা বানানের সহজ নিয়ম

৪৩. বিসর্গ (ঃ ) ব্যবহার:
বিসর্গ একটি বাংলা বর্ণ—এটি কোনো চিহ্ন নয়। বর্ণ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। বিসর্গ (ঃ) হলো অঘোষ ‘হ্‌’-এর উচ্চারণে প্রাপ্ত ধ্বনি। ‘হ’-এর উচ্চারণ ঘোষ কিন্তু বিসর্গ (ঃ)-এর উচ্চারণ অঘোষ। বাংলায় ভাষায় বিস্ময়াদি প্রকাশে বিসর্গ (ঃ )-এর উচ্চারণ প্রকাশ পায়। যেমন— আঃ, উঃ, ওঃ, ছিঃ, বাঃ, হাঃ। পদের শেষে বিসর্গ (ঃ) ব্যবহার হবে না। যেমন— ধর্মত, কার্যত, আইনত, ন্যায়ত, করত, বস্তুত, ক্রমশ, প্রায়শ ইত্যাদি। পদমধ্যস্থে বিসর্গ ব্যবহার হবে। যেমন— অতঃপর, দুঃখ, স্বতঃস্ফূর্ত, অন্তঃস্থল, পুনঃপুন, পুনঃপ্রকাশ, পুনঃপরীক্ষা, পুনঃপ্রবেশ, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ইত্যাদি। শব্দকে সংক্ষিপ্ত রূপে প্রকাশে বিসর্গ ব্যবহার করা হলেও আধুনিক বানানে ডট ( . ) ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন— ডাক্তার>ডা., ডক্টর>ড., লিমিটেড> লি. ইত্যাদি। বিসর্গ যেহেতু বাংলা বর্ণ এবং এর নিজস্ব ব্যবহার বিধি আছে—তাই এ ধরনের বানানে (ডাক্তার>ডা., ডক্টর>ড., লিমিটেড> লি.) বিসর্গ ব্যবহার করা যাবে না। কারণ বিসর্গ যতিচিহ্ন নয়।
[সতর্কীকরণ: বিসর্গ (ঃ)-এর স্থলে কোলন ( : ) কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। যেমন— অত:পর, দু:খ ইত্যাদি। কারণ কোলন ( : ) কোনো বর্ণ নয়, চিহ্ন। যতিচিহ্ন হিসেবে বিসর্গ (ঃ) ব্যবহার যাবে না। যেমন— নামঃ রেজা, থানাঃ লাকসাম, জেলাঃ কুমিল্লা, ১ঃ৯ ইত্যাদি।]

বিসর্গসন্ধি:
বিসর্গ (ঃ )-এর সঙ্গে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয়, তাকে বিসর্গসন্ধি বলে। উচ্চারণের দিক থেকে বিসর্গ দু রকম :

১. র্ -জাত বিসর্গ: শব্দের শেষে র্ থাকলে উচ্চারণের সময় র্ লোপ পায় এবং র্-এর জায়গায় বিসর্গ (ঃ) হয়। উচ্চারণে র্ বজায় থাকে। যেমন— অন্তর>অন্তঃ+গত=অন্তর্গত ( অন্‌তোর্‌গতো)।

২. স্-জাত বিসর্গ: শব্দের শেষে স্ থাকলে সন্ধির সময় স্ লোপ পায় এবং স্-এর জায়গায় বিসর্গ ( ঃ ) হয়। উচ্চারণে স্ বজায় থাকে। যেমন : নমস্ > নমঃ + কার = নমস্কার ( নমোশ্‌কার্‌)।

বিসর্গসন্ধি দু-ভাবে সাধিত হয়: ১. বিসর্গ ( ঃ ) ও স্বরধ্বনি মিলে; ২. বিসর্গ ( ঃ ) ও ব্যঞ্জনধ্বনি মিলে।

১. বিসর্গ ও স্বরধ্বনির সন্ধি:
ক. অ-ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে অ-ধ্বনি থাকলে বিসর্গ ও অ-ধ্বনি স্থলে ও-কার হয়। যেমন—
ততঃ + অধিক = ততোধিক
যশঃ + অভিলাষ = যশোভিলাষ
বয়ঃ + অধিক = বয়োধিক
খ. অ-ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে অ, আ, উ-ধ্বনি থাকলে বিসর্গ ও অ-ধ্বনি মিলে র হয়। যেমন—
পুনঃ + অধিকার = পুনরধিকার
প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ
পুনঃ + আবৃত্তি = পুনরাবৃত্তি
পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত

২. বিসর্গ ও ব্যঞ্জনধ্বনির সন্ধি:
ক. অ-ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে বর্গের ৩য়/ ৪র্থ/ ৫ম ধ্বনি অথবা য, র, ল, হ থাকলে বিসর্গ ও অ-ধ্বনি স্থলে র-জাত বিসর্গে র/ রেফ (র্) এবং স-জাত বিসর্গে ও-কার হয়। যেমন—
র-জাত বিসর্গ : র্
অন্তঃ + গত = অন্তর্গত
পুনঃ + জন্ম = পুনর্জন্ম
অন্তঃ + ধান = অন্তর্ধান
পুনঃ + বার = পুনর্বার
অন্তঃ + ভুক্ত = অন্তর্ভুক্ত
পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন

স-জাত বিসর্গ : ও
মনঃ + গত = মনোগত
সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত
তিরঃ + ধান = তিরোধান
তপঃ + বন = তপোবন
অধঃ + মুখ = অধোমুখ
মনঃ + যোগ = মনোযোগ
মনঃ + রম = মনোরম
মনঃ + লোভা = মনোলোভা
মনঃ + হর = মনোহর

