ফোকাস রাইটিং : গিগ ইকোনমি ও বাংলাদেশ

ফোকাস রাইটিং : ব্লু ইকোনমি
Content Protection by DMCA.com

গিগ ইকোনমি ও বাংলাদেশ
অথবা,
করোনাকালে গিগ ইকোনমি
অথবা,
গিগ অর্থনীতি: সম্ভাবনার নতুন দ্বার

গিগ ইকোনমি হচ্ছে একধরনের খণ্ডকালীন বা পার্টটাইম কাজের ব্যবস্থা। সেখানে অনেক প্রতিষ্ঠান স্থায়ী কর্মী নিয়োগ না করে স্বল্প সময়ের জন্য কিছু বিশেষজ্ঞ কর্মী বিশেষ শর্তে নিয়োগ করে। তাঁদের কাজের ধরাবাঁধা সময় হয়তো থাকে না। কর্মী নির্দিষ্ট সময়ে চাহিদা অনুযায়ী কাজ করে দেন। সকালে হয়তো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি লেকচার দিলেন, দুপুরে কিছুক্ষণ উবার অ্যাপে যুক্ত হয়ে কয়েক ঘণ্টা কাজ করলেন, সন্ধ্যায় কিছুক্ষণ আউটসোর্সিংয়ের কাজ করলেন। এটাই হলো গিগ ইকোনমি। ক র্মীর প্রতিটি কাজই সমাজের সবাই সম্মানের চোখে দেখেন। কর্মী খুশি। আয় বেশি। তাঁর কাজের স্বাধীনতাও বেশি।

প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গিগ ইকোনমিকে শেয়ারড ইকোনমিকও বলা হয়ে থাকে। একই রিসোর্স একসঙ্গে অনেকে শেয়ার করতে পারে। এতে করে দক্ষ কর্মীদের ভালোভাবে কাজে লাগানো যায়। সংশ্লিষ্টরা আরও মনে করেন, যেহেতু আমাদের দেশে প্রযুক্তিতে দক্ষ কর্মীর অভাব রয়েছে। ফলে এই সময়ে রিসোর্স শেয়ারের বিষয়টি সামনে উঠে এসেছে।

জানা গেছে, গিগ ইকোনমি আমাদের দেশে বেশ আগে থেকেই আছে। ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং, রাইড শেয়ারিং, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, ডিজাইন, কো-ওয়ার্কিং স্পেস ইত্যাদিতে অনেক আগে থেকেই এই মডেলে কাজ হচ্ছে। কিন্তু করোনার এই সময়ে বিষয়টি বেশি করে উপলব্ধি করছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, করোনার ফলে লকডাউনের সময় অনেক সফটওয়্যার ও সেবা পণ্য নির্মাতাদের অফিস বন্ধ ছিল।

ফলে আয় ছিল না কোনও। অফিস ভাড়া, কর্মীদের বেতন, ইউটিলিটি চার্জ অন্যান্য খরচ সামাল দিতে রীতিমতো তাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। এর থেকে প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে উদ্যোক্তারা অফিস ছোট করা, ক্ষেত্র বিশেষে ছেড়ে দেওয়া, কর্মী ছাঁটাই করা, বেতন কমানো, অন্যান্য সুযোগ সুবিধা কমিয়েও যখন টিকে থাকতে পারছেন না ঠিক এ সময়ে সামনে চলে এলো গিগ অর্থনীতি। এই অর্থনীতিকে অবলম্বন করে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন এখন প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা।

বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের তরুণদের কাছে জনপ্রিয় টার্ম হলো গিগ ইকোনমি বা শেয়ারড ইকোনমি। করোনার করাল গ্রাসে পৃথিবীব্যাপী যখন অনেকেই চাকরি হারিয়ে করুণ পরিস্থিতির মধ্যে জীবন অতিবাহিত করছে ঠিক তখনই তরুণরা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসে লাখ লাখ টাকা আয় করে নিজেদের স্বাবলম্বী করছে।

গিগ ইকোনমি হলো ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল খন্ডকালীন কাজ। অর্থাৎ এতে নির্দিষ্ট কোনো অফিস ঘন্টা নেই। ই-কমার্স, অনলাইন মার্কেটপ্লেস,সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম,রাইডশেয়ারিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, কো-ওয়ার্কিং স্পেস,ডাটা এন্ট্রি ইত্যাদি কাজের মাধ্যম তরুণ প্রজন্মের কাছে আশার আলো দেখা দিয়েছে। যে দেশ যত বেশি প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত ও গতিশীল সে দেশ তত বেশি গিগ ইকোনমিতে এগিয়ে।

ধারণা করা হচ্ছে, ২০২০সাল নাগাদ প্রায় ৪০ভাগ আমেরিকান চাকরির এই ধারায় প্রভাবিত হবে। বাংলাদেশও গিগ ইকোনমির ধারায় পিছিয়ে নেই। দক্ষিণ এশিয়ায় গিগ ইকোনমি দিক থেকে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের সমীক্ষায় ভারত ১ম যার অনলাইনে কাজের ক্ষেত্র ২৪শতাংশ,বাংলাদেশ ২য় যার অনলাইনে কাজের ক্ষেত্রে ১৬শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ৩য় যার অনলাইনে কাজের ক্ষেত্র ১২শতাংশ অধিকার রয়েছে।

গিগ অর্থনীতির বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট:
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে গিগ ইকোনমি আশীর্বাদ স্বরূপ। অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ আর বেকারত্ব সমস্যায় জর্জরিত এদেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরাতে গিগ ইকোনমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এদেশে শিক্ষিত বেকারের মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী বেকার সবচেয়ে বেশি।প্রায় ৩৭শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকার এবং ৩৪শতাংশ স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী বেকার রয়েছে এ দেশে। এই বিপুল পরিমাণ বেকার তরুণদের প্রযুক্তিতে দক্ষ করে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে বের করে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা সম্ভব গিগ ইকোনমির মাধ্যমে। ফলে, তরুণরা একদিকে যেমন নিজেরা স্বাবলম্বী হবে অন্যদিকে দেশের উন্নয়ন প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তবে গিগ ইকোনমিতে অস্থায়ী কাজ হওয়ায় এক্ষেত্রকে ঘিরে উদ্বেগও কম নয়।মানসম্মত কর্মসংস্থানের অভাব,স্থায়ী চাকরির অনিশ্চিয়তা, কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার মতো সমস্যার কথা উঠে আসে। তাই গিগ ইকোনমি নিয়ে গবেষণা করে দেশের গিগ ইকোনমি কোন পর্যায়ে, অর্থনীতির মোড় কোন দিকে যাচ্ছে, আয় বন্টন কেমন হবে,জনজীবনে কতটা প্রভাব ফেলবে, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলো বের করে নীতিমালা নির্ধারণ করে গিগ ইকোনমিকে সফলভাবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত করার জন্য ব্যবহার করতে হবে।

ভবিষ্যৎ চাহিদার দিক থেকে গিগ ইকোনমির উত্তরোত্তর সম্প্রসারণ ঘটবে। তাই এই সুযোগকে কাজে লাগতে হবে। তরুণ বেকারদের মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে, তবেই দেশ ২০৪০ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে নাম লিখাতে সক্ষম হবে।

আরও পড়ুনঃ

Focus writing – Functions of commercial Bank

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।

আপনার টাইমলাইনে শেয়ার করতে ফেসবুক আইকনে ক্লিক করুন।