ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক শান্তিচুক্তি সমূহ

আন্তর্জাতিক শান্তিচুক্তি সমূহ
Content Protection by DMCA.com

ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক শান্তিচুক্তি সমূহ

প্যারিস শান্তি চুক্তি :
স্বাক্ষরিত হয়           : ২৭ জানুয়ারি ১৯৭৩ সালে।
স্বাক্ষরিত হয় কোথায় : ফ্রান্সের প্যারিসে।
চুক্তি স্বাক্ষরকারী       : ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্র।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য       : ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসানে সমঝোতা।
ফলাফল                : ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান।

ভার্সাই চুক্তি (Treaty of Versailles) :

প্রথম ভার্সাই চুক্তি :
চুক্তি স্বাক্ষর       : ১৭৮০ সাল।
চুক্তি স্বাক্ষরকারী : যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।
স্থান               : ফ্রান্সের ভার্সাই নগরী।
উদ্দেশ্য      : আমেরিকাকে স্বাধীনতা প্রদানের উদ্দ্যেশ্যে ব্রিটেনের সাথে আমেরিকা, ফ্রান্স ও স্পেনের সমঝোতা।
পরিচিতি          : এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইংল্যান্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক স্বাধীনতা চুক্তি।

দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি :
চুক্তি স্বাক্ষর       : ২৮ জুন, ১৯১৯ সাল।
চুক্তি স্বাক্ষরকারী : প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মিত্রশক্তি ও পরাজিত জার্মানি।
স্থান               : ফ্রান্সের ভার্সাই নগরী।
উদ্দেশ্য           : প্রথম বিশ্বযুদ্ধ অবসান এবং জার্মানিকে যুদ্ধপরাধী হিসেবে ক্ষতিপূরণ দানে বাধ্য করা।
ফলাফল         : এ চুক্তির মাধ্যমে জার্মানিকে কতিপয় অপমানজনক শর্ত মানতে বাধ্য করা হয়। এর প্রভাব হিসেবে জার্মানি নিজেদের শক্তি প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

পিস অব প্যারিস-১৭৮৩ :
চুক্তি স্বাক্ষর       : ৩ সেপ্টেম্বর ১৭৮৩ সাল।
চুক্তি স্বাক্ষরকারী : ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
স্থান               : ফ্রান্সের প্যারিস নগরী।
পরিচিতি         : আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে পাঁচটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যা একত্রে প্যারিস চুক্তি নামে পরিচিত।

তাসখন্দ চুক্তি :
চুক্তি স্বাক্ষর         : ১০ জানুয়ারি ১৯৬৬ সাল।
চুক্তি স্বাক্ষরকারী   : (ভারত ও পাকিস্তান) ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান ও সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী কোসিগান।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য    : কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধের অবসান ও শান্তি স্থাপন।
স্থান                  : উজবেকিস্তানের তাসখন্দ শহরে।
মধ্যস্থতাকারী দেশ : সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)।

সিমলা চুক্তি :
স্বাক্ষরিত হয়           : ৩ জুলাই ১৯৭২ সালে।
স্বাক্ষরিত হয় কোথায় : ভারতের হিমাচল প্রদেশের রাজধানী সিমলায়।
চুক্তি স্বাক্ষরকারী   : (ভারত ও পাকিস্তান) ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো।

ক্যাম্প ডেবিড চুক্তি :
স্বাক্ষরিত হয়          : ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ সালে।
চুক্তি স্বাক্ষরকারী      : (মিশর ও ইসরাইল) মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার আল সাদাত ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী মেনাহেম বেগিন।
স্বাক্ষরিত হয় কোথায় : যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেবিড শহরে।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য      : মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার রূপরেখা নিরূপণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা।
মধ্যস্থতাকারী          : মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার।

পিএলও-ইসরাইল স্বায়ত্তশাসন চুক্তি :
স্বাক্ষরিত হয়     : ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ সালে। তবে এর পূর্বে ১৯৯৩ সালের ২০ আগস্ট নরওয়ের রাজধানী অসলোতে এক গোপন বৈঠকে পি.এল.ও এক ইসরাইলি চুক্তির ব্যাপারে একমত হয়। একারণে একে ‘আসলো চুক্তি’ও বলা হয়।
চুক্তি স্বাক্ষরকারী : পিএলও নেতা ইয়াসির আরাফাত এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিন।
স্বাক্ষরিত হয় কোথায় : যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেবিড শহরে।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য : ইসরাইল অখিকৃত গাজা ভূখণ্ড ও পশ্চিম তীরের জেরিকো শহরে ফিলিস্তিনীদের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা।

ডেটন চুক্তি :
স্বাক্ষরিত হয়     : ১৪ ডিসেম্বর ১৯৯৫ সালে।
স্বাক্ষরিত হয়     : ফ্রান্সের প্যারিসে।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য : বসনিয়া যুদ্ধের অবসান ঘটানো।
মধ্যস্থতাকারী    : তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার।

আয়ারল্যান্ড শান্তি চুক্তি :
স্বাক্ষরিত হয়     : ১০ এপ্রিল ১৯৯৮ সালে।
চুক্তি স্বাক্ষরকারী : ব্রিটিশ সরকার এবং আয়ারল্যান্ডের ৭টি গেরিলা গোষ্ঠী।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য : উত্তর ও দক্ষিণ আয়ারল্যান্ডের একীভূতকরণ।

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রি চুক্তি :
স্বাক্ষরিত হয়     : ১৯ মার্চ ১৯৭২ সালে।
চুক্তি স্বাক্ষরকারী : শেখ মুজিবুর রহমান এবং ইন্দিরা গান্ধি।
স্থান               : ভারতের নয়াদিল্লী।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য : নিরপেক্ষতা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।
চুক্তির মেয়াদ    : ১৮ মার্চ, ১৯৯৭ পর্যন্ত (২৫ বছর)।

আরোও কিছু শান্তিচুক্তি :
১. ‘Good Friday Treaty’ নামে পরিচিত কোন চুক্তি?
—আয়ারল্যান্ডের শান্তিচুক্তি (১০ এপ্রিল, ১৯৯৮)।

২. কোন চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকা ব্রিটেনের নিকট হতে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা লাভ করে?
—প্রথম ভার্সাই চুক্তি (১৭৮৩)।

৩. কোন চুক্তি অনুসারে বসনিয়া সংকট সমাধানের পথ সুগম হয়েছে?
—ডেটন চুক্তি।

৪. অসলাে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কোন সনে?
—১৯৯৩ সালে।

৫. কোন চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল ও মিসরের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার উদ্যোগ গৃহীত হয়?
—ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি (১৯৭৮)।

৬. ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিমলা চুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়?
—৩ জুলাই, ১৯৭২।

৭. তাসখন্দ চুক্তি কখন স্বাক্ষরিত হয়?
—১৯৬৬ সালের ১০ জানুয়ারি।

৮. মিশর ও ইসরাইলের মধ্যে ১৯৭৮ সালে কোন চুক্তিটি সম্পাদিত হয় ?
—ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি।

৯. ‘ডেটন শান্তিচুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়
—১৯৯৫ সনে।

১০. আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়ােগ নিষিদ্ধকারী ‘প্যারিস প্যাক্ট’ স্বাক্ষরিত হয়-
—১৯২৮ সনের ৩ নভেম্বর।

১১. শাত-ইল আরবকে কেন্দ্র করে ইরাক ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিতচুক্তির নাম-
—আলজিয়ার্স চুক্তি।

ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক শান্তিচুক্তি সমূহ ছাড়া আরোও পড়ুন-

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।

Facebook Notice for EU! You need to login to view and post FB Comments!