খ. বিসর্গের পরে চ/ছ থাকলে বিসর্গের স্থলে শ; ট/ঠ থাকলে ষ এবং ত/থ থাকলে স হয়। যেমন—
নিঃ + চয় = নিশ্চয়
দুঃ + চরিত্র = দুশ্চরিত্র
ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার
নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর
চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়
দুঃ + তর = দুস্তর
নিঃ + তেজ = নিস্তেজ
ইতঃ + তত = ইতস্তত
দুঃ + থ = দুস্থ

গ. অ/আ ভিন্ন অন্য স্বরের সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে স্বরধ্বনি, বর্গের ৩য় / ৪র্থ / ৫ম ধ্বনি অথবা য, র, ল, হ থাকলে বিসর্গ স্থলে র হয়। যেমন—
নিঃ + অবধি = নিরবধি
নিঃ + আপদ = নিরাপদ
নিঃ + গত = নির্গত
নিঃ + ঘণ্ট = নির্ঘণ্ট
নিঃ + বাক = নির্বাক
নিঃ + ভয় = নির্ভয়
আবিঃ + ভাব = আবির্ভাব
আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ

দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা
দুঃ + আচার = দুরাচার
দুঃ + গতি = দুর্গতি
দুঃ + বোধ = দুর্বোধ
প্রাদুঃ + ভাব = প্রাদুর্ভাব
দুঃ + মর = দুর্মর
দুঃ + যোগ = দুর্যোগ
দুঃ + লভ = দুর্লভ

ঘ. র-জাত বিসর্গের পরে র থাকলে বিসর্গ লোপ পায় এবং প্রথমে ই-কার থাকলে তা ঈ-কার হয়। যেমন—
নিঃ + রব = নীরব
নিঃ + রস = নীরস
নিঃ + রোগ = নীরোগ

ঙ. অ/আ ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে ক, খ, প, ফ থাকলে বিসর্গ স্থলে স হয়। যেমন—
নমঃ + কার = নমস্কার
তিরঃ + কার = তিরস্কার
পুরঃ + কার = পুরস্কার
ভাঃ + কর = ভাস্কর

চ. ই/উ ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে ক, খ, প, ফ থাকলে বিসর্গ স্থলে ষ হয়। যেমন—
নিঃ + কাম = নিষ্কাম
নিঃ + পাপ = নিষ্পাপ
নিঃ + ফল = নিষ্ফল
বহিঃ + কার = বহিষ্কার
চতুঃ + পদ = চতুষ্পদ
চতুঃ + কোণ = চতুষ্কোণ

ছ. কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্ধির বিসর্গ লোপ পায় না। যেমন—
প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল
মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট
শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া
অন্তঃ + করণ = অন্তঃকরণ

বাংলা বানানের সহজ নিয়ম

৪৪. ম-ফলা, ব-ফলা ও য-ফলার উচ্চারণ:
ম-ফলার উচ্চারণ:
☞ পদের প্রথমে ম-ফলা থাকলে সে বর্ণের উচ্চারণে কিছুটা ঝোঁক পড়ে এবং সামান্য নাসিক্যস্বর হয়। যেমন— শ্মশান (শঁশান্), স্মরণ (শঁরোন্)। কখনো কখনো ‘ম’ অনুচ্চারিত থাকতেও পারে। বিশেষ করে যেমন— স্মৃতি (সৃতি বা সৃঁতি)।

☞ পদের মধ্যে বা শেষে ম-ফলা যুক্ত হলে উচ্চারণে সে বর্ণের দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য নাসিক্যস্বর হয়। যেমন— আত্মীয় (আত্‌তিঁয়), পদ্ম (পদ্‌দোঁ), বিস্ময় (বিশ্‌শঁয়), ভস্মস্তূপ (ভশ্‌শোঁস্‌তুপ্‌), ভস্ম (ভশ্‌শোঁ), রশ্মি (রোশ্‌শিঁ)।

☞ গ, ঙ, ট, ণ, ন, বা ল বর্ণের সঙ্গে ম-ফলা যুক্ত হলে, ম-এর উচ্চারণ বজায় থাকে। যুক্ত ব্যঞ্জনের প্রথম বর্ণের স্বর লুপ্ত হয়। যেমন— বাগ্মী (বাগ্‌মি), যুগ্ম (যুগ্‌মো), মৃন্ময় (মৃন্‌ময়), জন্ম (জন্‌মো), গুল্ম (গুল্‌মো)।
ব-ফলার উচ্চারণ:

☞ শব্দের প্রথমে ব-ফলা যুক্ত হলে উচ্চারণে শুধু সে বর্ণের উপর অতিরিক্ত ঝোঁক পড়ে। যেমন— ক্বচিৎ (কোচিৎ), দ্বিত্ব (দিত্‌তো), শ্বাস (শাশ্), স্বজন (শজোন), দ্বন্দ্ব (দন্‌দো)।

