ফোকাস রাইটিং : ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন-এর পলিসি (Policy)-গত পার্থক্য

পৃথিবী রক্ষায় জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা প্রস্তাব
Content Protection by DMCA.com

ফোকাস রাইটিং : ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন-এর পলিসি (Policy)-গত পার্থক্য

১. অভিবাসন নীতি:

এই নীতিটা খুবই ইন্টারেস্টিং। অভিবাসন বা ইমিগ্রেশনের তিনটা পলিসি রয়েছে। ১ম পলিসি দেশের অধিকাংশ জনগন জাতীয়তাবাদের কারনে সাপোর্ট করেনা, ২য় পলিসি অল্পবয়সী শিশুদের জেলে আটক করে, ৩য় পলিসি শিশুদেরকে পিতামাতার থেকে আলাদা করে। এই সিচুয়েশনে আপনি প্রেসিডেন্ট হলে কোনটা করতেন?

Catch and Release policy: যারা সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে চায় অথবা লিগ্যাল উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করতে চায় তাদেরকে প্রথমে একটা সেন্টারে নিয়ে সবকিছু যাচাই করে, তারা কোনো ক্রিমিনাল কিনা, চোরাচালান বা মাদক ব্যাবসায়ি কিনা।

যদি এসব না হয় তাহলে তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হতো। বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকাকালীল এই পলিসি ছিলো।বর্তমানে জো বাইডেন আরো কিছু নিয়ম যোগ করা সাপেক্ষে এটাকেই সমর্থন করছে। ট্রাম্প ও রিপাবলিকাননা জাতিয়তাবাদের দোহাই দিয়ে এটার প্রচন্ড বিরোধিতা করেন।

Family Detention: এই নীতি টা হলো মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যারাই আসতো তাদেরকে ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী রাখা হয়। মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যারা আসতো তারা অধিকাংশই সপরিবারে, ছোট বাচ্চা বা সন্তানাদি নিয়ে আসতো। ছোট ছোট বাচ্চা সহ সপরিবারে সবাইকেই আটক করা হতো।

এখন কথা হলো শিশুরা বা ছোট বাচ্চারা তারা তো নিরপরাধ। পিতামাতার সাথে তারা এসেছে। তারা তো কিছুই বুঝে না, পিতামাতা না আসলে তারা তো আসতো না। এখন বিনা অপরাধে আন্ডারএইজড শিশুদের জেলে আটক রাখা কতটা যৌক্তিক? ট্রাম্প ক্ষমতায় আাসার দেড় বছর পর্যন্ত এই পলিসিটা ছিলো। পরবর্তীতে ডেমোক্র্যাট ও সিভিল সোসাইটির কঠোর সমালোচনায় এই পলিসি থেকে সরে গিয়ে তৃতীয় পলিসিটি গ্রহন করেন।

Family Separation: এই তৃতীয় পলিসিটি হলো যেসকল ফ্যামিলি পরিবার সহ সীমান্তে আটক হবে তাদের মধ্যে শুধু প্রাপ্তবয়স্কদেরই আটক রাখা হবে, সাথে যেসকল ছোট বাচ্চা বা শিশু থাকবে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।

মনে করুন পিতামাতা ও তাদের পাঁচ বছরের দুইটা সন্তান সীমান্তে আটক হলো, এখন পিতামাতাকে বন্দী রেখে সন্তান দুজনকে ছেড়ে দিলেন। এখন ডেমোক্র্যাটদের প্রশ্ন হলো পিতামাতার কাছ থেকে সন্তানেদেরকে সেপারেট বা আলাদা করার অধিকার কারো নেই। এখানে সন্তানদের পিতামাতার সাথে বসবাসের অধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে।

২. ট্যাক্স বা শুল্ক নীতি:

এই পলিসি বুঝতে হলে ট্যাক্সের প্রকারগুলো আগে জানা আবশ্যক।ট্যাক্স সাধারণ তিন প্রকার;

Progressive tax: ইনকাম বা আয়ের অনুপাতে ট্যাক্স। আমার ইনকাম বাড়লে ট্যাক্স বাড়বে।

Regressive tax: আমার ইনকাম যত বাড়বে আমার ট্যাক্স তত কমবে।

Proportionate tax: এটা সাধারণত একটা নির্দিষ্ট ধার্যকৃত ট্যাক্স। অনেক সময় সরকার কিছু স্পেসিফিক কারখানা বা কর্পোরেটের উপর এটা ধার্য করে। আপনার ইনকাম হোক বা না হোক, ব্যাবসায় লাভ লোকসান যাই হোক না কেন আপনাকে বছর শেষে নির্দিষ্ট পরিমাণ ট্যাক্স সরকারকে দিতেই হবে। এটা উভয় দলই সাপোর্ট করে।

ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান: জো বাইডেন ও ডেমোক্র্যাটরা সাধারণত Progressive tax এর পক্ষে। তাদের মতে যে কর্পোরেট যত বেশি ইনকাম করবে সে কর্পোরেট তত বেশি ট্যাক্স দিবে। তা না হলে দেশে Income inequality বা আয় বৈষম্য বৃদ্ধি পাবে।

