চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও উন্নয়নশীল দেশের প্রস্তুতি

ফোকাস রাইটিং FOCUS WRITING
Content Protection by DMCA.com

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও উন্নয়নশীল দেশের প্রস্তুতি

চলুন ফ্ল্যাশব্যাকে নতুন সহস্রাব্দের শুরুর নাগরিক জীবনে ফিরে যাই। ট্যাক্সি লাগবে? আশপাশের নিকটতম কোনো ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে দাঁড়ান, অপেক্ষা করুন, ট্যাক্সি আসতে কতক্ষণ লাগবে সেটা নিশ্চিত নয়;

আবার একটা ট্যাক্সি এলেই আপনি ন্যায্য ভাড়ায় কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে যেতে পারবেন এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই, কারণ ট্যাক্সি তার পছন্দমতো রুটে যাবে। খুব পছন্দের কোনো বই পড়তে ইচ্ছে করছে? বই কিনতে চান? চলে যেতে হবে নিউ মার্কেটের কোনো বইয়ের দোকানে।

কাজের চাপে সময় হচ্ছে না যাওয়ার, বই কেনা হচ্ছে না, পড়া হচ্ছে না পছন্দের বইগুলো। সিনেমা দেখতে ইচ্ছে করছে? সিনেমা কাউন্টারের টিকিটের জন্যে লাইনে দাঁড়াতে হবে এজন্য পছন্দের সিনেমাটা দেখা হলো না।

উপরের উদাহরণগুলো আজকের দিনের বাস্তবতার সঙ্গে অনেকটাই বেমানান। ট্যাক্সির জন্যে স্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতে হবে না। উবার কল করলেই চলে আসবে ট্যাক্সি আপনার কাছে, নিয়ে যাবে আপনার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে কোনো রকম দরকষাকষি ছাড়াই।

পছন্দের বই পড়তে চাইলে রকমারি ডট কমে ফরমায়েশ দিলেই সময়মতো চলে আসবে, কষ্ট করে দোকানে গিয়ে বই কিনতে হবে না। আরো সহজে চাইলে, অনলাইনে পড়ে নিতে পারেন পছন্দের অ্যাপ ডাউনলোড করে, যেমন কিন্ডেল।

নেটফ্লিক্স বা অ্যামাজন প্রাইমে দেখে নিতে পারেন পছন্দের মুভি আপনার সুবিধামতো সময়ে। এ রকম আরো অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যাবে, যেখানে অন-ডিমান্ড বা চাহিদার ভিত্তিতে অর্থনীতির কর্মকাণ্ড সম্পাদন হচ্ছে।

চাহিদার ভিত্তিতে অর্থনীতির মৌলিক প্রশ্ন হলো কোনো সেবা বা পণ্যের মালিকানার মূল্য বেশি নাকি যে প্লাটফর্মে সেসব সেবা বা পণ্য লেনদেন হয় তার মূল্য বেশি? অ্যামাজন কোনো প্রকাশনা সংস্থা নয় এবং নিজের কোনো বই নেই, তার পরও বিশ্বের সবচেয়ে বড় বইয়ের দোকান। অ্যামাজনের বর্তমান বাজারমূল্য ট্রিলিয়ন ডলার।

তেমনি উবারের নিজেদের কোনো গাড়ি নেই, যদিও বিশ্বের সবচেয়ে বড় গাড়ি ভাড়া দেয়ার প্রতিষ্ঠান। আলিবাবা সারা বিশ্বে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তৃতীয়। আলিবাবার নিজস্ব পণ্যদ্রব্যের কোনো মজুদ নেই, যদিও বিশ্বের সবচেয়ে বড় খুচরা বিক্রেতা।

এয়ারবিএনবির কথাই ধরা যাক, বিশ্বের বৃহত্তম আবাসন সরবরাহকারী, কিন্তু আদৌ কোনো রিয়েল এস্টেটের মালিক নয়।