☞ শব্দের মধ্যে বা শেষে ব-ফলা যুক্ত হলে যুক্ত ব্যঞ্জনটির দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়। যেমন— বিশ্বাস (বিশ্‌শাশ্), পক্ব (পক্‌কো), অশ্ব (অশ্‌শো)।
☞ সন্ধিজাত শব্দে যুক্ত ব-ফলায় ব-এর উচ্চারণ বজায় থাকে। যেমন— দিগ্বিজয় (দিগ্‌বিজয়), দিগ্বলয় (দিগ্‌বলয়)।
☞ শব্দের মধ্যে বা শেষে ‘ব’ বা ‘ম’-এর সঙ্গে ব-ফলা যুক্ত হলে ব-এর উচ্চারণ বজায় থাকে। যেমন— তিব্বত (তিব্‌বত), লম্ব (লম্‌বো)।
☞ উৎ উপসর্গের সঙ্গে ব-ফলা যুক্ত হলে ব-এর উচ্চারণ বহাল থাকে। যেমন— উদ্বাস্তু (উদ্‌বাস্‌তু), উদ্বেল (উদ্‌বেল্‌)।
☞ ‘হ’-এর পর ব-ফলা থাকলে হ+ব-ফলা ‘ওভ’ উচ্চারিত হয়। যেমন— জিহ্বা (জিওভা), গহ্বর (গওভর), আহ্বান (আওভান) ইত্যাদি।

য-ফলার উচ্চারণ:
☞ য-ফলার পর ব্যঞ্জনধ্বনি বা অ, আ, ও ধ্বনি থাকলে য-ফলা ‘অ্যা’ উচ্চারিত হয়। যেমন— ব্যবহার (ব্যাবোহার্‌), ব্যস্ত (ব্যাস্‌তো) ইত্যাদি।
☞ য-ফলার পরে ‘ই’ ধ্বনি থাকলে য-ফলা ‘এ’ উচ্চারিত হয়। যেমন— ব্যক্তি (বেক্‌তি), ব্যতীত (বেতিতো) ইত্যাদি।
☞ য-ফলা শব্দের মাঝে বা শেষে থাকলে ‘দ্বিত্ব’ উচ্চারিত হয়। যেমন— বিদ্যুৎ (বিদ্‌দুত্‌), বিদ্যা (বিদ্‌দা) ইত্যাদি।
☞ শব্দের প্রথমে য-ফলার সাথে উ-কার, ঊ-কার, ও-কার থাকলে য-ফলার উচ্চারণ হয় না। যেমন— দ্যুতি (দুতি), জ্যোতি (জোতি) ইত্যাদি।
☞ ‘হ’-এর পর য-ফলা থাকলে হ+য-ফলা ‘জ্‌ঝ’ উচ্চারিত হয়। যেমন— সহ্য (শোজ্‌ঝো), গ্রাহ্য (গ্রাজ্‌ঝো) ইত্যাদি।

☞ উদ্যোগ শব্দটির উচ্চারণ বাংলায় দুটি পাওয়া যায়— উদ্‌দোগ ও উদ্‌জোগ। তবে জনমনে বেশি প্রচলিত উদ্‌দোগ। অনেকের মতে উদ্যোগকে যদি সংস্কৃত ভেঙে উদ্‌যোগ রূপে লেখা হয়—তবে এর উচ্চারণ উদ্‌জোগ হবে।
☞ য বা য-ফলার আদি বা সংস্কৃত উচ্চারণ ‘ইঅ (ইয়)’। যেমন— যামিনী (ইয়ামিনি), শ্যাম (শিয়াম) ইত্যাদি।
[দ্রষ্টব্য: আমাদের অবশ্যই বাংলা বানান ও বাংলা বানানের উচ্চারণ সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। কারণ বাংলা বানান ও উচ্চারণের পার্থক্য রয়েছে। যেমন— আছ (আছো), দেখা (দ্যাখা), একা (অ্যাকা) ইত্যাদি।]

৪৫. কোলন ( : ) ও ডট ( . )-এর স্থলে বিসর্গ (ঃ) ব্যবহার বেশ লক্ষণীয়। আমাদের অবশ্যই জানা উচিত বিসর্গ (ঃ) কোনো যতিচিহ্ন নয়—এটি একটি বর্ণ। বর্ণ হিসেবে এর ব্যবহার করতে হবে। যেমন— আঃ (আহ্), উঃ (উহ্), ওঃ (ওহ্), ছিঃ (ছিহ্), বাঃ (বাহ্), হাঃ (হাহ্), দুঃখ। পদের শেষে বিসর্গ ব্যবহার হবে না। যেমন— আইনত, ন্যায়ত। বিসর্গের স্থলে কোলন ব্যবহার করা যাবে না। যেমন— দু:খ (দুঃখ), আ: (আঃ)। সংক্ষিপ্ত শব্দে ডট (.) ব্যবহার হবে। যেমন— ড. (ডক্টর), ডা. (ডাক্তার), মি. (মিস্টার), লি. (লিমিটেড)।

