ফিলিস্তিন -ইসরাইল ইস্যু

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী
Content Protection by DMCA.com

ফোকাস রাইটিং
ফিলিস্তিন -ইসরাইল ইস্যু
বিসিএস + ব্যাংক লিখিত প্রস্তুতি

প্রেক্ষাপট- ১
সময়ঃ ৭ জুলাই, ২০১৪ ইংরেজি
স্থানঃ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বাধীন গাজা উপত্যকা

মধ্যরাতে গাজা ভূখণ্ডে ঘুমন্ত বেসামরিক সাধারণ মানুষদের লক্ষ্য করে স্থল অভিযান শুরু করে IDF (Israel Defense Force)। যেমনটা আমাদের দেশে ২৫ মার্চ হয়েছিলো আরকি।

গাজার পক্ষ হতে পাল্টা প্রতিরোধ করে হামাস। প্রায় ২৫০০ হাজার মানুষ ফিলিস্তিনি শহীদ হলেও হামাস সেবার ইসরাইলের IDF’কে স্থল অভিযানে রুখে দিতে সক্ষম হয়েছিলো। ইসরাইলের প্রায় ৬৮ জন IDF মিলিটারি নিহত হয়।

কিন্তু সমস্যা ছিলো, হামাসের কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিমানবাহিনী কিংবা নৌ-বাহিনী কোনোটাই নেই। তবে এদের নিজস্ব সেনাবাহিনী ও পুলিশ ডিপার্টমেন্ট আছে। এসব দিয়েই তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা কমান্ডো বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

ইসরাইল প্রথমে গাজায় আকাশ পথে হামলা চালায় কিন্তু তার বিপরীতে হামাসও পাল্টা রকেট ছুঁড়ে ইসরাইলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে। ইসরাইল স্থল অভিযান ছাড়া হামাসের এই রকেট হামলা বন্ধ করতে না পেরে তখন স্থল অভিযান শুরু করেছিলো।

আগস্টে এসে, কাতারের মধ্যস্থতায় সেবার দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। যুদ্ধবিরতির পর দেখা যায় হামাসের কাছে আরও প্রায় কয়েক হাজার রকেট মজুদ রয়েছে।

অন্যদিকে হতাহতের সংখ্যা বেশি হলেও হামাস স্থল অভিযানে ইসরাইলের সামনে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছিলো বলেই ইসরাইল যুদ্ধবিরতির পথে হেটেছিলো বা হাটতে বাধ্য হয়েছিলো। এরপর আজ অবদি তেমন বড়সড় কোনো স্থল অভিযান ইসরাইল চালায় নি বা চালানোটা তাদের জন্য মঙ্গলজনক বলে ভাবতে পারেনি।

প্রেক্ষাপট- ২
সময়ঃ ১০-২১ মে, ২০২১ ইংরেজি
স্থানঃ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বাধীন গাজা উপত্যকা

ইসরাইল বুদ্ধিমান। তারা অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েছে। ২০১৪’র প্রেক্ষাপট থেকে শিক্ষা নিয়ে বিনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবার কোনো ধরণের স্থল অভিযান ছাড়াই মিশরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে গেলো।

বলে রাখা ভালো, মিশরে বর্তমানে আমেরিকা সাপোর্টেড জেনারেল সিসি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। মুসলিম ব্রাদারহুড (মিশরের রাজনৈতিক দল যার সাথে হামাসের ভালো সম্পর্ক)- এর মোহাম্মদ মুরসি প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় গাজা মিশর থেকে বড় ধরণের সহায়তা।

কিন্তু ২০১৪ সালে আমেরিকার ষড়যন্ত্রে মুরসিকে ক্ষমতা থেকে উৎক্ষাত করে আমেরিকার আজ্ঞাবহ জেনারেল সিসিকে ক্ষমতায় বসানো হয়। ফলে গাজা তারপর থেকে মিশর থেকে কোনো সহায়তা পায় না।

২০১৪ সালের মতো এবারও হামাস যতটা সম্ভব ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার সর্বোচ্চ এটেমপ্ট নিয়েছে। যদিও IDF কে পুরপুরি পরাস্ত করার শক্তি হামাসের নেই, তারপরও হামাস যেভাবে শতশত রকেট ছুঁড়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়েছে সেটা দখলদার ইসরাইল বাহিনীর কপালে কিছুটা হলেও চিন্তার ভাঁজ ফেলছে নিঃসন্দেহে।

২০১৪ কিংবা ২০২১ প্রেক্ষাপট; হামাসের বিজয় কিনা সেটা তর্ক সাপেক্ষ ও ব্যাখ্যাতিত ব্যাপার। কিন্তু এবারের সংঘাত ও যুদ্ধবিরতিতে হামাস তথা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা মুভমেন্টের জন্য কিছু আশাজাগানিয়া বিষয় অবশ্যই আছে।

১. এটি স্পষ্ট হলো যে, ইসরাইলের ‘আয়রন ডোম’ কোনো আসমানি অভেদ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নয়। সাধারণ হাতে তৈরি রকেট এই সিস্টেমকে ভেদ করে আঘাত হানতে সক্ষম। ইসরাইলের দুর্বলতা স্পষ্ট।

২. আরব ও মুসলামনদের পাশাপাশি, অনেক ইহুদি ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এতে করে, মানবিক কারণেই ফিলিস্তিনের পক্ষে বিশ্বব্যাপী বড় ধরণের জনমত সৃষ্টি হয়েছে নিশ্চয়।

৩. মুসলমানদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোড়ালো হলো। মুসলমানদের এমন দূর্দশায় এই দেশগুলোর নিশ্চুপ দর্শকের ভূমিকার ফলে এদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের ক্ষোভ বাড়ছে; যা এদেরকে একটা স্নায়ুবিক চাপের মাঝে রাখবে নিঃসন্দেহে।

৪. ফিলিস্তিন ইস্যুতে রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক ও চীন এবার একই নীতিতে ও একই সুরে কথা বলেছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধারণা করছেন এই দেশগুলো আমেরিকা-ইসরাইল বিরোধী একটা বলয় তৈরি করবে সামনে। যেটা নিশ্চিতভাবে ইসরাইলের জন্য সুখকর হবে না।

কারণ তাদের মিত্র ও পৃষ্ঠপোষক আমেরিকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুব একটা ভালো যাচ্ছে না এখন। তাদের বর্তমানে চীন, ইরান ও রাশিয়ার সাথে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মহাব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকা আর কতদিন এভাবে ইসরাইলকে সহায়তা দিয়ে আসবে সেটিই এখন এক বিরাট প্রশ্ন।

৫. সর্বোপরি, বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে যে জাতিগত ও ধর্মীয় ঐক্য রয়েছে সেটাকে আরো দৃঢ় করেছে; যা ভবিষ্যৎ’এ মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আরিফ উল্লাহ
শিক্ষার্থী, ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ফিলিস্তিন -ইসরাইল ইস্যু ছাড়া আরও পড়ুনঃ

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। আমাদের সাইট থেকে কপি হয়না তাই পোস্টটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখতে পারেন।