রিপাবলিকানদের অবস্থান: ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা মনে করে একটা কোম্পানি বা কর্পোরেশনের যত বেশি ইনকাম হবে তত বেশি ইনভেস্টমেন্ট বাড়বে, আর যত ইনভেস্টমেন্ট বাড়বে তত জব সৃষ্টি হবে। তাই এসব জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর উপর ট্যাক্স কমিয়ে দিলে অনেক জব সৃষ্টি হবে সাথে বেকারত্বের হার কমবে।

৩. Economic Policy:
ডোনাল্ড ট্রাম্প: “Supply Side Economy”-কে সাপোর্ট করেন। সাপ্লাই সাইড ইকোনমি হলো যেসকল কর্পোরেশন পণ্য-দ্রব্যে তৈরি করে বা যোগান দেয় সেইসব কলকারখানার উপর অধিক পরিমাণে ট্যাক্স ধার্য না করতে উৎসাহিত করে।

ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা সবসময় মনে করেন একটা দেশের অর্থনীতি নির্ভর করে ঔ দেশের বড়ো বড়ো কর্পোরেশন/কলকারখানার উপর। কারন এধরণের কর্পোরেশনগুলো অসংখ্য জব সৃষ্টি করে। তাই রিপাবলিকানরা সবসময় কর্পোরেট Tax কমানোর পক্ষে।

তারা মনে করে যদি এসব কর্পোরেশনের উপর অধিক পরিমাণে ট্যাক্স আরোপ করা হয় তাহলে ট্যাক্সের বোঝা বহন করতে না পেরে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে জব বা চাকরি কমে যায়।ফলস্বরূপ বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়।

তাই দেখবেন যে ট্রাম্প সমসময় তার ডিবেট বা ক্যাম্পেইনে অসংখ্য বার এই “Job” শব্দটি উচ্চারণ করে।ঠিক একইভাবে যেহুতো এসব কলকারখানায় কারনে পরিবেশ দূষণ বা জলবায়ু পরিবর্তন হয় সেহেতু ট্রাম্প Climate change নিয়ে তেমন কোন পলিসি নেয় না। ট্রাম্প মনে করে জলবায়ু পরিবর্তনে মানুষের হাত নেই। এটা প্রাকৃতিক। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়া তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। (রিপাবলিকানরা মিল্টন ফ্রিডম্যান ও হাইকের লিবারেল ইকোনমি দ্বারা অনেকটা প্রভাবিত)

জো বাইডেন: “Demand Side Economy” কে সাপোর্ট করেন। ডিমান্ড সাইড ইকোনমি সাধারণত কর্পোরেট ট্যাক্সকে সমর্থন করেন। ডেমোক্র্যাটরা মনে করেন দেশে কর্পোরেট জায়ান্ট বা ধনীক শ্রেণী হলো মুষ্টিমেয়। আর যারা ভোক্তা বা কনজিউমার তারা অধিকাংশই মধ্যম আয়ের পরিবার।

তাই অধিকাংশ ভোক্তারা টাকার অভাবে প্রোডাক্ট ক্রয় করতে পারে না। তাই আমাদের উচিত কর্পোরেট সেক্টর থেকে অধিক পরিমাণে ট্যাক্স নিয়ে এসকল মধ্যবিত্ত পরিবারদের মধ্যে বন্টন (Redistribution) করে দেওয়া। তাই জো বাইডেন সহ ডেমোক্র্যাটরা সবসময় Middle Class, Climate change এসব নিয়ে কথা বলে। (ডেমোক্র্যাটরা সাধারণত জন মেইনার্ড কেইনসের ”Interventionist economy” দ্বারা অনেকটা প্রভাবিত)

৪. সামাজিক নীতি/Social policy:
সামাজিক পলিসি গুলোকে অনেকে আবার “kitchen Table Issues”ও বলে। রান্না বা খাবার ঘরে বসে আমরা যে সকল বিষয় আলোচনা করে থাকি।যেমন -খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি।

ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান: জো বাইডেন বা ডেমোক্র্যাটরা সাধারণত স্বাস্থ্য বীমা বা কম খরচে চিকিৎসা সেবা, বয়স্ক বা বেকার ভাতা, শিক্ষা ক্ষেত্রে খরচ কমানো বা Free School Bussing এসবের পক্ষে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় যেটাকে “Welfare State” বলে।

রিপাবলিকানদের অবস্থান: রিপাবলিকানরা সাধারণত স্বাস্থ্য বীমা এর বিপক্ষে, মিডল ক্লাস ফ্যামিলির চেয়ে তারা বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে পুঁজিপতিদের।

৫. Foreign policy/বৈদেশিক নীতি:
বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকানদের পলিসি গত মিল রয়েছে। যেমন – রাশিয়া, চায়না,ইরান এসকল দেশগুলো ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান উভয় দলেরই শত্রু। একইভাবে ইসরায়েল, সৌদি আরব, ভারত উভয় দলেরই মিত্র রাষ্ট্র। কিন্তু এসব রাষ্ট্রগুলোর সাথে উভয় দলের কিছু আচরনগত পার্থক্য রয়েছে।