বাংলা বানানের সহজ নিয়ম

৪৬. বিরাম বা যতিচিহ্ন:
☞ ডট ( . ) ব্যবহার:
বাংলায় সংক্ষিপ্ত শব্দে ডট ব্যবহার হবে। যেমন— ড. (ডক্টর), লি. (লিমিটেড), মি. (মিস্টার) ইত্যাদি। ইংরেজিতে Govt. (Government), Ltd. (Limited), Mr. (Mister), Dr. (Doctor)। ইংরেজি শব্দের সংক্ষিপ্ত বর্ণ রূপে (Abbreviation) ডট ব্যবহার না করাই ভালো। যেমন— SSC, HSC, SMS, MMS, BSS, BA, JSC, MPO, UN, BGB, BSF, RDRS, BRAC, BPL, IPL, ICC, BBC, WFP; বাংলায় এসএসসি, এইচএসসি, এসএমএস, এমএমএস, বিএ, বিকম, বিএসএস, বিএসসি, সিইনএড, পিএইচডি, পিসি, আইসিসি, ইউএন, বিবিসি ইত্যাদি। এক্ষেত্রে ডট ব্যবহার করা ভুল নয়—তবে আমাদের দ্বারা ভুলের সৃষ্টি হতে পারে। যেমন— BSc, PhD লিখতে গিয়ে B.S.C., P.H.D. লেখা। BSc, PhD-তে ডট ব্যবহার এভাবে হবে B.Sc., Ph.D. শুধু মাঝে ডট দিলে চলবে না; যেমন— B.Sc, Ph.D অর্থাৎ Sc. ও D.-এর পরেও ডট হবে—অনুরূপ বাংলাতেও। সুতরাং ভুল এড়াতে এবং বাংলা বানানের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ডট ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এসব শব্দে হাইফেন ( – ) ও কমা ( , ) ব্যবহার করা যাবে না।

কোলন ( : ) ব্যবহার:
☞ উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত বোঝাতে কোলন ব্যবহার হয়।
বাংলা সন্ধি দু প্রকার : স্বরসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধি।

☞ ব্যাখ্যামূলক/বিবরণমূলক শব্দে কোলন ব্যবহার হয়।
নাম: শামস
পিতার নাম: শামসুল
ঠিকানা: গ্রাম– পায়রাবন্দ, ডাকঘর– পায়রাবন্দ, উপজেলা– রংপুর, জেলা– রংপুর।
বিষয়: বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন।
মোবাইল: ০১*******০০
নিচ: নিচু, তল, নিচের দিক
নীচ: নিকৃষ্ট, হীন
☞ গাণিতিক ক্ষেত্রে কোলন ব্যবহার হয়।
১:৯ (অনুপাত)

☞ সময় ও তারিখে কোলন ব্যবহার হয়।
২:৩০ মিনিট
তারিখ: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৩
☞ নাটকের সংলাপের আগে কোলন ব্যবহার হয়।
দুকড়ি: কী চাই?
কাঙালি: আজ্ঞে, মহাশয় হচ্ছেন দেশহিতৈষী।
[দ্রষ্টব্য: ১ হতে ৪৪ নং ক্রমিকগুলো লক্ষ করলে কোলনের ব্যবহার বুঝতে সুবিধা হবে। আমাদের অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে বিসর্গ আর কোলন এক নয়। বিসর্গ বাংলা বর্ণ; কোলন যতিচিহ্ন।]

হাইফেন/যুক্তচিহ্ন ( – ) ব্যবহার:
সমাসবন্ধ পদে হাইফেন ব্যবহার হবে। যেমন— উপ-সহকারী, ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম, মুহাম্মদ (সা.)-কে আল-আমিন বলা হতো, বিনোদ (২৮)-এর মৃত্যু, Sub-district, SMS-এর মাধ্যমে পাঠাতে হবে, ISF-সহ, ৩-এর, ৫-সহ ইত্যাদি। এ ছাড়া শব্দকে ভেঙে দেওয়া ক্ষেত্রেও হাইফেন ব্যবহার হয়। যেমন— আন্ত-
র্জাতিক ইত্যাদি। হাইফেনের শুরুতে বা শেষে কোনো ফাঁকা (স্পেস) হবে না। অর্থাৎ দুটি শব্দকে একত্রে রাখবে।

ড্যাশ (—) ব্যবহার:
এম ড্যাশ (—) আকারে হাইফেনের তিনগুণ বড়। একই লাইনে বা, একই প্যারায় যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে দুই বা তারচেয়েও বেশি পৃথক বাক্য লেখার সময় তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে ড্যাশ চিহ্ন ব্যবহার করা যায়। যেমন— তোমরা দরিদ্রের উপকার কর—এতে তোমাদের সম্মান যাবে না—বাড়বে। অসম্পূর্ণ বাক্যের শেষেও ড্যাশ ব্যবহার হয়। যেমন—
বাংলাদেশের রাজধানী হচ্ছে—
ক. চট্টগ্রাম খ. খুলনা গ. ঢাকা ঘ. রাজশাহী।
এন ড্যাশ (–) আকারে হাইফেনের দেড়গুণ বড়। সমার্থক ও বিপরীত ধর্মী শব্দে এন ড্যাশ ব্যবহার হয়। যেমন— দেশি–বিদেশি, সত্য–মিথ্যা ইত্যাদি। এ ছাড়া থেকে বা হতে অর্থেও ব্যবহার হয়। যেমন— ১০–১২ বছর, ঢাকা–খুলনা ইত্যাদি। এ ধরনের শব্দে হাইফেন ব্যবহার করা যেতে পারে।
কোটেশন মার্ক/ইনভার্টেড কমা/উদ্ধৃতিচিহ্ন ( ‘ ’ “ ” ) ব্যবহার:
শব্দকে চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে একটি উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহার হয়। যেমন— ‘সোনার তরি’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। উক্তিবাচক শব্দে দুটি উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহার হবে। যেমন— রেজা বলল, “আমি এখন স্কুলে যাই।”

অ্যাপস্ট্রফি/লোপচিহ্ন ( ’ ) ব্যবহার:
শব্দকে সংক্ষিপ্তকরণে এর ব্যবহার হয়। যেমন— ’৭১ সাল (১৯৭১ সাল)। কবিতায় ছন্দের মিল রাখতে লোপচিহ্ন ব্যবহার হয়। বাংলা বানানে লোপচিহ্নের ব্যবহার বর্জনীয়।

