উন্নয়ন তত্ত্ব ও মানবিক রাষ্ট্ররূপ

ফোকাস রাইটিং FOCUS WRITING
Content Protection by DMCA.com

ফোকাস রাইটিং
উন্নয়ন তত্ত্ব ও মানবিক রাষ্ট্ররূপ
বিসিএস + ব্যাংক লিখিত প্রস্তুতি

‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের তুলনায় পাকিস্তান ৭০ ভাগ ধনী ছিল; আর আজ বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে ৪৫ ভাগ ধনী। এ কারণে এক পাকিস্তানি অর্থনীতিবিদ সম্প্রতি বিষণ্ন মুখে বলেছেন, ‘২০৩০ সালে বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের সাহায্য চাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

‘সাউথ এশিয়া শুড পে অ্যাটেনশন টু ইটস স্টান্ডআউট স্টার’ শিরোনামের নিবন্ধে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও কলামিস্ট মিহির স্বরূপ শর্মা এ কথাগুলো বলেছেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে আখ্যা দেওয়া হেনরি কিসিঞ্জারের দেশের (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) গণমাধ্যম ব্লুমবার্গে প্রকাশিত এ তথ্যগুলো প্রচারিত হচ্ছে।

শুধু পাকিস্তান নয়, অর্থনৈতিক সচলতায় মাথাপিছু আয়সহ অনেক সেক্টরে ভারতকেও পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতা লাভের ৫০ বছরে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের মডেল হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশের এ অগ্রগতির নায়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘসহ বিশ্বের স্বনামধন্য সংগঠন-সংস্থা, নেতৃত্ব-ব্যক্তিত্বের বক্তৃতা-বিবৃতিসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে শেখ হাসিনার উদ্ভাবনী নেতৃত্ব ও মানবিক রাষ্ট্রদর্শন সম্পর্কিত ধারণা।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট কালরাতে দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দীর্ঘ চার দশকের প্রত্যক্ষ রাজনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে বর্তমান অবস্থায় নিয়ে এসেছেন। ১৯৯৬ সালে প্রথম বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

দেশের ইতিহাসে প্রথম ‘বয়স্ক ভাতা’, ‘বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত মহিলা ভাতা’, ‘অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা’, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’, ‘গৃহায়ন’, ‘আদর্শ গ্রাম’, ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ কর্মসূচিসহ অনেক মানবিক ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তার উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তি হয়।

এ চুক্তির ফলে ১৯৯৮ সালে শেখ হাসিনা অর্জন করেছেন ইউনেস্কোর ‘হুপে-বোয়ানি শান্তি’ পুরস্কার। ২০০৯ সালে দ্বিতীয় বার এবং তার পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে তিনি পূর্বের জনকল্যাণ কর্মসূচি অব্যাহত রেখে নতুন নতুন মানবিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।

শেখ হাসিনার টানা প্রায় এক যুগের শাসনামলে দেশে দারিদ্র্যের হার কমেছে, জনগণের জীবনমান, মাথাপিছু আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে, সরকার প্রথম বারের মতো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে শ্রীলঙ্কা সরকারকে ২০ থেকে ২৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ বা ঋণসুবিধা দিচ্ছে।

শেখ হাসিনার উদ্যোগে ২০১৫ সালে ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ে নতুন ঠিকানা পেয়েছে ৬৭ বছর মানবেতর জীবনযাপনকারী লাখ লাখ অধিবাসী। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার নেতৃত্ব-দর্শন মানবিক বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে নতুন মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনসহ আন্তর্জাতিক বিষয়ে তার উদ্ভাবনী প্রস্তাবগুলো বিশ্বরাষ্ট্রে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। শেখ হাসিনার প্রদত্ত ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ এবং ‘শান্তির সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব জাতিসংঘের অধিবেশনে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থনে গৃহীত হয়েছে ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর।

২০ মার্চ ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সৈন্য প্রেরণের দিক থেকে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের অন্যতম সত্, দক্ষ ও সেরা প্রধানমন্ত্রীর স্বীকৃতিসহ শেখ হাসিনা অর্জন করেছেন ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’, ‘মানবতার চ্যাম্পিয়ন’, ‘বিশ্বমানবতার নেতৃত্ব’, ‘সর্বশ্রেষ্ঠ মানবিক নেতা’সহ অনেক বিশেষণ। সমসাময়িক বিশ্বের কোনো নেতাই তার মতো এত বেশি মানবিক উপাধি পাননি।

