কৃত্রিম বৃষ্টি, তার ইতিহাস ও ব্যবহার

সাধারন বিজ্ঞান বিসিএস
Content Protection by DMCA.com

বিসিএস ও ব্যাংক প্রস্তুতি
সাধারণ বিজ্ঞান
কৃত্রিম বৃষ্টি, তার ইতিহাস ও ব্যবহার

কৃত্রিম বৃষ্টিপাত হলো প্রকৃতির ওপর বৈজ্ঞানিক প্রভাব খাটিয়ে সংঘটিত বৃষ্টিপাত। এ জন্যে প্রথমতঃ মেঘ সৃষ্টি করতে হয়;

দ্বিতীয় পর্যায়ে এই মেঘকে বৃষ্টিপাতের উপযোগী অবস্থায় নিয়ে আসতে হয় এবং শেষতঃ মেঘ গলিয়ে বৃষ্টি ঝরানো হয়।

তবে সচরাচর আকাশে ভাসমান মেঘকে পানির ফোঁটায় পরিণত করে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানো হয়। কৃত্রিম বৃষ্টিপাত স্থল জেনারেটর, প্লেন বা রকেট দ্বারা করা যেতে পারে।

বাতাসের ঘনীভবনঃ
প্রথম পর্যায়ে যেখানে বৃষ্টিপাত আবশ্যক সেখানে রাসায়নিক ব্যবহার করে মেঘ সৃষ্টি করা হয়। ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ক্যালসিয়াম অক্সাইড, ইউরিয়া এবং লবণ মিশ্রিত একটি রাসায়নিক অথবা ইউরিয়ার সঙ্গে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মিশিয়ে প্রস্তুত একটি রাসায়নিক মেঘ সৃষ্টিতে ব্যবহার করা হয়। এই রাসায়নিক বায়ু থেকে আর্দ্রতা আহরণকরত ঘনীভবন প্রক্রিয়ার সূত্রপাত ঘটায়।

মেঘসৃষ্টিঃ

দ্বিতীয় পর্যায়ে রাসায়নিকের সাহায্যে মেঘপুঞ্জ তৈরি করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় রান্নার লবণ বা সোডিয়াম ক্লোরাইড, টি-১ ফর্মুলা, ইউরিয়া, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, শুকেনো বরফ, কখনো কখনো ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড ব্যবহার করা হয় এবং সোডিয়াম আয়োডাইড বা পটাসিয়াম আয়োডাইড বা তরলে প্রোপেন ও ব্যবহার করা হয়। এতে মেঘের দ্রুত ঘনীভবন হয় এবং তা পতনশীল অবস্থায় পৌছেঁ।

এ প্রক্রিয়াকে ক্লাউড সিডিং ও বলে। ক্লাউড সিডিংয়ের সময় মেঘের তাপমাত্রা -২০ থেকে -৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় নেমে আসে তখন বৃষ্টিপাত বেড়ে যায়।

বৃষ্টিপাতঃ

তৃতীয় পর্যায়ে বিমানের সাহায্যে মেঘরাশির ওপর সিলভার আয়োডাইড নামক রাসায়নিক পদের্থের স্ফটিকদানা (বা কখনো কখনো বিচূর্ণ শুকেনো বরফ) ছড়িয়ে দিয়ে মেঘধৃত আর্দ্রতাকে বড়-বড় পানির ফোঁটায় পরিণত করা হয় যা আর বাতাসে ভাসতে না-পেরে মাটিতে নেমে আসে এবং বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়। বিকল্পে, মেঘপুঞ্জ লক্ষ্য করে রাসায়নিকপূর্ণ রকেট ছোঁড়া হয়ে থাকে।