অবলিক/স্ল্যাশ/অথবা/বিকল্পচিহ্ন ( / ) ব্যবহার:
বিকল্প শব্দের মাঝে অবলিক ( / ) বসে। সহজ কথায় এটা নয় ওটা এরূপ বোঝাতে অবলিক ব্যবহার হয়। যেমন—
বৈবাহিক অবস্থা: বিবাহিত/অবিবাহিত ইত্যাদি। যেখানে দু-ই বিদ্যমান যেখানে বিকল্পচিহ্ন ব্যবহার হবে না। যেমন— বিদ্যালয়ে শিক্ষক/কর্মচারী সংখ্যা কম বা, ছাত্র/ছাত্রী সংখ্যা অনেক বেশি। শুদ্ধরূপ হচ্ছে— শিক্ষক–কমচারী ও ছাত্র–ছাত্রী (ছাত্রছাত্রী)।
স্মারক ও তারিখে অবলিক ব্যবহার হয়। যেমন— ঢাবি/পরী/২০১২-১৩, তারিখ- ১২/১২/২০১২খ্রি.। ইন্টারনেট ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে লেখার সময় বলা হয় স্ল্যাশ।

বাংলা বানানের সহজ নিয়ম

যতিচিহ্নের কিছু অশুদ্ধ ও শুদ্ধ ব্যবহার :
চিহ্নের নাম>>>>>> শুদ্ধ >>>> অশুদ্ধ
কোলন >>>>>>> ( : ) >>>>( ঃ )
কোলন-ড্যাশ >>> ( :— ) >>> (ঃ- ) [বিসর্গ ব্যবহার হবে শব্দগঠনে। যেমন- দুঃখ, ইতঃপূর্বে।]
ড্যাশ>>>>>>>> ( — )>>>> ( – )
হাইফেন >>>>>> ( – ) >>>> ( — )
অশুদ্ধ ব্যবহার: পরীক্ষা/২০১২, ২০১২/১৩ শিক্ষাবর্ষ, ২০১২/১৩ অর্থবছর, ১ জানুয়ারি/২০১২ ইত্যাদি।
শুদ্ধ ব্যবহার: পরীক্ষা ২০১২ অথবা, পরীক্ষা–২০১২, ২০১২–১৩ শিক্ষাবর্ষ, ২০১২–১৩ অর্থবছর, ১ জানুয়ারি ২০১২।

☞ বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, সংগঠন, প্রতিষ্ঠান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পরিবহণ, ব্যানার-পোস্টার ও চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যেসব বানান বেশি ভুল ব্যবহার হচ্ছেঃ-

শুদ্ধ রূপ——অশুদ্ধ রূপ
অ্যাডভোকেট——এডভোকেট ***
অ্যান্ড——এণ্ড ***
অ্যাম্বুলেন্স——এম্বুলেন্স ***
অ্যালবাম——এলবাম **
অ্যাসিস্ট্যান্ট——এসিসটেন্ট ***
আকাঙ্ক্ষা——আকাংখা ***
আগস্ট——আগষ্ট**
আলহাজ——আলহাজ্ব ***
ইতোমধ্যে——ইতিমধ্যে

শুদ্ধ রূপ——অশুদ্ধ রূপ
ইতঃপূর্বে——ইতিপূর্বে
ইনস্টিটিউট——ইনষ্টিটিউট **
উপর্যুক্ত/উপরিউক্ত——উপরোক্ত ***
উল্লিখিত——উল্লেখিত ***
এতদ্দ্বারা——এতদ্বারা ***
কাঙ্ক্ষিত——কাংখিত ***
কোনো——কোন **
কোম্পানি——কোম্পানী **
কর্নার——কর্ণার **
কর্নেল——কর্ণেল **
গভর্নর——গভর্ণর **
চাকরি——চাকুরী ***

শুদ্ধ রূপ——অশুদ্ধ রূপ
চাকরিজীবী——চাকুরীজীবি (-জীবী—আইনজীবী, পেশাজীবী)
চিফ——চীফ ***
চত্বর——চত্ত্বর **
জানুয়ারি——জানুয়ারী ***
জরুরি——জরুরী **
ট্রেজারি——ট্রেজারী ***
যেকোনো——যে কোন/যেকোন ***
টেরিটরি——টেরিটরী **
দেওয়া——দেয়া **
দুর্ঘটনা——দূর্ঘটনা **
দুর্যোগ——দূর্যোগ **
দুর্নীতি——দূর্নীতি **
নিখুঁত——নিখুত ***
নিখোঁজ——নিখোজ **

শুদ্ধ রূপ——অশুদ্ধ রূপ
নির্ভুল——নির্ভূল **
নেওয়া——নেয়া **
নোটারি——নোটারী ***
নমিনি——নমিনী ***
প্রত্যয়নপত্র——প্রত্যয়ন পত্র (পত্র একসঙ্গে হবে—চিঠিপত্র, সংবাদপত্র) ***
পাস——পাশ (Pass) ***
পিস——পিচ/পিছ (Piece) ***
পচা——পঁচা ***
পোস্টার——পোষ্টার ***
পোস্ট——পোষ্ট ***
পুনর্মিলন——পূর্ণমিলন/পূনর্মিলন ***