যেমন-
ডোনাল্ড ট্রাম্প যা করেন তা স্পষ্ট বলে দেন, Hard Power বা Economic Sanctions এসবের ভয় সরাসরি দেখিয়ে কাজ আদায় করে নেন। কিন্তু ডেমোক্রেটিক বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে সরাসরি বা প্রকাশ্যে কিছু না বলে কূটনীতি, রাউন্ড টেবিল মিটিং, নেগোসিয়েশন ইত্যাদি বেশি প্রাধান্য দেয়। বারাক ওবামার বিগত আট বছরের পররাষ্ট্র নীতি তাই বলে।

৬. ভোটার/জনগনের সিদ্ধান্ত:
পলিটিকাল সায়েন্টিস্টদের মতে তিনটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের বা যেকোনো দেশের ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেয় সে কাকে ভোট দিবে।

১. Issues এর উপর ভিত্তি করে: এই ইস্যুগুলার আবার চারটা লেয়ার রয়েছে ;
Retrospective Issue: যারা কেন্ডিডেট বা প্রার্থী তাদের অতীতের পারফরম্যান্স কেমন ছিলো। অর্থাৎ ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিগত চার বছরের ও জো বাইডেনের ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন পারফরম্যান্স কেমন ছিলো।

Prospective Issue: যারা কেন্ডিডেইট তাদের ভবিষ্যতের পারফরমেন্স কেমন হতে পারে এটা অনুমান করে নিয়ে। প্রার্থীরা ভবিষ্যতে কেমন হবে এটা তিনটা প্রেসিডেনশাল ডিবেট ও রাজনৈতিক ক্যাম্পেইন দেখে ভোটাররা সহজেই অনুমান করতে পারে।

Spacial Issues: প্রতিটি রাষ্ট্রেরই কিছু স্পেশাল ইস্যু থাকে যেগুলো নিয়ে রাষ্ট্রের নাগরিক দুই পক্ষে বিভক্ত হয়ে পরে। যুক্তরাষ্ট্রে Abortion (গর্ভপাত), Minimum wage (শ্রমিকদের বেতন), Immigration(অভিভাসন), Gun laws(বন্দুক আইন) এগুলো হচ্ছে স্পেশাল ইস্যু। যেমন ডোনাল্ড ট্রাম্প Abortion এর বিপক্ষে কিন্তু বাইডেন Abortion এর পক্ষে।

এখন ভোটার যদি গর্ভপাত(Abortion) কে সাপোর্ট না করে তাহলে সে ট্রামকে ভোট দিবে, যদি সাপোর্ট করে তাহলে বাইডেনকে ভোট দিবে।একইভাবে ট্রাম্প চায় শ্রমিকদের মজুরি কমাতে কিন্তু বাইডেন চায় মজুরি বাড়াতে। ডেমোক্র্যাটরা চাই বন্দুক আইন কঠোর করতে, ট্রাম্প চায় শিথিল করতে।

Valence Issues : ভ্যালিয়েন্স হচ্ছে কেন্ডিডেট নিজে, তার রানিং মেট(ভাইস প্রেসিডেন্ট) সহ যাদেরকে নিয়ে মন্ত্রীসভা গঠন হতে পারে তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কেমন অথবা তারা সৎ হবে কিনা।

২. Candidate characteristics: ভোটাররা প্রার্থীদের ধর্ম, বর্ণ, সততা, দৃঢ়সংকল্প, অঞ্চল এসব দেখে সিদ্ধান্ত নেয় কাকে ভোট দিবে।

৩. Party Loyalty: কিছু ভোটার রয়েছে যারা ছোটবেলা থেকে যে দলকে সাপোর্ট করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই দলকেই সাপোর্ট করে। এটা হতে পারে নিজেদের মতাদর্শের সাথে দলের মতাদর্শের মিল থাকার কারনেও। Party loyalty এর কারনে মেরিল্যান্ড, মিশিগানের মতো কিছু অঙ্গরাজ্য আছে যেখানে ডেমোক্র্যাটরা সবসময় বিজয়ী হয় তাই সেগুলোকে ব্লু স্টেট(Blue state) বলে।

একইভাবে মিসিসিপি, এলাবামা মতো কিছু রাজ্যে রিপাবলিকানরা সবসময়ই বিজয়ী হয় তাই সেগুলোকে রেড স্টেট(Red state) বলে। আবার টেক্সাস, ফ্লোরিডা, জর্জিয়ার মতো রাজ্যগুলা দুদূল্যমান, কেউ জানে না কে জিততে পারে তাই এগুলোকে Battle Ground বলে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন-এর পলিসি (Policy)-গত পার্থক্য ছাড়া আরও পড়ুনঃ

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা আপনার টাইমলাইনে শেয়ার করতে ফেসবুক আইকনে ক্লিক করুন-