পুরনো কোনো পণ্যদ্রব্য বেচাকেনা করতে চাইলে যেকোনো একটি অনলাইন প্লাটফর্মে, যেমন ওএলএক্স, ক্লিক করুন, পেয়ে যাবেন মোবাইলের চার্জার থেকে শুরু করে গাড়ি এমনকি বাড়ি পর্যন্ত।

ওপরের উদাহরণগুলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কিছু নিদর্শনমাত্র। অর্থনীতির কর্মকাণ্ডের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল রূপান্তরই হচ্ছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রধান বুনিয়াদ।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব নিঃসন্দেহে প্রথম ও দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের চেয়ে অনেক আলাদা, তবে তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে রয়েছে অনেক মিল। প্রথম শিল্প বিপ্লবের সূত্রপাত হয়েছিল অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে, যার স্থায়িত্ব ছিল ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম সিকি ভাগ পর্যন্ত।

মূলত বাষ্পচালিত ইঞ্জিন আবিষ্কার এবং রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমেই প্রথম শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয়। পণ্যদ্রব্য পরিবহনে রেল যোগাযোগের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তবে শিল্পোৎপাদনে অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছিল কয়লা ও ইস্পাতের ব্যবহার। এদের পথ ধরেই সূচিত হয় দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের পথ, যার ব্যাপ্তি ছিল উনিশ শতকের শেষার্ধ থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত।

নতুন মৌলিক পদার্থের আবিষ্কার এবং ব্যবহার যেমন প্লাস্টিকের মতো হালকা পদার্থ, নতুন মিশ্রণ এবং বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে ‘মাস প্রোডাকশন’ বা ‘গণ উৎপাদন’ সম্ভব হয়, যা উৎপাদন খরচকে অভাবনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে, উনিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হওয়া তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের প্রভাব ছিল নতুন মিলেনিয়ামের আগ পর্যন্ত। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের আবিষ্কার ছিল তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের প্রধান ভিত্তি।
তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের হাত ধরেই মূলত শুরু হয় চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সূচনা।

এজন্য অনেকেই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায় (বা ডিজিটাল বিপ্লব) হিসেবে অভিহিত করেন। কারণ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মৌলিক উপাদানও কম্পিউটার ও ইন্টারনেট-সক্ষম প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও প্রসার। তবে উদ্ভাবন ও প্রসারের গতি এত বেশি ও পরিবর্তনশীল যে এটিকে আলাদা একটা শিল্প বিপ্লব হিসেবেই বেশি মানায়।

প্রখ্যাত লেখক ক্লস সোয়াব তার বই, ‘দ্য ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভল্যুশন’-এ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাবকে তিনটি প্রধান শ্রেণীতে ভাগ করেছেন।

প্রথম শ্রেণী হলো ‘ফিজিক্যাল’ বা শারীরিক’, যেমন স্বয়ংক্রিয় যানবাহনের আবিষ্কার যা সেন্সর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পরিচালিত হয়। প্রযুক্তির এ উন্নয়ন অচিরেই অর্থনীতির বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করবে। যেমন ড্রোনের সাহায্যে অনেক কাজ সম্ভব হবে মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়া। আবার থ্রিডি প্রিন্টিং চিকিৎসাবিজ্ঞানে দারুণ প্রভাব ফেলবে।

উন্নত কোবট (কোলাবরেটিভ রোবট), এখন পর্যন্ত যাদের ব্যবহার কেবল অটোমোবাইল তৈরিসহ নির্দিষ্ট কিছু শিল্পকাজে সীমাবদ্ধ, কৃষিকাজ থেকে শুরু করে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

রোবটের দ্রুত অগ্রগতি শিগগিরই মানুষ ও মেশিনের মধ্যে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করবে, যখন মানুষ দৈনন্দিন কাজে রোবটের সাহায্য নেবে।

তদুপরি নতুন উপকরণের আবিষ্কার হবে, যার প্রধান বৈশিষ্ট্য হবে যে এগুলো অনেক হালকা, শক্তিশালী, পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেরামতযোগ্য।