অর্থনৈতিক সফলতা ও মানবিক উন্নয়নের অনেক দৃষ্টান্তের কারণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্জন করেছে মানবিক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি। তার উদ্যোগে দেশের এতিম, বৃদ্ধ, অসহায়, দুস্থ ও নিঃস্ব জনগণকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।

দেশের গৃহহীন পরিবারকে সরকারি খরচে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছেন, ‘মানুষের প্রতি শেখ হাসিনার ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে।’ অমর্ত্য সেনের মতে, ‘বিপুল জনপ্রিয় নেত্রী হলেও শেখ হাসিনা আসলে সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র মানুষের কণ্ঠস্বর।’ বিভিন্ন দুর্যোগের পাশাপাশি বর্তমান করোনা দুর্যোগেও শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষ থেকে নগদ অর্থসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে দেশের গরিব-দুঃখী মানুষকে।

মনুষ্যত্বপূর্ণ কর্ম ও লোকহিতকর উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে জনগণের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করে মানবিক মূল্যবোধের চর্চা ও বিকাশে নিয়োজিত রাষ্ট্রকে মানবিক রাষ্ট্র বলা যায়। সরকার শুধু রাষ্ট্রের মুখপাত্রই নয়, রাষ্ট্রের রূপকারও।

সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের নীতি-আদর্শ ও বৈশিষ্ট্যের কারণে রাষ্ট্রের ধরন বা শ্রেণি-বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত হয়। ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্য পদ লাভের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিশেষ স্মারক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যুদ্ধ, সংঘাত মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনে।

আমরা মাননীয় মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে একযোগে কাজ করতে চাই। আমরা মানুষের মননশীলতায় শান্তির সংস্কৃতি তৈরিতে কাজ করে যাব, যাতে মানুষের মন থেকে যুদ্ধের বৈরী ভাবনাগুলো মুছে যায়।’ শেখ হাসিনার চিন্তা-কর্ম, নীতি, তত্ত্ব, দর্শন এবং ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে উন্নয়ন তত্ত্ব‘ বিশ্বকে নতুন দিগন্ত দিয়েছে। যে দিগন্তকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করলে একটি ‘মানবিক রাষ্ট্র’ সম্পর্কিত ধারণা উজ্জ্বল হয়।

প্রায় দুই যুগ ধরে এ দেশের রাজনীতির প্রভাবশালী নিয়ামক শেখ হাসিনার শাসনামলে রাষ্ট্র ও সরকারের পরিধি এবং কার্যাবলি বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণের সুবিধার্থে এবং সমাজ জীবনের পূর্ণতার জন্য রাষ্ট্র স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে সমাজতান্ত্রিক ও অসমাজতান্ত্রিক কার্যাবলি সম্পন্ন করছে।

রাষ্ট্রের এসব জনকল্যাণমূলক কার্যাবলি মানবিক বাংলাদেশের ধারণাকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলার মানুষও মনে করে, দেশমান্য শেখ হাসিনা দেশের গর্ব, দেশিকোত্তম ব্যক্তি, সর্বোত্তম পথনির্দেশক, দেশহিতব্রতী মানবিক শাসক।

এ কারণে বলা যায়, শেখ হাসিনা শুধু মানবিক বিশ্বের বাতিঘর নন, ‘মানবিক রাষ্ট্র’ নামক নতুন শ্রেণির রাষ্ট্রগঠনের মডেল। আগামীতে রাষ্ট্রের শ্রেণিবিভাগে ‘মানবিক রাষ্ট্র’ ধারণার পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বাংলাদেশ হবে সেই মানবিক রাষ্ট্রের আদর্শ রূপ—সে প্রত্যাশা করি।

উন্নয়ন তত্ত্ব ও মানবিক রাষ্ট্ররূপ ছাড়া আরও পড়ুনঃ

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। আমাদের সাইট থেকে কপি হয়না তাই পোস্টটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখতে পারেন।