পদ্মা সেতু সম্পর্কিত সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

পদ্মা সেতু সম্পর্কিত সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
Content Protection by DMCA.com

পদ্মা সেতু সম্পর্কিত সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গত ১০ ডিসেম্বর সব কটি স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে বহুমুখী পদ্মা সেতুর মূল কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ হলো। স্থাপিত হলো নদীর দুই পারের মধ্য সংযোগ। পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এটি মাইলফলক অগ্রগতি। যান চলাচলের জন্য কবে এ সেতু খুলে দেওয়া হবে, দেশবাসী এখন সেই প্রতীক্ষা করছে।

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর নির্মাণাধীন একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের সাথে শরিয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা যুক্ত হবে, ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য পদ্মা সেতু হতে যাচ্ছে এর ইতিহাসের একটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প। দুই স্তর বিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির (truss bridge) ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরটিতে থাকবে একটি একক রেলপথ।

পদ্মা সেতুর অবস্থান: মুন্সিগঞ্জের মাওয়া এবং শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে।
নকশা: পদ্মা বহুমুখী সেতুর সম্পূর্ণ নকশা এইসিওএমের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরামর্শকদের নিয়ে গঠিত একটি দল তৈরি করে।
মোট দৈর্ঘ্য: ৬.১৫ কিমি বা ৩.৮১ মাইল। ৬.১৫ কিলোমিটার মূল সেতুর সাথে ৩.৬৮ কিলোমিটার সংযোগ সেতুসহ পদ্মা সেতু হচ্ছে ৯.৮৩ কিলোমিটার।
প্রস্থ: ১৮.১০ মিটার।

মোট পিলার: ৪২ টি।
মোট স্প্যান: ৪১ টি (প্রতিটি স্পেনের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার)।
প্রতি পিলারের জন্য পাইলিং: ৬টি। .
মোট পাইলিং সংখ্যা: ২৬৪টি।
পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট পিলার: ৮১টি।
পানির স্তর থেকে পদ্মা সেতুর উচ্চতা: ৬০ ফুট।
পদ্মা সেতুতে কী কী থাকবে: গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অপটিক্যাল ফাইবার লাইন পরিবহন সুবিধা।
সংযোগস্থল: মাওয়া(মুন্সীগঞ্জ) এবং জাজিরা (শরীয়তপুর)।
কতটি জেলার সাথে সংযোগ করবে: দক্ষিণের ২১ জেলা।

কাজ শুরু: ৭ ডিসেম্বর ২০১৪।
নির্মাণ ব্যায়: এতে ব্যয় হচ্ছে ৩০ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা৷
পদ্মা সেতু প্রকল্পে নদীশাসন ব্যয়: ৮ হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
পদ্মা সেতু প্রথম দৃশ্যমান হয়: ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পদ্মা সেতুতে পিলারের ওপর বসানো হয় প্রথম স্প্যান। শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর ভাসমান ক্রেনের সাহায্যে এই স্প্যান বসানো হয়।
সর্বশেষ স্প্যান বসানো হয়: ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর। ১২ ও ১৩ নং পিলারে।
একটি পিলার থেকে আরেকটি পিলারের দূরত্ব: ১৫০ মিটার।

মুল সেতু নির্মাণের কাজ পায়: চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। (সরকারের সাথে চুক্তি সই করে- ২০১৪ সালের ১৮ জুন)।
নদী শাসনের কাজ করছে: চীনের সিনো হাইড্রোকর্পোরেশন।
পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে: সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় (সেতু বিভাগ)।

🌿 পদ্মা সেতুর অর্থনৈতিক প্রভাব:
১. জাইকার সমীক্ষামতে, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দেশের ১ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি পেয়ে আঞ্চলিক জিডিপি বৃদ্ধি দাঁড়াবে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে।
২. দক্ষিণবঙ্গে শিল্পায়নের গতি ব্যাপক বেড়ে যাবে।
৩. পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অসামান্য অবকাঠামোগুলোর একটি। ধীরে ধীরে স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
৪. ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দুই স্তরবিশিষ্ট পদ্মা বহুমুখী সেতুর প্রায় ৬৩ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।
৫. পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষ হলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের এবং দক্ষিণ পশ্চিমের জনগণের অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