দ্বিতীয় শ্রেণী হলো ‘ডিজিটাল’—যেমন নতুন নতুন অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে পণ্য, পরিষেবা, স্থান ইত্যাদির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক তৈরি করে দেয়া। এ লেখার শুরুতে যেসব উদাহরণ দেয়া হয়েছে, সবই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ডিজিটাল রূপ।

যেমন করোনাকালীন সঙ্গরোধ (কোয়ারেন্টিন) নিশ্চিত করার জন্যে আরএফআইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে অনেক দেশেই। আবার আর্থিক কর্মকাণ্ড অনেকটাই প্রযুক্তিনির্ভর ছিল। আর্থিক খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার (ফিনটেক) ভবিষ্যতে প্রথাগত ব্যাংকিং পরিষেবাকে অনেকটা সংকুচিত করে দেবে।

কারণ ছোট আকারের ফিনটেক প্রতিষ্ঠান অনেক কম খরচে বেশি দক্ষতার সঙ্গে আর্থিক সেবা দিতে সমর্থ হবে। ডিজিটাল যুগে এসব ছোট কিন্তু কার্যকর প্রযুক্তিপণ্য ও সেবার চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সূক্ষ্ম সমন্বয় করতে সম্ভব হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যখন ডিজিটাল মুদ্রার ওপর নির্ভর করা শুরু করবে, আর্থিক নীতি আরো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।

তৃতীয় শ্রেণী হলো জৈবিক (বায়োলজিক্যাল)। আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা ধান ও পাটের জেনেটিক সিকোয়েন্স এরই মধ্যে আবিষ্কার করেছেন। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় আরো অনেক উদ্ভিদের জিন আবিষ্কার করবেন। এসব জিন আবিষ্কারের মাধ্যমে তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোসহ উৎপাদন অনেক গুণ বাড়িয়ে তোলা সম্ভব হবে।

শক্তিশালী কম্পিউটার ও সফটওয়্যার মানব জিনোম বুঝতে সাহায্য করবে। জৈবপ্রযুক্তি বর্তমানে এমন পর্যায়ে চলে গেছে যেখানে কোষের ডিএনএ পরিবর্তন করে কোষের ব্যবহার প্রভাবিত করা যায়। নিঃসন্দেহে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে রয়েছে এর ইতিবাচক অনেক প্রভাব।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভূত পরিবর্তন আনবে একথা অনস্বীকার্য। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিশ্ব এখন একটি ক্রান্তিলগ্নে রয়েছে, যার পরবর্তী পর্যায় হবে অধিকতর উৎপাদনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা।

প্রযুক্তির আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে পণ্য ও সেবার উৎপাদন ও বণ্টনের ব্যয় অভাবনীয় হারে হ্রাস পাবে, কারণ মানুষকে সহায়তা করবে মেশিন। উন্নত দেশে, যেখানে কর্মক্ষম জনসংখ্যার ঘাটতি রয়েছে, প্রযুক্তির আবির্ভাব সেখানে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সক্ষম হবে।

তাই চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মানুষের জীবনযাত্রায় একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই অনেকের ধারণা। তবে উচ্চ জনসংখ্যার দেশে, যেগুলো মূলত অনুন্নত ও উন্নয়নশীল, বেকার সমস্যা প্রকট হতে পারে। প্রথাগত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি, যেখানে মানবসম্পদের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, অনেক কমে আসবে।

বিশেষ করে হিসাবরক্ষক, আর্থিক বিশ্লেষক, কর উপদেষ্টা, গ্রন্থাগারিক, টেলিফোন অপারেটর, নিরাপত্তারক্ষী, কোষাধ্যক্ষ, শোরুমে নিয়োজিত বিক্রয়-কর্মী, ফিলিং স্টেশনের কর্মীর চাহিদা আগামী দশকের মধ্যে তলানিতে নেমে আসবে।

এ সমস্যা মোকাবেলায় প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে মানুষের কর্মক্ষমতাকে বাড়ানো যায় তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। মানুষকে ক্ষমতায়ন করতে হবে প্রযুক্তি গ্রহণ ও ব্যবহারে। মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তি মানুষেরই সৃষ্টি কেবল মানুষের কাজের গতিকে বেগবান করার জন্য।