শুদ্ধ রূপ——অশুদ্ধ রূপ
ফ্যাক্টরি——ফ্যাক্টরী ***
ফার্নিচার——ফার্ণিচার ***
ফার্মেসি——ফার্মেসী ***
ফেব্রুয়ারি——ফেব্রুয়ারী ***
ফটোস্ট্যাট——ফটোষ্ট্যাট ***
ফাঁক——ফাক **
ব্যাটারি——ব্যাটারী ***
বিপজ্জনক——বিপদজনক ***
বিরিয়ানি——বিরাণী (Biryaniبریانی/) ***
ভুল——ভূল **
মার্কশিট——মার্কশীট (Sheet/Shit—সব শিট ই-কার হবে) ***
মাস্টার——মাষ্টার ***
মেশিনারি——মেশিনারী **
মডার্ন——মডার্ণ **
মুহূর্ত——মুহুর্ত/মহুর্ত

শুদ্ধ রূপ——অশুদ্ধ রূপ
রঙিন——রঙ্গিন/রঙ্গীন ***
রিকশা——রিক্সা ***
রেজিস্ট্রি——রেজিষ্ট্রি ***
রেনেসাঁ——রেনেসা ***
রেস্টুরেন্ট——রেষ্টুরেন্ট ***
রেস্তোরাঁ——রেস্তোরা ***
লাইব্রেরি——লাইব্রেরী ***
লটারি——লটারী ***
শ্রদ্ধাঞ্জলি——শ্রদ্ধাঞ্জলী ***
শূন্য——শুন্য/শূণ্য **
শনাক্ত——সনাক্ত ***
শর্তাবলি——শর্তাবলী (আবলি দ্বারা গঠিত শব্দ—ব্যাখ্যাবলি, রচনাবলি) ***

শুদ্ধ রূপ——অশুদ্ধ রূপ
শহিদ——শহীদ ***
স্কলারশিপ——স্কলারশীপ (Ship/Sheep) **
স্ট্যাম্প——ষ্ট্যাম্প ***
স্টার——ষ্টার ***
স্টেশনারি——ষ্টেশনারী ***
স্টোর——ষ্টোর ***
সাক্ষ্য——স্বাক্ষ্য ***
সাক্ষী——স্বাক্ষী ***
সেক্রেটারি——সেক্রেটারী ***
সুধী——সূধী **
সমিল——ছমিল (করাতকল) ***
সর্বাঙ্গীণ——সর্বাঙ্গীন ***
সরকারি——সরকারী ***
সরণি——স্বরণী/স্মরণী ***
হর্ন——হর্ণ **

বাংলা বানানের সহজ নিয়ম

প্রয়োজনীয় কিছু শুদ্ধ বানানঃ
চাকরি, সাক্ষী, সাক্ষ্য, এতদ্দ্বারা, এতদসংক্রান্ত, উপর্যুক্ত/উপরিউক্ত, উল্লিখিত, ইতোমধ্যে, ইতঃপূর্বে, পথিমধ্যে, সুষ্ঠু, অদ্যাবধি, যথাবিহিত, আকাঙ্ক্ষা, কাঙ্ক্ষিত, দাবি, জারি, সেবা, পরিষেবা, স্বচ্ছ, সচ্ছল, দ্বন্দ্ব, দূর, দূর-দূরান্ত, দূরীকরণ, অদূর, দূরত্ব, দূরবীক্ষণ, দূষিত, দূষণ, দূষণীয়, দুর্গা, দুর্গ, দুর্দান্ত, দুরবস্থা, দুরন্ত, দুর্নীতি, দুর্যোগ, দুর্ঘটনা, দুর্নাম, দুর্ভোগ, দুরাকাঙ্ক্ষা, দুর্দিন, দুর্বল, দুর্জয়, দুরারোগ্য, দুরূহ, ভুবন, ভূমি, অদ্ভুত, ভুতুড়ে, ভস্মীভূত, ভূত, বহির্ভূত, ভূতপূর্ব, ভূমিকা, ভূমিষ্ঠ, ভূয়সী, ভুক্ত, ভুক্তি, ভুল, ভুয়া, মুহূর্ত, মুমূর্ষু, বিদ্যা, বিদ্বান, উচিত, ফেরত, ফেরতযোগ্য, জগৎ, জগতে, বিদ্যুৎ, বিদ্যুতে, ভবিষ্যৎ, ভবিষ্যতে, আত্মসাৎ, আত্মসাতে, যাবৎ, সাক্ষাৎ, সাক্ষাৎকার, সাক্ষাতে, পাইকারি, সরকারি, দরকারি, তরকারি, মস্কারি, সহকারী, আবেদনকারী, সাহায্যকারী, পরিবেশনকারী, দর্শনকারী, তদারককারী, দুষ্কৃতকারী, অনিষ্টকারী, অনুসারী, কর্মচারী, প্রতীকী, যাত্রী, ছাত্রী, ধনী,

