ফোকাস রাইটিং : এফ-কমার্স ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

ফোকাস রাইটিং : ব্লু ইকোনমি
Content Protection by DMCA.com

ফোকাস রাইটিং : এফ-কমার্স ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
অথবা,
বাংলাদেশে F – commerce প্রবৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ

প্রথাগত অর্থনীতিতে বাজার বলতে যে ক্রেতা, বিক্রেতা ও স্থান বোঝায় তা অনেক আগেই বাতিল হয়ে গেছে। বাজার একটি ‘স্থান’ ধারণা বদলাতে বদলাতে এ দশকে এসে যুক্ত করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আরও পরিষ্কার করে বললে মার্ক জাকারবার্গের তৈরি আশ্চর্য প্রদীপ ফেসবুক। সেই আশ্চর্য প্রদীপে ঘষা দিয়ে এগিয়ে গেছে ব্যবসা-বাণিজ্য, পোশাকি নাম এফ-কমার্স (F-commerce)।

অনলাইন ব্যবসায়িক সংস্করণগুলোর মধ্যে নতুন ধারণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে পণ্য বেচা-কেনা। বিশ্বের তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে এটি ভীষণ জনপ্রিয়, কারণ পণ্য নিয়ে সহজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তৃত বিপণন দুনিয়ায় পৌঁছানো যায়। গড়ে ওঠে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে মিথস্ক্রিয়ার চমত্কার এক সম্পর্ক। ঘরে বসে সামান্য পুঁজি বিনিয়োগের বিপরীতে উঠে আসে ভালো মুনাফা। কারণ বিভিন্ন শোরুম বা দোকান ঘুরে সময় খরচ করার চেয়ে অনলাইনে কেনাকাটা তরুণ প্রজন্মের কাছে অনেক বেশি সুবিধাজনক ও গ্রহণযোগ্য।

বৈশ্বিক হালফিল এ জোয়ার থেকে দূরে নেই বাংলাদেশের তরুণরাও। বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে উঠে আসা তথ্য বলছে, বাংলাদেশে এফ-কমার্সভিত্তিক কার্যক্রম অনেক বেশি সম্ভাবনায় ঘেরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে কর্মসংস্থানের খোঁজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতার বদলে নতুন প্রজন্মের অনেকেই এখন স্বাধীন ও স্বাচ্ছন্দ্যের পেশা বেছে নিচ্ছেন। উদ্ভাবনী চিন্তার চালক তরুণটি সামান্য পুঁজি নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি এরই মধ্যে ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। আয় করছেন চলার মতো প্রয়োজনীয় অর্থ। সংসার-সন্তানদের সামলাতে যেসব নারী চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, তিনিও নতুন করে উপার্জনের উপায় খুঁজে পেয়েছেন। এভাবে F-commerce কাজ করছে দেশের বেকারত্বের সমস্যা সমাধানেও।

এ প্লাটফর্মের উদ্যোক্তারা শুধু স্বাবলম্বীই হচ্ছেন না, নতুন করে ঐতিহ্যবাহী, বিলুপ্ত ও বৈচিত্র্যপূর্ণ পণ্যের চাহিদাও তৈরি করছেন। এ কাজে পণ্য ক্রয় ও সরবরাহ ছাড়া তেমন কোনো খরচ নেই। আলাদা কোনো ওয়েবসাইট তৈরির প্রয়োজন পড়ে না। নেই দোকান ভাড়া করার বিষয়। অনলাইনে নিখরচায় কাজ চালিয়ে যাওয়া সক্ষম বলে তরুণ ও নারীদের কাছে জনপ্রিয় এফ-স্টোর।

কভিড-১৯ এসে যে খাতগুলোকে বড় রকমের ঝাঁকুনি দিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম কর্মসংস্থান। কভিডের কারণে দেশের আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক উভয় খাত থেকে চাকরি হারানো মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। এর মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীরা চাকরি হারিয়েছেন বেশি। আইএলওর সমীক্ষা বলছে, করোনায় বিশ্বজুড়ে নারীদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি বেড়েছে, যা সাম্প্রতিক দশকগুলোয় কাজের ক্ষেত্রে লিঙ্গসমতার বিষয়ে যে ‘পরিমিত অগ্রগতি’ অর্জিত হয়েছিল, তা মুছে ফেলতে পারে। কেননা কাজ হারানো নারীদের পুনরায় কাজে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সহজ হবে না।

