প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণ

ফোকাস রাইটিং FOCUS WRITING
Content Protection by DMCA.com

বিসিএস ও ব্যাংক
ফোকাস রাইটিং
রেমিট্যান্স
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন(প্রথম আলো, ১৫ জুলাই, ২০২১)
প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণ

করোনা সংকটের সময়ে বিশ্বের প্রায় সব দেশ নিজেদের অর্থনীতি নিয়ে খাবি খাচ্ছে। তবে এই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। এসব দেশে অর্থনীতির অন্যতম বড় চালিকা শক্তি হয়ে আছে প্রবাসী আয়। করোনার মধ্যে গত ২০২০ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ।

করোনার মধ্যে কেন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় প্রবাসী আয় বেড়েছে, তা নিয়ে ১৩ জুলাই একটি মতামত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। সেখানে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ছয় কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণগুলো হলো প্রবাসীদের সঞ্চয় দেশে পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, বৈধ পথে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি, দেশে থাকা পরিবারের প্রতি সহানুভূতিশীলতা, অর্থ প্রেরণের নতুন নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন, কর ছাড় ও বড় দেশের প্রণোদনার অর্থের কিছু অংশও আসা।

গত ২০২০ সালে বাংলাদেশে মোট ২ হাজার ১৭৫ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশে এসেছে। করোনার মধ্যেও তখনপ্রবাসী আয়ে ১৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়। আর বর্তমানে প্রবাসী আয় পাঠানোয় পুরো বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ওপরে আছে কেবল ভারত ও পাকিস্তান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবাসী আয় দক্ষিণ এশিয়ার গরিব পরিবারগুলোর দারিদ্র্যসীমার ওপরে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

১. সঞ্চয় দেশে পাঠানো :

করোনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রবাসী শ্রমিকদের কাজের সুযোগ কমেছে। ফলে প্রবাসে বহু শ্রমিক চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। তাঁরা নিজেদের সঞ্চয় দেশে নিয়ে এসেছেন।

২. বৈধ উপায়ে অর্থ প্রেরণ :

করোনাকালে বৈধ উপায়ে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। ভ্রমণনিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে অনেক প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরতে পারেননি। এতে বন্ধুবান্ধবের মাধ্যমে দেশে অর্থ প্রেরণের সুযোগও কমে যায়। তাই বৈধ উপায়ে দেশে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে।

৩. পরিবারের প্রতি সহানুভূতিশীলতা:

করোনার সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবাসী শ্রমিকদের দেশে থাকা পরিবারগুলো নানা সমস্যায় পড়েছে। তাই পরিবারের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাঁরা দেশে আগের চেয়ে বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন।

৪. নতুন নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন:

প্রবাসী আয় দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবিত হচ্ছে। নানা ধরনের আর্থিক চ্যানেল তৈরি হয়েছে। জিপে ও আলিপের মতো অর্থ প্রেরণের অ্যাপস এসেছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রবাসী আয় পাঠানো সহজ হয়েছে।

৫. কর ছাড়:

কর ছাড় বা আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠানোকে উৎসাহিত করেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। এ ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠালে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হয়।

৬. বড় দেশের প্রণোদনা অর্থ:

করোনাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো নানা ধরনের আর্থিক প্রণোদনা দিয়েছে। সেই প্রণোদনার অর্থের কিছুটা অংশ দক্ষিণ এশিয়ার প্রবাসী শ্রমিকেরাও পেয়েছেন। সেটা অনেকেই দেশে নিজেদের পরিবারের কাছে পাঠিয়েছেন।

প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণ ছাড়া আরও পড়ুনঃ

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। আমাদের সাইট থেকে কপি হয়না তাই পোস্টটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখতে পারেন।