মীমাংসা, মনীষী, সীমা, সীমাহীন, ইদানীং, তদানীং, সমীচীন, সর্বাঙ্গীণ, গোষ্ঠী, ঋণগ্রহীতা, লক্ষ্মী, হীরক, নীল, সুনীল, নীলা, নীলক, নীলিমা, সজীব, রাজীব, রবীন্দ্র, নারায়ণ, যক্ষ্মা, পৈতৃক, অমাবস্যা, ধরন, ধারণ দরুন, দারুণ, ঊর্ধ্ব, ঊর্ধ্বতন, স্তূপ, অত্যন্ত, অত্যধিক, অধ্যয়ন, ব্যাকরণ, গগন, প্রাঙ্গণ, সান্ত্বনা, সর্বস্বান্ত, শীতার্ত, সদ্যোজাত, অগ্রিম, নিখুঁত, ব্যাহত, অব্যাহত, অব্যাহতি, একমুখী, দ্বিমুখী, ত্রিমুখী, বহুমুখী, মুখোমুখি, পায়রা, যাবজ্জীবন, উজ্জীবিত, গরিব, রুপা, রুপালি, রূপ, রূপান্তর, রূপান্তরিত, স্বরূপ, রূপসী, কার্যাবলি, শর্তাবলি, ব্যাখ্যাবলি, নিয়মাবলি, তথ্যাবলি, জরুরি, বদলি, মেয়াদি, মঞ্জুরি, মজুরি, কারিগরি, আমদানি, রফতানি/রপ্তানি, জ্বালানি, নতুন, নূতন, পুনঃপ্রকাশ, পুনঃপরীক্ষা, পুনঃপ্রবেশ, পুনঃপ্রতিষ্ঠা, পুনর্জীবিত, পুনর্নিয়োগ, পুনর্নির্মাণ, পুনর্মিলন, পুনর্লাভ, পুনর্মুদ্রিত, পুনর্বিচার, পুনর্বিবেচনা, পুনর্গঠন, পুনর্বাসন, পুনরুদ্ধার, পুনরাবৃত্তি, পুনরুক্তি, মূর্খ, খাস, অগ্রহায়ণ, পুষ্করিণী, শাশ্বত, শ্বশুর, শাশুড়ি, মনোযোগ, শিরশ্ছেদ, অঞ্জলি, গীতাঞ্জলি, শ্রদ্ধাঞ্জলি,

রাত্রি, অপরাহ্ণ (ণ), পূর্বাহ্ণ (ণ), মধ্যাহ্ন (ন), সায়াহ্ন (ন), অভ্যস্ত, আশ্বস্ত, স্বস্তি, অস্বস্তি, বাধাগ্রস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত, হতাশাগ্রস্ত, বিপদগ্রস্ত, নিকটস্থ, দ্বারস্থ, মুখস্থ, কণ্ঠস্থ, মঞ্চস্থ, পদস্থ, অপদস্থ, সুস্থ, দুস্থ, পুরস্কার, পুরস্কৃত, তিরস্কার, নমস্কার, ভাস্কর, আবিষ্কার, দুষ্কর, বহিষ্কৃত, বহিষ্কার, নিষ্কাশন, নিষ্পাপ, নিষ্পত্তি, মস্তিষ্ক, সরকারি, বেসরকারি, বাড়ি, গাড়ি, শাড়ি, আসামি, আইনি, বেআইনি, ইরানি, জাপানি, ইংরেজি, হিন্দি, পাঞ্জাবি, কাশ্মিরি, আরবি, ফারসি, হিজরি, মালি, পাগলামি, ফরিয়াদি, দিঘি, নানি, দাদি, মামি, চাচি, মাসি, দিদি, রেশমি, পশমি, সূচি, সূচিপত্র, কর্মসূচি, সরণি, পদবি, পঞ্জি, অঙ্ক, অঙ্কন, অঙ্কিত, অঙ্কুর, অঙ্গ, অঙ্গন, আকাঙ্ক্ষা, আঙুল, আশঙ্কা, ইঙ্গিত, উলঙ্গ, কঙ্কর, কঙ্কাল, গঙ্গা, চোঙা, টাঙা, ঠোঙা, দাঙ্গা, পঙ্‌ক্তি, পঙ্কজ, পঙ্ক, পতঙ্গ, প্রাঙ্গণ, প্রসঙ্গ, বঙ্গ, বাঙালি, ভঙ্গ, ভঙ্গুর, ভাঙা, মঙ্গল, রঙিন, লঙ্কা, লঙ্গরখানা, লঙ্ঘন, লিঙ্গ, শঙ্কা, শঙ্ক, শঙ্খ, শশাঙ্ক, শৃঙ্খল, শৃঙ্গ, সঙ্গ, সঙ্গী, সঙ্ঘাত, সঙ্গে, হাঙ্গামা, হুঙ্কার, স্বাতন্ত্র্য/স্বতন্ত্র, দারিদ্র্য/দরিদ্র, বাল্মীকি, ত্রিনয়ন, প্রণয়ন, উচ্ছ্বাস, সত্বর, চত্বর, তত্ত্বাবধায়ক, তত্ত্বাবধান, আয়ত্ত, তত্ত্ব, উপাত্ত, সত্তা, ব্যক্তিসত্তা, জাতিসত্তা, মানবসত্তা, অন্তঃসত্ত্বা, সত্ত্বেও, স্বত্বাধিকার, স্বার্থান্বেষী, বাগ্বিতণ্ডা, শরণার্থী, শরণাপন্ন,