যেকোনো সংকট বা সমস্যা থেকে উত্তরণের এক আদিম প্রবণতা রয়েছে মানুষের। কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে যারা চাকরি হারিয়েছেন বা ব্যবসা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন, তারা ক্রমে উপায় খুঁজে নিয়েছেন অনলাইন প্লাটফর্মগুলোয়। বিশেষ করে নারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। চাকরি ফিরে পাওয়ার অনিশ্চয়তা থেকে কিছু না কিছু উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করছেন নিজেকে। শহুরে কিংবা গ্রামীণ—আমাদের দেশের নারীরা হাতের কাজ, ঘর সাজানোর শৌখিন সরঞ্জাম তৈরি, রান্নাসহ কোনো না কোনো কাজে দক্ষ ও অভিজ্ঞ। তারা কাজগুলো শিখেছেন কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই। তাই কভিড পরিস্থিতিতে চাকরি হারিয়ে এ নারীদের অনেকেই তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে শুরু করেছেন এফ-কমার্স।ৎ

এফ-কমার্স মূলত ‘সোস্যাল কমার্স’। ফেসবুকের পাশাপাশি এর মধ্যে রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামের মতো মাধ্যমগুলো। ভারতে ৭৯ শতাংশেরও বেশি ই-কমার্স বাণিজ্যই হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বর্ধনশীল সামাজিক ব্যবসায়ের কারণে ‘ফেসবুক মার্কেটপ্লেস’ ভারতে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে (ফেসবুক মার্কেটপ্লেস মূলত ছোট বিক্রেতাদের সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে সংযোগ করার একটি প্লাটফর্ম। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যক্তির অবস্থান নির্ধারণ ও তার এলাকায় বর্তমানে কী ধরনের পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে, সেসব পণ্যসহ এখানে বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করা হয়)।

আমাদের দেশের এফ-কমার্স প্লাটফর্মের বেশির ভাগই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। তাদের মধ্যে আবার উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই নারী। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করে অর্থনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। এক্ষেত্রে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, এসএমই ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড আইটি সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পাশাপাশি সরকারের বিশেষ কোনো এজেন্সি বা উইং তাদের নিয়ে কাজ করতে পারে। ভূমিকা রাখতে পারে বিভিন্ন এনজিও বা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো।

বড় প্লাটফর্মগুলোর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগ তৈরি করে দেয়া, ই-কমার্স ও প্রযুক্তিবিষয়ক ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা, পুঁজি সংগ্রহের উপায়, বিজনেস মডেল দাঁড় করানোর কৌশল, বাজারের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ পদ্ধতি, ফাইনটেক (ফাইন্যান্সিয়াল টেকনোলজি বা অর্থনীতিসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি) সম্পর্কে ধারণা দিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। এ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষিত ও গ্র্যাজুয়েট করে যদি আরো বেশি উদ্ভাবনী কাজের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে কভিড-পরবর্তী অর্থনীতিতে তরুণ ও নারীর অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আইডিএলসি মান্থলি বিজনেস রিভিউতে প্রকাশিত ইমার্জেন্স অব এফ-কমার্স স্টার্টআপস প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ঢাকাতেই নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২২ লাখ। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারী ৮৯ দশমিক ৬২ শতাংশ। দেশে এফ-কমার্স মার্কেটের আকার প্রায় ৩১২ কোটি টাকা। ব্যবহারকারীর মধ্যে ৭২ শতাংশের বেশি পুরুষ থাকলেও নারীদের মালিকানায় রয়েছে ৫০ শতাংশ ফেসবুক স্টোর। তাদের মাসিক আয়ের পরিমাণ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশে তিন লাখেরও বেশি অনলাইন স্টোর ছিল, যা ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। ই-ক্যাবের তালিকায় ছিল মাত্র ১০০টি অনলাইন স্টোর। বর্তমানে ই-ক্যাবের তালিকাভুক্ত ওয়েবসাইটের সংখ্যা ৫০০ এবং ফেসবুক কোম্পানির সংখ্যা ২ হাজার।