মেঘ আছে বৃষ্টি নেইঃ

প্রায়শঃ এমন অবস্থা দেখা যায় যে আকাশে মেঘ আছে অথচ বৃষ্টি হচ্ছে না। অতি শীতল মেঘে তুষার কণা জমে যায়, পানি আর থাকে না। তখন বিমান থেকে রাসায়নিক ছিটিয়ে অতি শীতল (সুপারকুলিং) অবস্থা নষ্ট করে দেয়া হয়; মেঘ তখন পানিতে পরিণত হয় এবং বৃষ্টির ফোঁটায় মাটিতে নিপতিত হয়।

কৃত্রিম বৃষ্টির ইতিহাসঃ

১৮৯১ সালে লুই গাথমান প্রথম কৃত্রিম বৃষ্টি সৃষ্টিতে তরল কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহারের প্রস্তাব করেন। ১৯৩০ এর দশকে বার্গারন-ফাইন্ডিসেন বরফের স্ফটিক কণার উপস্থিতিতে অতীব ঠাণ্ডা পানির কণা জমে এবং শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি হয়ে নামে- এ ধারণার ওপর ভিত্তি করে তত্ত্ব তৈরি করেন।

এ তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন জেনারেল ইলেকট্রিকের গবেষক ভিনসেন্ট শিফার। ১৯৪৬ সালের জুলাইতে তিনি কৃত্রিম বৃষ্টির মূলনীতি আবিষ্কার করেন। পরে নোবেল জয়ী বিজ্ঞানী আরভিং ল্যাংমুর সঙ্গে যৌথভাবে কৃত্রিম বৃষ্টি সৃষ্টির কৌশল নিয়ে গবেষণা করেন।

‘ক্লাউড সিডিং’ এর ব্যবহার:

কোনো একটি এলাকায় কৃত্রিম বৃষ্টির মাধ্যমে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১০%-২০% বাড়ানো সম্ভব। খরাপ্রবণ এলাকায় ফসল ফলাতে এ কৌশল বেশ কার্যকর। কৃত্রিম বৃষ্টিপাত প্রক্রিয়া ব্যবহার করে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভারী বৃষ্টিপাত ও হারিকেনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামাল দেয়ার চেষ্টা করা হয়।

ঘূর্ণিঝড় এলাকায় প্রচুর মেঘ থাকে, থাকে নিম্নচাপও। যখন সে ঘূর্ণিঝড় প্রবল শক্তি নিয়ে লোকালয়ে আঘাত করে তখন ক্ষয়ক্ষতির শেষ থাকে না। এমন অবস্থায় সেখানকার ঘূর্ণিঝড়ের মাঝে ক্লাউড সিডিং প্রক্রিয়া ব্যবহার করে বৃষ্টি ঝরিয়ে ঘূর্ণিঝড়কে দুর্বল করে ফেলা যায়। সম্প্রতি এই কাজটিই করছে ইন্দোনেশিয়া।

২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিক গেমসের ঠিক আগে ক্লাউড সিডিংয়ের মাধ্যমে বৃষ্টি ঝরিয়েছিল চীন, যাতে পুরো আয়োজন বৃষ্টির কারণে বিঘ্নিত না হয়। চীনই সবচেয়ে বেশি কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি ঝরায়।

এমনকি অতিমাত্রায় এ কৌশল ব্যবহারের কারণে চীনের বিরুদ্ধে বৃষ্টি চুরির অভিযোগ করে প্রতিবেশীরা। ভারতেও কৃত্রিম বৃষ্টি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা হচ্ছে।

চীন, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ইসরায়েল, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, বুলগেরিয়া, ফ্রান্স, স্পেন, রাশিয়া, জার্মানি, স্লোভেনিয়া, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং আফ্রিকার মালি, নাইজার, মরক্কো, বুরকিনা ফাসো এবং সেনেগাল বেশ কয়েকটি ক্লাউড সিডিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

কৃত্রিম বৃষ্টি, তার ইতিহাস ও ব্যবহার ছাড়া আরোও পড়ুন-

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। পোস্টটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখতে পারেন।