একাকী, একাকিত্ব, শাড়ি, লুঙ্গি, উচ্ছৃঙ্খল, মনোনীত, কীর্তন, রজনি, ব্যতীত, ব্যতিক্রম, ব্যতিরেকে, চাকরিজীবী, পেশাজীবী, কর্মজীবী, আইনজীবী, শ্রমজীবী, জীবিকা, জীবিত, মন্ত্রী, মন্ত্রিত্ব, মন্ত্রিসভা, মন্ত্রিপরিষদ, শ্রেণিকক্ষ, প্রাণী, প্রাণিবিদ্যা, প্রাণিতত্ত্ব, প্রাণিজগৎ, প্রাণিসম্পদ, মহৎ, মহত্ত্ব, মনুষ্যত্ব, পশুত্ব, দেবত্ব, ধর্মত, কার্যত, ন্যায়ত, করত, বস্তুত, ক্রমশ, প্রায়শ, হতভম্ব, মুরব্বি, ভিড়, পচা, পঞ্চাশ, পাঁচ, পঁচিশ, পঁয়ত্রিশ, সাঁইত্রিশ, পঁয়তাল্লিশ, পঁয়ষট্টি, পঁচাত্তর, পঁচাশি, পঁচানব্বই, আঁকাবাঁকা, চাঁদ, ছোঁয়া, দাঁত, ঠোঁট, ফাঁক, শুঁড়, কাঁকরোল, আঁতুর, ঝাঁকুনি, ফাঁদ, ইঁদুর, ঢেঁড়স, তেঁতুল, পুঁইশাক, পেঁপে, কুঁজ, পুঁজ, ধাঁধা, ষাঁড়, উঁচু, বাঁশ, কাঁঠাল, আঁশ, গুঁড়া, আঁধার, বাঁধাই, দুঃসহ, দুঃসময়, দুর্বিষহ, মৌসুমি, আভিজাত্য, আলস্য, সামর্থ্য, আতিথ্য, আধিক্য, কৌলীন্য, শৈথিল্য, বৈশিষ্ট্য, দৈর্ঘ্য, অর্ঘ্য, শৌর্য, সৌন্দর্য, কার্য, সূর্য, আশ্চর্য, হীনম্মন্যতা, মারপ্যাঁচ/মারপেঁচ, মনোমালিন্য, মরূদ্যান, ভূগোল, ভৌগোলিক, ভবিষ্যৎ, ভবিষ্যদ্বাণী, গৃহিণী, সদ্ব্যবহার, এক্ষুনি, ইসলামি, হজ, আলহাজ, তফসিল, আসসালামু আলাইকুম, শাহাদত, শামস, শাবাশ, সালাম, সালাত, সানা, সফর, কিসমত, ইহসান, ইনসান, ইনসাফ, নসিব, মুসল্লি, মুসাফির, ক্লাস, গ্লাস, গ্রিন, গ্রিক, গ্রিস, ব্রিটিশ, ব্রিটেন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান,

রিকশা, অটোরিকশা, অ্যাকাউন্ট, অ্যাকাডেমিক, অ্যাকসিডেন্ট, অ্যাড, অ্যাডভোকেট, অ্যাডভোকেসি, অ্যান্ড, অ্যাভিনিউ, অ্যাম্বুলেন্স, অ্যালার্জি, অ্যালবাম, অ্যাসিড, অ্যাসিস্ট্যান্ট, অ্যাসোসিয়েশন, ক্রাইস্ট (বিতর্কিত:— খ্রিস্ট/খ্রিষ্ট, খ্রিস্টীয়/খ্রিষ্টীয়, খ্রিস্টাব্দ/খ্রিষ্টাব্দ, খ্রিস্টান/খ্রিষ্টান), মোটরসাইকেল, ডিগ্রি, চিফ, শিট, শিপ, নমিনি, কিডনি, ফ্রি, স্কিন, স্ক্রিন, স্কলারশিপ, পার্টনারশিপ, ফ্রেন্ডশিপ, সুপারিনটেনডেন্ট, শেক্সপিয়ার, স্টেশনারি, নোটারি, লটারি, সেক্রেটারি, টেরিটরি, ক্যাটাগরি, ট্রেজারি, ব্রিজ, প্রাইমারি, মার্কশিট, গ্রেডশিট, কি-বোর্ড, গিয়ার, লিডার, লিড, লিপ-ইয়ার, লিজ, নিট, রিড, রিডার, সিট, সি-বিচ, ড্রিম, স্পিকার, টিয়ার, ডিন, সিল, টিচার, টি, বিউটি, প্লিজ, রিলিজ, টিম, ক্রিম, আইসক্রিম, স্টিমার, জানুয়ারি, ফ্রেরুয়ারি, সমিল (করাতকল), প্রিন্ট, স্টোর, স্টাফ, স্টার, ইনস্টিটিউট, বাসস্ট্যান্ড, পেনসিল, ফটোস্ট্যাট, হর্ন, কর্নার, পর্ন, পর্নোগ্রাফি, মডার্ন, এশিয়ান, এশীয়, ইউরোপিয়ান, ইউরোপীয়, ইটালিয়ান, ইতালীয়, কোরিয়ান, কোরীয়, স্পেনিশ, স্পেনীয়, মিসরীয় ইত্যাদি।

☞ সামাজিক যোগাযোগভিত্তিক সাইটগুলোতে ব্যবহৃত কিছু শুদ্ধ বানান— ব্লগিং, ব্লগীয়, পেজ, ফেসবুক, পোস্ট, স্টিক, রি-পোস্ট, ট্যাগ, মিস ইত্যাদি।

☞ অ-তৎসম শব্দ অনুযায়ী দেশি, বিদেশি, বাংলাদেশি, শ্রেণি, পল্লি, নবি, মহানবি, শহিদ, প্রণালি, নির্বাচনি, বহুনির্বাচনি, নবাবি বানানগুলো পরিবর্তন হয়েছে।

বাংলা বানানের সহজ নিয়ম ছাড়া আরও পড়ুনঃ

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।