F – commerce প্রবৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ:
প্রতি বছরই বাড়ছে এফ-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংখ্যা। এফ-কমার্সের একটি ফেসবুক প্লাটফর্ম উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম বা ‘উই’-এর সদস্য সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। তবে ফেসবুককেন্দ্রিক ব্যবসাগুলোর অধিকাংশেরই কোনো আইনি অস্তিত্ব না থাকায় এর উদ্যোক্তারা ঋণ গ্রহণ বা প্রাতিষ্ঠানিক অন্যান্য আর্থিক সহায়তার আওতায় আসতে পারছেন না। এফ-কমার্স ব্যবসাগুলো ট্রেড লাইসেন্স না পাওয়ায় ব্যাংকঋণ নিতে পারে না। ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা চালানোর অনুমতির ক্ষেত্রে পাসপোর্ট ও নাগরিকত্বের প্রমাণকে যথেষ্ট বিবেচনা করা যেতে পারে।

এফ-কমার্স ইন্ডাস্ট্রি বিকাশের আরো কিছু বাধাও রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি। এখানে বেশির ভাগ উদ্যোক্তাই স্বতন্ত্র ব্যবসায়ী, যিনি অন্য উৎস থেকে পণ্য ক্রয় বা আমদানি করেন। তাই অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক স্বাভাবিকভাবেই তাদের বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

নারী ব্যবসায়ীদের অনেকেই যেহেতু স্বল্প পরিমাণে অর্থ নিয়ে ব্যবসায় নেমেছেন, তাই অনলাইন বিজনেসের ওপর গড়পড়তা কর ধার্য করলে নতুন ও নাজুক উদ্যোক্তারা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হবেন। এক্ষেত্রে বার্ষিক টার্নওভারের পরিমাণ নির্ধারণ করে তার ওপর কর আরোপ করা যেতে পারে। তবে এটি যেন নতুন এ উদ্যোক্তাদের (যাদের বেশির ভাগই নারী) ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করে তা বিবেচনা করতে হবে।

ঢাকার বাইরে যখন পণ্য পৌঁছে দেয়ার বিষয় আসে তখন ক্ষুদ্র এসব উদ্যোক্তার ডেলিভারি সার্ভিসের ওপর নির্ভর করে থাকতে হয়। প্রশ্নের মুখে পড়ে নির্ধারিত সময়ে পণ্য পৌঁছে দেয়ার ব্যবসায়িক প্রতিশ্রুতি। তাছাড়া এ ব্যবসায়িক কার্যক্রমগুলো কোনো আইনি কাঠামো কিংবা কোনো ধরনের নজরদারির ব্যবস্থার অধীনে না থাকায় বিশৃঙ্খলতার বিষয়টি কিন্তু থেকেই যায়। রয়েছে কাস্টমার ম্যানেজমেন্টসহ অন্যান্য ব্যবসায়িক জ্ঞানের অভাবও। যে কারণে এফ-কমার্সের অনেক উদ্যোক্তাই কিন্তু তাদের ব্যবসাগুলোকে টেকসই অবস্থায় নিয়ে যেতে পারেন না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থসংস্থানের বিষয়টি।

দেশে এফ-কমার্স ইকোসিস্টেম উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। ফিনটেক (Financial Technology) প্লাটফর্মগুলো এফ-কমার্সের পেমেন্ট পদ্ধতিকে সহজ ও সুবিধাজনক করে তুলতে সহযোগিতা করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় একটি পেজ খুলে ব্যবসা করা সহজ। তবে রাতারাতি মুনাফা অর্জন কিংবা ব্যবসায়িক নৈতিকতা ধরে রাখাটা এখানে কঠিন। তাছাড়া ব্যবসায়িক নৈতিকতার অভাবে অন্যান্য এফ-কমার্স স্টোরের বিকাশের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি এড়ানো যায় না। ব্যবসায়িক পেশাদারিত্বের অভাবে ক্রেতা বা গ্রাহক আস্থা হারাতে পারেন।

