একনজরে G-7 (Group of 7) সম্মেলন-২০২১

ফোকাস রাইটিং : ব্লু ইকোনমি
Content Protection by DMCA.com

ফোকাস রাইটিং
একনজরে G-7 (Group of 7) সম্মেলন-২০২১

জি-৭ এর পূর্ণাঙ্গ রূপ হল গ্রুপ অফ সেভেন, বা সাতটি দেশের দল। বিশ্বের তথাকথিত উন্নত অর্থনীতির সাতটি বড় দেশ ও একটি সংস্থা নিয়ে এই রাজনৈতিক জোট গঠিত।

তম : ৪৭তম
ব্যাপ্তি: ১১ – ১৩ জুুন ২০২১

ভেন্যু: কর্নিশ রিসোট, কর্ণওয়াল (কার্বিস উপসাগরীয়), যুক্তরাজ্য।

জি-৭ এ সাধারণত প্রতিবছরই প্রতিনিধিত্ব করে বা প্রতিনিধি পাঠায়: ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

৪৭তম জি-৭ সম্মেলনে এ আমন্ত্রণ জানানো হয়: ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়া।

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালের কারবিস বেতে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ছাড়াও এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ দুই নেতাও এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। এই সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দেবেন ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার নেতারা।

পরবর্তী ৪৮তম জি-৭ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে: জার্মানিতে, ২০২২ সালে।

সর্বশেষ ৪৫তম জি-৭ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালে ফ্রান্সে। জি-৭ এর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোভিড-১৯ এর কারণে ২০২০ সালের ৪৬তম জি-৭ সম্মেলন (আয়োজক: যুক্তরাষ্ট্র) বাতিল হয় করা হয়েছিল।

সম্মেলনে মূল আলোচনার টপিকস:
করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা, অর্থনৈতিক অবস্থার পুনরুদ্ধার, জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূরাজনীতি

যুক্তরাজ্যের তরফ হইতে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলির জন্য ১০০ কোটি টিকার প্রস্তাব করা হইয়াছে। অবশ্য সম্মেলনের পূর্বেই বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট বাইডেন ৫০০ মিলিয়ন ভ্যাকসিন দরিদ্র দেশগুলির জন্য অনুদান দেওয়ার কথা বলেছেন ।

সম্মেলনে আলোচনার একটি বড় অংশ দখল করে আছে রাশিয়া ও চীন; আগামী দিনগুলিতে চীন ও রাশিয়াকে অর্থনৈতিক এবং ক্ষেত্রবিশেষ সামরিকভাবে মোকাবিলা করার উপায় কী হবে, সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনেই প্রেসিডেন্ট বাইডেন তাহা প্রকাশ করিয়াছেন। তিনি চীনকে মোকাবিলার জন্য একটি নতুন জোট গঠনের আহ্বান জানাইয়াছেন।

শনিবারের সেশনেই উল্লেখ করা হইয়াছে, রোড অ্যান্ড বেল্ট ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে চীন উন্নয়নশীল দেশগুলিতে যে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করিতেছে, পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলিকে তাহা মোকাবিলা করিতে হইবে। ইহার সহিত চীনের উইঘুর অঞ্চলে সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের উপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা করা হইয়াছে।

২০১৩ সালে চীন বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) প্রকল্প গ্রহণ করে। এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ১০০টির বেশি দেশ যুক্ত হয়েছে। এই বিআরআই প্রকল্পের মধ্যে রেলওয়ে, সড়ক, বন্দর, মহাসড়ক ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো রয়েছে। এটিকে মোকাবেলা করতে চায় এই জোট ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা চালিত বিল্ড বেটার ওয়ার্ল্ড (বি৩ডব্লিউ) পরিকল্পনাটি অনুরূপ চীনা পরিকল্পনার ভালো বিকল্প হতে পারে। বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ নামে চীনের একটি প্রকল্প আছে। এর আওতায় তারা রেলপথ, সড়কপথ এবং বন্দর নির্মাণে বিভিন্ন দেশকে সহায়তা করে , ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৩০% ভূ-খণ্ড ও জলভাগকে সুরক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা।

Important Facts :

1. গঠন: ২৫ মার্চ, ১৯৭৩ । জি-৭ গ্রুপের এই সাতটি উন্নত দেশ বিশ্বের তাবত্ সম্পদের ৫৮ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।

শিল্পোন্নত ৭টি দেশের জোট জি-৭ এর সদস্য দেশসমূহ: যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান (একমাত্র এশীয় দেশ), কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র।

৭টি সদস্য দেশ : মনে রাখার টেকনিক :
“জা ফ্রাই কই ও জাম পছন্দ করেন। ”
জা = জাপান,
ফ্রা =ফ্রান্স,
ই = ইতালি,
ক = কানাডা,
ই= ইংল্যান্ড,
জা =জার্মানি,
ম = মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
অথবা,
“জা ফ্রাই কই মজা”

2. ২০১৪ সালে জি-৮ থেকে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করলে রাশিয়া জি-৮ থেকে বের করে দেওয়া হয় ফলে জি-৮ এর নামকরণ করা হয় জি-৭।

3. জি-৭ এর প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৫ সালে জি-৬ নামে ফ্রান্সে।

4. চীন একটি বড় অর্থনীতি এবং বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ হওয়া সত্ত্বেও তারা কখনও এই জোটের সদস্য ছিল না। কোন দেশে মাথাপিছু সম্পদের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম থাকলে ওই দেশকে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর মতো উন্নত অর্থনীতি হিসাবে দেখা হয় না।

জি-৭-কে পুরোন দেশগুলোর জোট হিসেবেও আংশিক সমালোচনা করা হয়। কারণ এটি বিশ্বের বৃহত্তম দুই দেশ- ভারত এবং চীনকে অন্তর্ভুক্ত করেনি।

5. এই Political জোট কোনও আইন পাস করতে পারে না, কারণ এই জোট আলাদা জাতি নিয়ে গঠিত যাদের এটি নিজস্ব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে তাদের একমত হওয়া সিদ্ধান্তের বিশ্বব্যাপী প্রভাব থাকতে পারে।
জি-৭ ২০০২ সালে ম্যালেরিয়া এবং এইডসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একটি বিশ্বব্যাপী তহবিল গঠন করেছিল যেটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৬. প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রথম বিদেশ সফর হলো এই সম্মেলন ।

একনজরে G-7 (Group of 7) সম্মেলন-২০২১ ছাড়া আরও পড়ুনঃ

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। আমাদের সাইট থেকে কপি হয়না তাই পোস্টটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখতে পারেন।