🌿 পদ্মা সেতু ইতিমধ্যে তিনটি বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে-
রেকর্ড-১: পদ্মা সেতুর খুঁটির নিচে সর্বোচ্চ ১২২ মিটার গভীরে স্টিলের পাইল বসানো হয়েছে। এসব পাইল তিন মিটার ব্যাসার্ধের। বিশ্বে কোনো সেতুর জন্য এত গভীরে পাইলিং প্রয়োজন হয়নি। এ ছাড়া এত মোটা পাইল বসানো হয়নি বলেও জানিয়েছেন এর প্রকৌশলীরা।

রেকর্ড-২: এ সেতুতে ‘ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিংয়ের’ সক্ষমতা হচ্ছে ১০ হাজার টন। এখন পর্যন্ত কোনো সেতুতে এমন সক্ষমতার বিয়ারিং লাগানো হয়নি। রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে টিকে থাকার মতো করে পদ্মা সেতুর নির্মাণ। এটিও একটি বিশ্ব রেকর্ড।

রেকর্ড-৩: পদ্মা সেতু নির্মাণে নদীশাসনে চীনের ঠিকাদার সিনোহাইড্রো করপোরেশনের সঙ্গে ১১০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি হয়েছে। এর আগে নদীশাসনে এককভাবে এত বড় দরপত্র আর হয়নি। এটি তৃতীয় বিশ্ব রেকর্ড।

👉 ৬.১৫ কিলোমিটার সেতুতে মোট ৭টি জয়েন্ট থাকছে।

👉 পদ্মা সেতুর পাইলে ১ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন স্টিল ব্যবহার করা হয়েছে। সবমোর্ট ২৬৬ পাইল । আর পদ্মা সেতুর ৪১টি স্প্যানের ওজন ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৮৮ মেট্রিক টন। প্রতিটি স্প্যানের সর্বোচ্চ ওজন ৩০ হাজার ৮৮ মে. টন।

👉 পদ্মা সেতুর প্রতিটি পাইলের সক্ষমতা ১২৪.৬০ মেগা নিউটন। অর্থ্যাৎ প্রায় ৮ হাজার ৭ শ’ মেট্রিক টন। পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে রয়েছে ১২.১২ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ রোড। পদ্মা সেতুতে ২৯৬০টি রেলওয়ে স্ল্যাব এবং ২৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব স্থাপন হচ্ছে। ।

👉 পদ্মা সেতুর ন্যাশনাল গ্রিডিংয়ের জন্য সেতুর ৫০০ মিটার ভাটিতে পদ্মায় ৮টি বৈদ্যুতিক টাওয়ারের পাইল স্থাপন করা হয়েছে এই প্রকল্পের আওতায়।

🌿 আরও কিছু তথ্য:
– পদ্মাসেতুর ৪১তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে মুল কাঠামো সম্পুর্ন দৃশ্যমান
– পুরো পদ্মাসেতু প্রকল্পের ৮১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন
– মুল সেতুর ৯১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন
– পদ্মা রেল সেতুর কাজ ২৮.৩ শতাংশ সম্পন্ন
– ১০-১২ মাসের মধ্যেই রেলসেতু সহ পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে

🌿 কি কি কাজ বাকি:
– ১,৬৩২টি রোডওয়ে স্ল্যাব স্থাপন করা (মোট রোড স্ল্যাব লাগবে- ২৯১৭ টি)
– ১,০২৯ টি রেলওয়ে স্ল্যাব স্থাপন করা (মোট রেল স্ল্যাব বসবে- ২৯৫৯ টি)
– ব্রিজের রেলিং, স্ট্রিট ও আর্কিটেকচারাল লাইটিং স্থাপন
– গ্যাস ও বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন

🌿 পদ্মা সেতুর টোল কত হবে:
পদ্মা বহুমুখী সেতুর টোল এখনো চূড়ান্ত হয়নি। টোল নির্ধারণের বিষয়টি অপপ্রচার এবং গুজব। তবে টোলের হার নির্ধারণ করার লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তীতে টোল হার নির্ধারণে পদক্ষেপ নেয়া হবে। টোলের হার নির্ধারিত হলে জনগণকে অবহিত করা হবে বলে জানিয়েছে সেতু বিভাগ।

পদ্মা সেতু সম্পর্কিত সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্যছাড়া আরও পড়ুনঃ

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।

আপনার টাইমলাইনে শেয়ার করতে ফেসবুক আইকনে ক্লিক করুন-