এদিকে অনিয়ম ঠেকাতে এফ-কমার্স উদ্যোক্তাদের কঠিন শর্ত দিলে ব্যবসায়িক বিকাশের পথ রুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ অবস্থায় এফ-কমার্স কার্যক্রমকে বৈধকরণে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো উইং খুলে দেখভাল করা যেতে পারে। সহায়ক নীতি তৈরির পাশাপাশি সরকারি ডকুমেন্ট, ট্রেড লাইসেন্স বা উপযোগী কোনো ব্যবস্থার অধীনে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করা গেলে মনিটরিংয়ের বিষয়গুলোও সহজ হয়।

আমাদের মনে রাখতে হবে কভিড পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক চাকরির বাজার থেকে নারীরা বের হয়ে যাচ্ছেন। বাড়ছে তরুণ বেকারত্বের সংখ্যা। সবার কাজের চাহিদা কতদিনে ফিরে আসবে, তা অনিশ্চিত। তাছাড়া যে কাজে নারীরা নিয়োজিত ছিলেন, সেই কাজটা ফিরে আসবে কিনা তা গুরুত্বপূর্ণ। কভিডের কারণে অনেককে বাধ্য হয়ে শহর ছাড়তে হয়েছে। শহরে তারা যে কাজগুলো করতেন, গ্রামে সেসব কাজের সুযোগ নেই।

এদিকে কভিডের দ্বিতীয় ঢেউ কতটা অনিশ্চয়তা তৈরি করবে তা বিবেচ্য। তাই তরুণ ও নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নীতিনির্ধারকরা কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। এফ-কমার্সের বিকাশে তাদের বিভিন্ন নীতি সহায়তার পাশাপাশি ইন্টারনেট খরচ কমানো, ঢাকার বাইরে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান এবং গ্রামগুলোয় কুরিয়ার সার্ভিস সেবা পৌঁছানোর মতো বিষয়গুলোয় জোর দেয়া জরুরি।

ফেসবুকের ব্যবসার বৃদ্ধির সঙ্গে তৈরি হচ্ছে সহায়ক ব্যবসাও। এর মধ্যে আছে মোবাইল লেনদেনের মতো আর্থিক ব্যবস্থাপনা, আমদানিকারক ও কুরিয়ারের মতো ব্যবসাগুলো। তবে সবচেয়ে বেশি বড় হয়েছে কুরিয়ার সার্ভিস। এমনকি এফ–কমার্সকে উপলক্ষ করে তৈরিও হয়েছে অনেক কুরিয়ার সার্ভিস, যারা কাজ করে নির্দিষ্ট কিছু উদ্যোগের সঙ্গেই।

নতুন হওয়া কুরিয়ার সেবার একটি হচ্ছে ই-কুরিয়ার। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা বিপ্লব ঘোষ বলেন, ‘আমার কোম্পানিতে ১৫ হাজার এফ–কমার্সভিত্তিক উদ্যোগ নিবন্ধিত রয়েছে, যাদের মধ্যে চার হাজার প্রতিষ্ঠান নিয়মিত পণ্য চালান করে।

অর্থনীতিতে এফ–কমার্স একটি প্রবৃদ্ধির আভাস দিলেও এই ব্যবসাগুলোর অধিকাংশের কোনো আইনি অস্তিত্ব নেই। ব্যবসাগুলোর আর্থিক লেনদেনের একটি স্বয়ংক্রিয় নজরদারি আবশ্যক। তবে তারও আগে এসব উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, যেন তারা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা চালানোর মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এ ছাড়া এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যাপ্ত সহায়তা করতে হবে, যাতে তারা একটি ছোট উদ্যোগ না থেকে নিজেদের ব্র্যান্ড তৈরি করতে হবে। সবচেয়ে যেটা জরুরি তা হচ্ছে, এফ–কমার্সকে মাথায় রেখে সরকারকে নীতিমালা তৈরি করতে হবে, যেন এ ব্যবসাগুলোও বড় হওয়ার সুযোগ পায়, প্রবৃদ্ধির সুযোগ পায় দেশের অর্থনীতিও। বৈধ কাঠামোগত অবস্থায় এফ-কমার্সের বৈশ্বিক শিল্পটি অনেক বেশি বিকাশের সুযোগ পাবে।

এফ-কমার্স ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ছাড়া আরও পড়ুনঃ

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা আপনার টাইমলাইনে শেয়ার করতে ফেসবুক আইকনে ক্লিক করুন-