প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষমতা বাড়ায় এমন সব সেক্টরে বিনিয়োগ করতে হবে। প্রশিক্ষণ হয়তো স্বল্পমেয়াদে লাভজনক হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সুফলের জন্য শিক্ষা ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে হবে।

মূলধারার শিক্ষাকে এমনভাবে সাজাতে হবে যেন তা মানবসম্পদকে ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় নমনীয়তা, চিন্তা করার ক্ষমতা ও তথ্য বিশ্লেষণের উপযোগী করে তোলে। মূলধারার শিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষাকে জোরদার করতে হবে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব সমাজে বৈষম্য তৈরি করতে পারে। যেমন ‘কম-দক্ষতা স্বল্প-বেতন’ বনাম ‘উচ্চ-দক্ষতা উন্নত-বেতন’ কাঠামো অর্থনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করবে। আর্থিক সক্ষমতা নির্ধারণ করবে প্রযুক্তিকে কারা আশু গ্রহণ এবং কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারবে।

বলা বাহুল্য, তাদের অব্যাহত অর্থনৈতিক সাফল্য ধনী-গরিবের বৈষম্য বাড়িয়ে তুলবে, যা টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্তরায় হবে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সম্পদ সৃষ্টির পাশাপাশি সম্পদের সুষম বণ্টনের দিকে নজর দিতে হবে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব যে কেবল মানুষের কাজ মেশিনকে দেবে এমন নয়। এটা আসলে ‘মানুষ বনাম মেশিনের’ প্রশ্ন নয়। বরং প্রযুক্তিনির্ভর অনেক নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে মানুষের জন্য। সেজন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হবে কীভাবে প্রযুক্তির সংযোজনে মানবসম্পদের উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো যায়।

সেই সঙ্গে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কীভাবে বণ্টনকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি ভোক্তার চাহিদামাফিক মানসম্মত পণ্য ও সেবা সরবরাহ করা যায়। তবে এটা ঠিক যে, প্রথম ও দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লব যে হারে মানুষের জন্য নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি করেছিল, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব থেকে এমনটা আশা করা যায় না।

কারণ মানুষ নয়, প্রযুক্তিই হবে ডিজিটাল যুগের প্রধান চালিকাশক্তি। তদুপরি বিশ্বায়নের ফলে প্রতিযোগিতার পথ এখন অনেকটাই উন্মুক্ত। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার জন্য অবশ্যই উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে তাগিদ দিতে হবে, যার অর্থ মূলত ব্যয় হ্রাস করার দিকে মনোনিবেশ করে উৎপাদন ও বণ্টন কৌশলকে আরো আধুনিকায়ন করা।

চাহিদানির্ভর অর্থনীতি (যেখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিবেচ্য বিষয় হলো ভোক্তার চাহিদা পূরণ) থেকে বেরিয়ে এসে নতুন নতুন পণ্য ও সেবার জোগানের মাধ্যমে নতুন চাহিদার সৃষ্টি করতে পারলে নতুন অনেক কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এ দৌড়ে যারা এগিয়ে থাকবে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফল তারাই ভোগ করবে।

ড. মোহাম্মদ দুলাল মিয়া: সহযোগী অধ্যাপক বিভাগীয় প্রধান, ফাইন্যান্স ও অর্থনীতি বিভাগ
নিজওয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ওমান

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও উন্নয়নশীল দেশের প্রস্তুতি ছাড়া আরও পড়ুনঃ

অডিটর ও জুনিয়র অডিটর পদের পরীক্ষার প্রস্তুতি
Most Important Idioms and Phrases for Writing skills
Samuel Taylor Coleridge
রোহিঙ্গা সমস্যা – জাতিসংঘের অসম্পূর্ণ প্রস্তাব ও বাংলাদেশের অবস্থান

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। আমাদের সাইট থেকে কপি হয়না তাই পোস্টটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখতে পারেন।