উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ও করোনা মোকাবেলায় চ্যালেঞ্জ

ফোকাস রাইটিং : ব্লু ইকোনমি
Content Protection by DMCA.com

ফোকাস রাইটিং
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ও করোনা মোকাবেলায় চ্যালেঞ্জ

হাসান হাফিজুর রহমানের একটি কবিতার অংশবিশেষ ছিল এ রকম, ‘এখন রুদ্ধশ্বাসে বলা; কি করে এসেছি এখানে; এসেছি ঠিক, জানি না কিভাবে; জীবন একইসঙ্গে জ্বরতপ্ত আর ঊষর; অপেক্ষাই শুধু; অপেক্ষা কিছু একটার জন্য; অপেক্ষা করলেই সেটা আসবে; তারপর; কিছুই না, আবার অপেক্ষা?’ করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে শেষ হওয়ার অপেক্ষায় পথ গুনছি সবাই। এই লকডাউনে ঢাকার গলিপথে বের হলেই দেখা যায়,

রিকশাওয়ালার অপেক্ষা, হকারদের অপেক্ষা, ছোট্ট তরকারির দোকানদারের অপেক্ষা। করোনা মহামারী শেষের অপেক্ষা। কবে পাব মুক্তি? অপেক্ষায় থাকতে থাকতে শীতকালে মনে হলো শেষ হলো, কিন্তু না। এখন আবার লকডাউন শেষের অপেক্ষা।

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীরা জানেন না বা এখনো বলতে পারেননি কবে শেষ হবে এ মহামারী। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছে। এর ফলে ২০২৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ আধিবেশনে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি মিলবে। এদিকে করোনা মহামারী। কীভাবে হবে এ অবস্থায় উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ? কী হতে পারত আমাদের জন্য করণীয়?

উন্নয়নশীল দেশ হতে শর্ত কী?

কী শর্ত পূরণ করেছি আমরা? প্রধানত, তিনটি মূল শর্ত পূরণ করতে হয় উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য। তিনটি সূচকেই বাংলাদেশ শর্ত পূরণ করে এগিয়ে গেছে। উন্নয়নশীল দেশ হতে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হয় কমপক্ষে ১২৩০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের ২০২০ সালে ছিল ১৮২৭ মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় শর্ত, মানবসম্পদ সূচকে উন্নয়নশীল দেশে হতে লাগে ৬৬ পয়েন্ট।

সেখানে বাংলাদেশ এরই মধ্যে ৭৫.৩ পয়েন্ট অর্জন করেছে। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে কোনো দেশ ৩৬-এর বেশি হলে তাকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা দেয়া হয় না। ৩২-এ আসার পর থেকে নিচের দিকে যত কম হবে তত ভালো। বাংলাদেশের এ পয়েন্ট এখন ২৫.২।

সুতরাং করোনা মহামারীর মধ্যেও এ ধারা ধরে রাখতে হবে। এসব উন্নয়নের কারণেই পৃথিবীর বিখ্যাত ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ষাঁড় উল্লেখ করেছে। কীভাবে এটা সম্ভব হলো? এখানে একটি বড় ভূমিকা রেখেছে আমাদের দেশের মানবসম্পদ। এটাকে অর্থনীতির ভাষায় বলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা বাংলায় জনমিতিক লভ্যাংশ।

জনমিতিক লভ্যাংশ কী?

একটি দেশের মোট কর্মক্ষম জনসংখ্যার পরিমাণ যদি কর্মহীন জনসংখ্যার তুলনায় বেশি হয়, তাহলে এ অবস্থাকে জনমিতিক লভ্যাংশ বলে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে একটি দেশের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ যদি কর্মক্ষম হয় তাহলে দেশটি ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড পাচ্ছে বলে ধরে নেয়া হয়।

জাতিসংঘের জনসংখ্যা উন্নয়ন তহবিলের স্টেট অব ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিপোর্ট অনুসারে, ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের কর্মক্ষম বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে ২০০৭ সালে মোট জনসংখ্যার ৬১ শতাংশ মানুষের বয়স ছিল এই সীমার মধ্যে, যা ২০২০ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৬৮ শতাংশ। কিন্তু জনমিতিক লভ্যাংশের এ সুবিধা মাত্র ২০৩৮ সাল পর্যন্ত বজায় থাকবে এবং তারপর কমতে থাকবে।

সুতরাং এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে না এগিয়ে নিতে পারলে আরো অনেক দিন পিছিয়ে যাব। এর আগে সিঙ্গাপুর বা দক্ষিণ কোরিয়া তাদের এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে গেছে অনেক দূর। কিন্তু নাইজেরিয়া কাজে লাগাতে পারেনি। সুতরাং, ভাবতে হবে কীভাবে করোনা মহামারীর মধ্যেও জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানো এবং উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ধারা ধরে রাখা সম্ভব?

লকডাউন কতটা কার্যকর?

পুরোটা পড়ুন

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ও করোনা মোকাবেলায় চ্যালেঞ্জ ছাড়া আরও পড়ুনঃ

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। আমাদের সাইট থেকে কপি হয়না তাই পোস্টটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখতে পারেন।